Dhaka 10:32 am, Tuesday, 1 September 2026

‘সর্বকালের সেরা, তুমি অমর’

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 01:50:18 am, Tuesday, 1 September 2026
  • / 5 Time View

একদিন থামতেই হতো লিওনেল মেসিকে। সেই দিনটা গতকাল এসেছে।

আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিয়েছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক। বিদায়ী বার্তায় লিখেছেন, ‘সবকিছু নিংড়ে দিয়েছি, আমার আর দেওয়ার বাকি কিছু নেই।’ 

তবে মেসির সঙ্গে একমত নন জাতীয় দলে সদ্য সতীর্থ হওয়া নিকো পাজ। ৩৯ বছর বয়সী প্লে মেকারের বিদায়ে কিছুটা হতাশ উদীয়মান মিডফিল্ডার।

সামাজিক মাধ্যমে ২১ বছর বয়সী কোমোর অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার লিখেছেন, ‘না, লিওওও। তোমার দেওয়ার মতো আরও অনেক বাকি আছে।’ 

জাতীয় দলে মেসির ‘দেহরক্ষী’ হিসেবে পরিচিত রদ্রিগো দি পল। ৮ বারের ব্যালন ডি’অর জয়ীর বিদায়ে ইন্টার মায়ামির মিডফিল্ডার লিখেছেন, ‘দেশের প্রতি তোমার ভালোবাসা, কখনো হার না মানার লড়াই, অবিচার সহ্য করার শক্তি এবং সব খেলোয়াড়ের প্রতি মানবিকতা—সবকিছুর জন্য শুধু ধন্যবাদ।

সর্বকালের সেরা, তুমি কল্পনাও করতে পারবে না আমাদের মুখে কত হাসি ফুটিয়েছ। তুমি অমর।’ 

মেসির অবসরে অনেকটা বাকরুদ্ধ লাওতারো মার্তিনেজ। আর্জেন্টিনা ও ইন্টার মিলানের স্ট্রাইকার লিখেছেন, ‘লিও, তুমি আমাদের জন্য যা করেছ, কৃতজ্ঞতা জানানোর মতো যথেষ্ট শব্দ আমার জানা নেই। মাঠের সব অর্জনের বাইরে আমাদের যা শিখিয়েছ, সারাজীবন মনে রাখব: কখনো হার না মানা, প্রতিটি হোঁচটের পর ঘুরে দাঁড়ানো, নীরবে কাজ করা এবং সবকিছুর ঊর্ধ্বে নিজেদের ওপর সব সময় বিশ্বাস রাখা।

তোমার নেতৃত্ব শুধু গোল, অ্যাসিস্ট বা শিরোপার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এত দিন ধরে জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করার ক্ষেত্রে তুমি আমাদের জন্য যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, সেটিই ছিল আসল…আমরা তোমাকে খুব মিস করব, অধিনায়ক।’ 

মানুষ হিসেবে মেসিকে অসাধারণ ‍উল্লেখ করে লিয়ান্দ্রো পারেদেস লিখেছেন, ‘ভেবেছিলাম, এই খবরের জন্য আমি প্রস্তুত। কিন্তু স্পষ্টতই তা নই। একজন আর্জেন্টাইন, জাতীয় দলের সমর্থক, সতীর্থ এবং বন্ধু হিসেবে তুমি আমার জন্য যা করেছ, তার জন্য অশেষ ধন্যবাদ! তোমার সম্পর্কে বলতে গেলে ভাষা হারিয়ে ফেলি—তোমার অবদান এবং খেলোয়াড় হিসেবে মহানুভবতা, সবার ওপরে একজন মানুষ হিসেবে তুমি অসাধারণ।’

এবারের আগে ২০১৬ সালে হতাশায় অবসর নিয়েছিলেন মেসি। সেই অবসরের মুহূর্ত স্মরণ করে এনজো ফার্নান্দেজ লিখেছেন, ‘লিও, তুমি যখন জাতীয় দল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিলে, তখন ভীষণ কষ্ট পেয়েছিলাম। আমি তখন অল্প বয়সী, তোমার সঙ্গে কখনো এক দলে খেলার সুযোগ পাব কি না সেটা বুঝতে তোমার বয়সের সঙ্গে নিজের বয়স কষতাম। কথাটা বোকার মতো শোনাতে পারে, কিন্তু আমি সত্যিই তা-ই করতাম…ভাগ্য ভালো যে তুমি ফিরে এসেছিলে…আমি শুধু তোমার সঙ্গে খেলার সুযোগই পাইনি; আমরা একসঙ্গে ক্যাম্প করেছি, একই ড্রেসিংরুম ভাগ করেছি, কঠিন সময় পার করেছি, অবিশ্বাস্য সব মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছি এবং শেষ পর্যন্ত আমরা একসঙ্গে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছি।’

মেসিকে ছাড়া আর্জেন্টিনা দল কল্পনা করা কঠিন জানিয়ে চেলসির মিডফিল্ডার ফার্নান্দেজ আরও লিখেছেন, ‘তোমাকে ছাড়া জাতীয় দলের ক্যাম্প কল্পনা করা সত্যিই কঠিন। তোমাকে ১০ নম্বর জার্সি পরতে না দেখাটা—এত বছর ধরে চোখে দেখা বিষয়টি অসম্ভব মনে হয়। ইতিহাসের অংশ হওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য তোমাকে ধন্যবাদ। আমরা তোমাকে খুব মিস করব, অধিনায়ক।’

মেসির আগেই বিদায় নিয়েছেন আনহেল দি মারিয়া। সাবেক উইঙ্গার লিখেছেন, ‘আজ তুমি এমন একটা পদক্ষেপ নিলে, যা নিশ্চিতভাবেই তুমি কিংবা আমরা কোনো আর্জেন্টাইনই কখনো চাইনি চলে আসুক। কিন্তু সেই দিনটি চলেই এলো, আর আজ সারা জীবনের মতো… তোমাকে আবারও অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাচ্ছি সবকিছুর জন্য। তুমি চিরন্তন, চিরঞ্জীব এবং সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ।’

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

‘সর্বকালের সেরা, তুমি অমর’

Update Time : 01:50:18 am, Tuesday, 1 September 2026

একদিন থামতেই হতো লিওনেল মেসিকে। সেই দিনটা গতকাল এসেছে।

আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিয়েছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক। বিদায়ী বার্তায় লিখেছেন, ‘সবকিছু নিংড়ে দিয়েছি, আমার আর দেওয়ার বাকি কিছু নেই।’ 

তবে মেসির সঙ্গে একমত নন জাতীয় দলে সদ্য সতীর্থ হওয়া নিকো পাজ। ৩৯ বছর বয়সী প্লে মেকারের বিদায়ে কিছুটা হতাশ উদীয়মান মিডফিল্ডার।

সামাজিক মাধ্যমে ২১ বছর বয়সী কোমোর অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার লিখেছেন, ‘না, লিওওও। তোমার দেওয়ার মতো আরও অনেক বাকি আছে।’ 

জাতীয় দলে মেসির ‘দেহরক্ষী’ হিসেবে পরিচিত রদ্রিগো দি পল। ৮ বারের ব্যালন ডি’অর জয়ীর বিদায়ে ইন্টার মায়ামির মিডফিল্ডার লিখেছেন, ‘দেশের প্রতি তোমার ভালোবাসা, কখনো হার না মানার লড়াই, অবিচার সহ্য করার শক্তি এবং সব খেলোয়াড়ের প্রতি মানবিকতা—সবকিছুর জন্য শুধু ধন্যবাদ।

সর্বকালের সেরা, তুমি কল্পনাও করতে পারবে না আমাদের মুখে কত হাসি ফুটিয়েছ। তুমি অমর।’ 

মেসির অবসরে অনেকটা বাকরুদ্ধ লাওতারো মার্তিনেজ। আর্জেন্টিনা ও ইন্টার মিলানের স্ট্রাইকার লিখেছেন, ‘লিও, তুমি আমাদের জন্য যা করেছ, কৃতজ্ঞতা জানানোর মতো যথেষ্ট শব্দ আমার জানা নেই। মাঠের সব অর্জনের বাইরে আমাদের যা শিখিয়েছ, সারাজীবন মনে রাখব: কখনো হার না মানা, প্রতিটি হোঁচটের পর ঘুরে দাঁড়ানো, নীরবে কাজ করা এবং সবকিছুর ঊর্ধ্বে নিজেদের ওপর সব সময় বিশ্বাস রাখা।

তোমার নেতৃত্ব শুধু গোল, অ্যাসিস্ট বা শিরোপার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এত দিন ধরে জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করার ক্ষেত্রে তুমি আমাদের জন্য যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, সেটিই ছিল আসল…আমরা তোমাকে খুব মিস করব, অধিনায়ক।’ 

মানুষ হিসেবে মেসিকে অসাধারণ ‍উল্লেখ করে লিয়ান্দ্রো পারেদেস লিখেছেন, ‘ভেবেছিলাম, এই খবরের জন্য আমি প্রস্তুত। কিন্তু স্পষ্টতই তা নই। একজন আর্জেন্টাইন, জাতীয় দলের সমর্থক, সতীর্থ এবং বন্ধু হিসেবে তুমি আমার জন্য যা করেছ, তার জন্য অশেষ ধন্যবাদ! তোমার সম্পর্কে বলতে গেলে ভাষা হারিয়ে ফেলি—তোমার অবদান এবং খেলোয়াড় হিসেবে মহানুভবতা, সবার ওপরে একজন মানুষ হিসেবে তুমি অসাধারণ।’

এবারের আগে ২০১৬ সালে হতাশায় অবসর নিয়েছিলেন মেসি। সেই অবসরের মুহূর্ত স্মরণ করে এনজো ফার্নান্দেজ লিখেছেন, ‘লিও, তুমি যখন জাতীয় দল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিলে, তখন ভীষণ কষ্ট পেয়েছিলাম। আমি তখন অল্প বয়সী, তোমার সঙ্গে কখনো এক দলে খেলার সুযোগ পাব কি না সেটা বুঝতে তোমার বয়সের সঙ্গে নিজের বয়স কষতাম। কথাটা বোকার মতো শোনাতে পারে, কিন্তু আমি সত্যিই তা-ই করতাম…ভাগ্য ভালো যে তুমি ফিরে এসেছিলে…আমি শুধু তোমার সঙ্গে খেলার সুযোগই পাইনি; আমরা একসঙ্গে ক্যাম্প করেছি, একই ড্রেসিংরুম ভাগ করেছি, কঠিন সময় পার করেছি, অবিশ্বাস্য সব মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছি এবং শেষ পর্যন্ত আমরা একসঙ্গে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছি।’

মেসিকে ছাড়া আর্জেন্টিনা দল কল্পনা করা কঠিন জানিয়ে চেলসির মিডফিল্ডার ফার্নান্দেজ আরও লিখেছেন, ‘তোমাকে ছাড়া জাতীয় দলের ক্যাম্প কল্পনা করা সত্যিই কঠিন। তোমাকে ১০ নম্বর জার্সি পরতে না দেখাটা—এত বছর ধরে চোখে দেখা বিষয়টি অসম্ভব মনে হয়। ইতিহাসের অংশ হওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য তোমাকে ধন্যবাদ। আমরা তোমাকে খুব মিস করব, অধিনায়ক।’

মেসির আগেই বিদায় নিয়েছেন আনহেল দি মারিয়া। সাবেক উইঙ্গার লিখেছেন, ‘আজ তুমি এমন একটা পদক্ষেপ নিলে, যা নিশ্চিতভাবেই তুমি কিংবা আমরা কোনো আর্জেন্টাইনই কখনো চাইনি চলে আসুক। কিন্তু সেই দিনটি চলেই এলো, আর আজ সারা জীবনের মতো… তোমাকে আবারও অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাচ্ছি সবকিছুর জন্য। তুমি চিরন্তন, চিরঞ্জীব এবং সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ।’