Dhaka 3:18 pm, Saturday, 17 October 2026
সর্বশেষ
বসুন্ধরা গ্রুপের সেলাই মেশিনে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ১০০ নারীর নতুন-পুরোনো গাড়ি থেকে আধুনিক প্রযুক্তি, জমজমাট আইসিসিবি দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের কার্যক্রম চালু থাকবে আজ মেরিটাইম প্রদর্শনী ও সুপার সেল কার বাজারে জমজমাট আইসিসিবি শারদীয় আমেজে মুগ্ধতা ছড়ালেন জয়া ফ্রান্সে বিক্ষোভ অব্যাহত, প্যারিসে গ্রেপ্তার ১,২৬০ সিআইসিএ সম্মেলনে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের বক্তব্য চলাকালে বাংলাদেশের ওয়াকআউট পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর দুর্গাপূজার আগে ৩৪ স্থানে হামলা ও প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগ বিদেশি কম্পানিকে কনটেইনার টার্মিনাল লিজের সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী : বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি

এবার ব্রেন সার্জারিতে এআই, দৃষ্টি ফিরে পেলেন ৪৮ বছরের ব্যক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 01:30:09 pm, Friday, 28 August 2026
  • / 51 Time View

মস্তিষ্কের জটিল অস্ত্রোপচারে চিকিৎসকদের সহায়তা করল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। প্রথমবারের মতো জীবিত একজন রোগীর ব্রেন সার্জারিতে লাইভ সহায়তা দিয়েছে এই প্রযুক্তি।

আর অস্ত্রোপচারের পর দৃষ্টিশক্তিও ফিরে পেয়েছেন ৪৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। 

ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।

রোগীর নাম রাইস হিবার্ট। তিনি যুক্তরাজ্যের বেডফোর্ডশায়ারের বাসিন্দা।

তার মস্তিষ্কের পিটুইটারি গ্রন্থিতে ১১ মিলিমিটার আকারের একটি টিউমার ধরা পড়ে। 

টিউমারটি ছিল চোখের দৃষ্টির সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ স্নায়ুর খুব কাছে। ফলে অস্ত্রোপচারটি ছিল বেশ ঝুঁকিপূর্ণ।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে হাঁটার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে যান রাইস।

পরে পরীক্ষায় ধরা পড়ে টিউমারটি। ধীরে ধীরে তাঁর দৃষ্টিশক্তিও কমতে শুরু করে। 

একপর্যায়ে হাঁটার সময় বারবার হোঁচট খেতেন তিনি। এমনকি নিচের দিকের দৃশ্যও ঠিকমতো দেখতে পারতেন না।

অবশেষে লন্ডনের ন্যাশনাল হসপিটাল ফর নিউরোলজি অ্যান্ড নিউরোসার্জারিতে তাঁর অস্ত্রোপচার করা হয়।

এই অস্ত্রোপচারেই প্রথমবার ব্যবহার করা হয় লাইভ এআই সহায়তা। 

অস্ত্রোপচারের সময় ক্যামেরার মাধ্যমে শরীরের ভেতরের দৃশ্য দেখা হচ্ছিল। সেই লাইভ ভিডিও বিশ্লেষণ করে এআই গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালি, স্নায়ু ও অন্যান্য অংশ শনাক্ত করতে সাহায্য করে।

ফলে কোন জায়গায় বেশি সতর্ক থাকতে হবে, তা চিকিৎসকেরা দ্রুত বুঝতে পারেন।

তবে অস্ত্রোপচারের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি চিকিৎসকদের হাতেই ছিল। এআই শুধু প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে তাদের সহায়তা করেছে। অস্ত্রোপচারের পরই রাইসের দৃষ্টিশক্তির উন্নতি দেখা যায়। জ্ঞান ফেরার পর তিনি ঘরের সবকিছু পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছিলেন।

মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে চশমা বা হাঁটার লাঠি ছাড়াই হাঁটতে শুরু করেন তিনি।

রাইস জানান, এক বছরের বেশি সময় পর তিনি আবার চারপাশের দৃশ্য আগের মতো দেখতে পাচ্ছেন। তার কাছে বিষয়টি অনেকটা চারপাশে আরও বিস্তৃতভাবে দেখতে পাওয়ার মতো মনে হয়েছে।

এই এআই প্রযুক্তি তৈরি করেছেন ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের গবেষকেরা। বিভিন্ন অস্ত্রোপচারের ভিডিও ব্যবহার করে প্রযুক্তিটিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

গবেষকরা ধারণা করছেন, ভবিষ্যতে মস্তিষ্কের মতো সংবেদনশীল অঙ্গের জটিল অস্ত্রোপচারে এআই  চিকিৎসকদের আরো ভালোভাবে সহায়তা করতে পারবে। 

এখন প্রযুক্তিটির আরও বড় পরিসরে পরীক্ষা চালানোর প্রস্তুতি চলছে। সফল হলে চিকিৎসাক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের নতুন একটি অধ্যায় শুরু হতে পারে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

এবার ব্রেন সার্জারিতে এআই, দৃষ্টি ফিরে পেলেন ৪৮ বছরের ব্যক্তি

Update Time : 01:30:09 pm, Friday, 28 August 2026

মস্তিষ্কের জটিল অস্ত্রোপচারে চিকিৎসকদের সহায়তা করল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। প্রথমবারের মতো জীবিত একজন রোগীর ব্রেন সার্জারিতে লাইভ সহায়তা দিয়েছে এই প্রযুক্তি।

আর অস্ত্রোপচারের পর দৃষ্টিশক্তিও ফিরে পেয়েছেন ৪৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। 

ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।

রোগীর নাম রাইস হিবার্ট। তিনি যুক্তরাজ্যের বেডফোর্ডশায়ারের বাসিন্দা।

তার মস্তিষ্কের পিটুইটারি গ্রন্থিতে ১১ মিলিমিটার আকারের একটি টিউমার ধরা পড়ে। 

টিউমারটি ছিল চোখের দৃষ্টির সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ স্নায়ুর খুব কাছে। ফলে অস্ত্রোপচারটি ছিল বেশ ঝুঁকিপূর্ণ।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে হাঁটার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে যান রাইস।

পরে পরীক্ষায় ধরা পড়ে টিউমারটি। ধীরে ধীরে তাঁর দৃষ্টিশক্তিও কমতে শুরু করে। 

একপর্যায়ে হাঁটার সময় বারবার হোঁচট খেতেন তিনি। এমনকি নিচের দিকের দৃশ্যও ঠিকমতো দেখতে পারতেন না।

অবশেষে লন্ডনের ন্যাশনাল হসপিটাল ফর নিউরোলজি অ্যান্ড নিউরোসার্জারিতে তাঁর অস্ত্রোপচার করা হয়।

এই অস্ত্রোপচারেই প্রথমবার ব্যবহার করা হয় লাইভ এআই সহায়তা। 

অস্ত্রোপচারের সময় ক্যামেরার মাধ্যমে শরীরের ভেতরের দৃশ্য দেখা হচ্ছিল। সেই লাইভ ভিডিও বিশ্লেষণ করে এআই গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালি, স্নায়ু ও অন্যান্য অংশ শনাক্ত করতে সাহায্য করে।

ফলে কোন জায়গায় বেশি সতর্ক থাকতে হবে, তা চিকিৎসকেরা দ্রুত বুঝতে পারেন।

তবে অস্ত্রোপচারের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি চিকিৎসকদের হাতেই ছিল। এআই শুধু প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে তাদের সহায়তা করেছে। অস্ত্রোপচারের পরই রাইসের দৃষ্টিশক্তির উন্নতি দেখা যায়। জ্ঞান ফেরার পর তিনি ঘরের সবকিছু পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছিলেন।

মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে চশমা বা হাঁটার লাঠি ছাড়াই হাঁটতে শুরু করেন তিনি।

রাইস জানান, এক বছরের বেশি সময় পর তিনি আবার চারপাশের দৃশ্য আগের মতো দেখতে পাচ্ছেন। তার কাছে বিষয়টি অনেকটা চারপাশে আরও বিস্তৃতভাবে দেখতে পাওয়ার মতো মনে হয়েছে।

এই এআই প্রযুক্তি তৈরি করেছেন ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের গবেষকেরা। বিভিন্ন অস্ত্রোপচারের ভিডিও ব্যবহার করে প্রযুক্তিটিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

গবেষকরা ধারণা করছেন, ভবিষ্যতে মস্তিষ্কের মতো সংবেদনশীল অঙ্গের জটিল অস্ত্রোপচারে এআই  চিকিৎসকদের আরো ভালোভাবে সহায়তা করতে পারবে। 

এখন প্রযুক্তিটির আরও বড় পরিসরে পরীক্ষা চালানোর প্রস্তুতি চলছে। সফল হলে চিকিৎসাক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের নতুন একটি অধ্যায় শুরু হতে পারে।