ভূমিধসে ২ নদীর গতিপথ বন্ধ, নেপাল-তিব্বত সীমান্তে নতুন হ্রদ, সতর্কবার্তা চীনের
- Update Time : 03:19:43 pm, Thursday, 27 August 2026
- / 6 Time View
নেপাল এবং তিব্বতের সীমান্তে আকস্মিক বন্যা কারণে বন্ধ হয়েছে ছোছেন খোলা এবং পুরেপু সাংপো নদীর গতিপথ। আর বুধবারের আকস্মিক প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে সেখানে রাতারাতি সৃষ্টি হয়েছে বিশাল এক হ্রদের।
জমে যাওয়া পানির চাপে বাঁধ ভেঙে গেলে নতুন করে ঢল নামতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে চীন। বৃহস্পতিবার চীনের সরকারি সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসে এই তথ্য জানায়।
বেইজিংয়ে জারি করা সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, হিমালয়ের বরফগলা পানি দুই নদীর মিলিতস্থলে প্রবাহ গতিরুদ্ধ হওয়ায় আগামী তিন দিনে নতুন তৈরি হওয়া হ্রদে ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি জমা হতে পারে। এই বিপুল জলরাশির চাপে পাথর-মাটির বাধা চুরমার হয়ে গেলে প্রাণঘাতী জলস্রোত সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ছোছেন খোলা ও পুরুপে সাংপোর উৎপত্তি তিব্বতে। নেপালে প্রবেশের ঠিক আগে মিলিত হয়। এরপর তাদের মিলিত প্রবাহ ভোটেকোশী নদ দিয়ে নেপালে প্রবেশ করে। ভোটেকোশী হলো ত্রিশূলী নদীর প্রধান উপনদী।
কলকাতাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়, এখনো পর্যন্ত নতুন তৈরি হওয়া ওই হ্রদে প্রায় ২০ লাখ ঘনমিটার পানি জমা হয়েছে বলে চীনের পানিসম্পদ উন্নয়ন দপ্তর জানিয়েছে কাঠমাণ্ডুকে।
পাহাড়ি ঢাল বেয়ে বিপুল পরিমাণ জলরাশি আছড়ে পড়লে নেপালের তরাই অঞ্চলের পাশাপাশি বিহার ও পূর্ব উত্তর প্রদেশেও তার প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে ভূবিজ্ঞানীদের একাংশ মনে করছেন।
প্রসঙ্গত, ভূবিজ্ঞানীদের একাংশ প্রাথমিক পর্যবেক্ষণের পরে জানিয়েছেন, বুধবার সকালে তুষারধসের জেরে পাথর ও বরফের স্তূপে অবরুদ্ধ হয়েছিল লেহন্দে নদীর গতিপথ। জমে যাওয়া জলের চাপে হঠাৎই সেই স্তূপ ভেঙে যায়। ফলে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়।
কাঠমাণ্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূবিজ্ঞানের অধ্যাপক রিজন ভক্ত কায়স্থ জানিয়েছেন, লেহন্দে নদীর প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে জমা পানি পাথর সরিয়ে ভোটেকোশীতে পড়ে বিপর্যয় ঘটায়। পাশাপাশি, হিমালয়ের বরফ গলে তৈরি হওয়া কোনো ছোট হ্রদ বা জলাশয়ের পাড় ভেঙে হুট করে প্রচুর পানি নেমে এসেছিল বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সে সময়ই ভূমিধসের কারণে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে নতুন হ্রদটি সৃষ্টি হয়।
বুধবারের বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫৯ জনে দাঁড়িয়েছে। প্রায় ৩০০ ভারতীয়সহ নিখোঁজ প্রায় ৭০০ জন। অন্যদিকে, তিব্বতেও ২শর বেশি মৃত্যুর খবর জানিয়েছে চীন সরকার। তিব্বতে আটকে পড়েছেন প্রায় ২০০ ভারতীয় তীর্থযাত্রী ও পর্যটক। তিব্বতে নিখোঁজ অন্তত ৫৫৮ জন।









