Dhaka 6:47 pm, Monday, 14 September 2026

প্রশান্ত মহাসাগরের বিশাল স্বর্ণখনির সন্ধান পেল চীন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 11:20:03 am, Monday, 14 September 2026
  • / 3 Time View

প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ ও রুপার মজুতের সন্ধান পেয়েছেন চীনা বিজ্ঞানীরা। গবেষকদের মতে, সমুদ্রের তলদেশে এত বেশি পরিমাণে স্বর্ণ ও রুপা একসঙ্গে পাওয়া খুবই বিরল।

চীনের সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়, চিংদাও ইনস্টিটিউট অব মেরিন জিওলজি এবং সাংহাই জিয়াও টং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা যৌথভাবে এই অনুসন্ধান চালান। সমুদ্রতলের একটি হাইড্রোথার্মাল এলাকায় তারা স্বর্ণ ও রুপার মজুতের সন্ধান পান। 

হাইড্রোথার্মাল এলাকায় ভূগর্ভ থেকে অত্যন্ত গরম ও খনিজসমৃদ্ধ তরল সমুদ্রতলের ফাটল দিয়ে বের হয়ে আসে। দীর্ঘ সময় ধরে এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেখানে বিভিন্ন খনিজ জমা হয়।

গবেষকরা সমুদ্রের তলদেশে শঙ্কুর মতো আকৃতির তিনটি বড় খনিজ স্তর খুঁজে পেয়েছেন। এগুলোকে হাইড্রোথার্মাল সালফাইড স্তর বলা হয়। সাধারণত এসব স্তরে তামা, দস্তা ও সিসার পাশাপাশি সামান্য পরিমাণ স্বর্ণ ও রুপা থাকে। 

তবে এবারের পাওয়া নমুনায় স্বর্ণ ও রুপার পরিমাণ তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি।

গবেষকদের কয়েকটি নমুনায় স্থলভাগের স্বর্ণ ও রুপার আকরিকের চেয়েও বেশি ঘনত্ব পাওয়া গেছে। গবেষকদের ধারণা, ওই এলাকায় থাকা খনিজ সম্পদের অর্থনৈতিক মূল্য অনেক বেশি হতে পারে। ভবিষ্যতে এসব সম্পদ উত্তোলনের সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে সমুদ্রের গভীর তলদেশ থেকে খনিজ উত্তোলন নিয়ে পরিবেশগত নানা উদ্বেগ ও বিতর্ক রয়েছে। 

প্রাথমিক গবেষণায় সমুদ্রতলের একটি বিশাল খনিজ এলাকায় স্বর্ণ ও রুপার উল্লেখযোগ্য মজুতের সন্ধান পাওয়া গেছে।

গবেষকদের মতে, ওই এলাকায় থাকা খনিজের অর্থনৈতিক মূল্য অত্যন্ত বেশি। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি মার্কিন শর্ট টন আকরিতে সর্বোচ্চ ০.৪৫ ট্রয় আউন্স স্বর্ণ এবং ৩৬.৩ ট্রয় আউন্স রুপা রয়েছে। কিছু নমুনায় প্রতি টন আকরিতে স্বর্ণের পরিমাণ ১৫.৪ গ্রাম এবং রুপা ১ হাজার ২৭১ গ্রাম পর্যন্ত পাওয়া গেছে। 

গবেষণা দলের অন্যতম প্রধান বিজ্ঞানী সং শিজি বলেন, বিশাল এই সমুদ্রতলীয় খনিজ এলাকায় ‘অত্যন্ত উচ্চ অর্থনৈতিক মূল্য’ রয়েছে। গবেষকদের ধারণা, ওই অঞ্চলে থাকা বহু ধাতব সালফাইডের সম্ভাব্য মজুত বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রতলীয় খনিজ মজুতগুলোর সমপর্যায়ের হতে পারে।

গত ১০ আগস্ট চীনের শেনজেন থেকে গবেষণা জাহাজ ‘শিয়াং ইয়াং হং ১০’-এ করে ১৮ দিনের অভিযান শুরু করেন গবেষকরা। অভিযানের সময় সাবমার্সিবল ব্যবহার করে তারা সাতবার সমুদ্রতলে ডুব দেন। পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের একটি ব্যাক-আর্ক বেসিনে পরিচালিত এই অভিযানে গবেষকরা বিশাল হাইড্রোথার্মাল খনিজ এলাকার সন্ধান পান।

সামুদ্রিক চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানের সময় গবেষণা জাহাজটি তাইওয়ানের উত্তর ও পূর্বাঞ্চল এবং ফিলিপাইনের উত্তরের জলসীমা দিয়ে চলাচল করে। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, খনিজের সন্ধান পাওয়া বেসিনটি চীনের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে অবস্থিত। তবে ওই এলাকার সুনির্দিষ্ট স্থানাঙ্ক এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

প্রশান্ত মহাসাগরের বিশাল স্বর্ণখনির সন্ধান পেল চীন

Update Time : 11:20:03 am, Monday, 14 September 2026

প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ ও রুপার মজুতের সন্ধান পেয়েছেন চীনা বিজ্ঞানীরা। গবেষকদের মতে, সমুদ্রের তলদেশে এত বেশি পরিমাণে স্বর্ণ ও রুপা একসঙ্গে পাওয়া খুবই বিরল।

চীনের সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়, চিংদাও ইনস্টিটিউট অব মেরিন জিওলজি এবং সাংহাই জিয়াও টং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা যৌথভাবে এই অনুসন্ধান চালান। সমুদ্রতলের একটি হাইড্রোথার্মাল এলাকায় তারা স্বর্ণ ও রুপার মজুতের সন্ধান পান। 

হাইড্রোথার্মাল এলাকায় ভূগর্ভ থেকে অত্যন্ত গরম ও খনিজসমৃদ্ধ তরল সমুদ্রতলের ফাটল দিয়ে বের হয়ে আসে। দীর্ঘ সময় ধরে এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেখানে বিভিন্ন খনিজ জমা হয়।

গবেষকরা সমুদ্রের তলদেশে শঙ্কুর মতো আকৃতির তিনটি বড় খনিজ স্তর খুঁজে পেয়েছেন। এগুলোকে হাইড্রোথার্মাল সালফাইড স্তর বলা হয়। সাধারণত এসব স্তরে তামা, দস্তা ও সিসার পাশাপাশি সামান্য পরিমাণ স্বর্ণ ও রুপা থাকে। 

তবে এবারের পাওয়া নমুনায় স্বর্ণ ও রুপার পরিমাণ তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি।

গবেষকদের কয়েকটি নমুনায় স্থলভাগের স্বর্ণ ও রুপার আকরিকের চেয়েও বেশি ঘনত্ব পাওয়া গেছে। গবেষকদের ধারণা, ওই এলাকায় থাকা খনিজ সম্পদের অর্থনৈতিক মূল্য অনেক বেশি হতে পারে। ভবিষ্যতে এসব সম্পদ উত্তোলনের সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে সমুদ্রের গভীর তলদেশ থেকে খনিজ উত্তোলন নিয়ে পরিবেশগত নানা উদ্বেগ ও বিতর্ক রয়েছে। 

প্রাথমিক গবেষণায় সমুদ্রতলের একটি বিশাল খনিজ এলাকায় স্বর্ণ ও রুপার উল্লেখযোগ্য মজুতের সন্ধান পাওয়া গেছে।

গবেষকদের মতে, ওই এলাকায় থাকা খনিজের অর্থনৈতিক মূল্য অত্যন্ত বেশি। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি মার্কিন শর্ট টন আকরিতে সর্বোচ্চ ০.৪৫ ট্রয় আউন্স স্বর্ণ এবং ৩৬.৩ ট্রয় আউন্স রুপা রয়েছে। কিছু নমুনায় প্রতি টন আকরিতে স্বর্ণের পরিমাণ ১৫.৪ গ্রাম এবং রুপা ১ হাজার ২৭১ গ্রাম পর্যন্ত পাওয়া গেছে। 

গবেষণা দলের অন্যতম প্রধান বিজ্ঞানী সং শিজি বলেন, বিশাল এই সমুদ্রতলীয় খনিজ এলাকায় ‘অত্যন্ত উচ্চ অর্থনৈতিক মূল্য’ রয়েছে। গবেষকদের ধারণা, ওই অঞ্চলে থাকা বহু ধাতব সালফাইডের সম্ভাব্য মজুত বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রতলীয় খনিজ মজুতগুলোর সমপর্যায়ের হতে পারে।

গত ১০ আগস্ট চীনের শেনজেন থেকে গবেষণা জাহাজ ‘শিয়াং ইয়াং হং ১০’-এ করে ১৮ দিনের অভিযান শুরু করেন গবেষকরা। অভিযানের সময় সাবমার্সিবল ব্যবহার করে তারা সাতবার সমুদ্রতলে ডুব দেন। পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের একটি ব্যাক-আর্ক বেসিনে পরিচালিত এই অভিযানে গবেষকরা বিশাল হাইড্রোথার্মাল খনিজ এলাকার সন্ধান পান।

সামুদ্রিক চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানের সময় গবেষণা জাহাজটি তাইওয়ানের উত্তর ও পূর্বাঞ্চল এবং ফিলিপাইনের উত্তরের জলসীমা দিয়ে চলাচল করে। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, খনিজের সন্ধান পাওয়া বেসিনটি চীনের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে অবস্থিত। তবে ওই এলাকার সুনির্দিষ্ট স্থানাঙ্ক এখনো প্রকাশ করা হয়নি।