ইউক্রেনকে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের হাতে
- Update Time : 12:33:56 pm, Saturday, 1 November 2025
- / 67 Time View
ইউক্রেনকে দীর্ঘপাল্লার টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র দেওয়ার বিষয়ে সবুজ সংকেত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন)। তবে চূড়ান্ত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনজন মার্কিন ও ইউরোপীয় কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সিএনএন এ খবর জানিয়েছে।
পেন্টাগনের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, এই ক্ষেপণাস্ত্র দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের মজুদে কোনো ঘাটতি তৈরি হবে না। তবে ট্রাম্প এর আগেই জানিয়েছেন, তিনি ইউক্রেনকে টমাহক দিতে আগ্রহী নন। হোয়াইট হাউসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি বলেন, ‘আমরা এমন কিছু দিতে চাই না যা আমাদের নিজেদের নিরাপত্তার জন্য দরকার।’
তানজানিয়ায় নির্বাচনের পর নিরাপত্তা বাহিনীর বিক্ষোভ দমনে শতাধিক নিহত
জেলেনস্কি রাশিয়ার তেল ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানার জন্য এই ক্ষেপণাস্ত্র চেয়ে আসছেন। টমাহকের পাল্লা প্রায় এক হাজার মাইল।
ইউরোপীয় দেশগুলো মনে করছে, পেন্টাগনের এই অনুমোদনের পর যুক্তরাষ্ট্রের আর না দেওয়ার অজুহাত নেই। তবে ট্রাম্পের অবস্থান আচমকা বদলে যায়। জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের আগে তিনি বলেন, ‘আমাদের অনেক টমাহক আছে, চাইলে দেওয়া সম্ভব।’ কিন্তু পরে বৈঠকে বলেন, ‘আমাদের দেশেই এগুলোর প্রয়োজন।’ পরে ব্যক্তিগত আলোচনায় তিনি জেলেনস্কিকে জানান, আপাতত এই ক্ষেপণাস্ত্র দেওয়া হবে না।
ট্রাম্প এই সিদ্ধান্ত নেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলার পরদিন। পুতিন বলেন, টমাহক রাশিয়ার বড় শহরগুলো, যেমন মস্কো ও সেন্ট পিটার্সবার্গে আঘাত হানতে পারে, যা যুদ্ধক্ষেত্রে তেমন প্রভাব না ফেললেও যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া সম্পর্কের ক্ষতি করবে।
যদিও ট্রাম্প এখনও এই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি বাতিল করেননি। হোয়াইট হাউসের সূত্র জানায়, তিনি অনুমতি দিলেই দ্রুত ক্ষেপণাস্ত্র পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া আছে। পুতিনের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় ট্রাম্প সম্প্রতি রাশিয়ার তেল কোম্পানির ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন এবং বুদাপেস্টে নির্ধারিত বৈঠকও স্থগিত করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্র এখন ভাবছে, ইউক্রেন কীভাবে এসব ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করবে। টমাহক সাধারণত জাহাজ বা সাবমেরিন থেকে নিক্ষেপ করা হয়, কিন্তু ইউক্রেনের নৌবাহিনী প্রায় অকার্যকর। তাই স্থলভিত্তিক লঞ্চার সরবরাহের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র।
ইউরোপীয় কর্মকর্তারা মনে করেন, ইউক্রেন চাইলেই বিকল্প উপায় খুঁজে নিতে পারবে। যেমনটি তারা আগেই করেছে যুক্তরাজ্যের দেওয়া স্টর্ম শ্যাডো ক্ষেপণাস্ত্রের ক্ষেত্রে, যা সোভিয়েত যুগের যুদ্ধবিমানে ব্যবহার উপযোগী করে তুলেছিল।
জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে বলেন, ইউক্রেন বছরের শেষ নাগাদ নিজেদের দীর্ঘপাল্লার হামলাশক্তি বাড়াতে চায়, যাতে যুদ্ধ ন্যায্য শর্তে শেষ করা যায়। জেলেনস্কি আরও বলেন, ‘আমাদের নির্ভুল আঘাত এবং বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞা একসঙ্গে কাজ করছে। যুদ্ধ যেন ইউক্রেনের ন্যায্য শর্তে শেষ হয়, সেজন্য বছরের শেষ নাগাদ আমাদের সব দীর্ঘপাল্লার লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে।’











