Dhaka 9:23 pm, Saturday, 26 September 2026
সর্বশেষ
পশ্চিম তীরে পরীক্ষার মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসরায়েলি অভিযান তরুণদের পরিবেশবান্ধব উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার তাগিদ পে-অর্ডারের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে টাকার পরিমাণ সাড়ে ২৬ লাখ দেশের মাটিতে ফ্যাসিবাদী অপশক্তিকে আর রাজনীতির সুযোগ নয় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজধানীর বহুতল ভবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে মিছিলের প্রস্তুতিকালে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ১৩ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার ‘বুকের পাটা থাকলে এখনি আসেন, ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চাই না’ একাধিক মামলার আসামি ‘মোবাইল মনির’ গ্রেপ্তার প্রাথমিকের নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের যে আশ্বাস দিলেন শিক্ষামন্ত্রী ফ্রিতে ২ লাখ টাকার আইটি প্রশিক্ষণ, কোর্স শেষে চাকরির সুযোগ, আবেদন অনলাইনে

পে-অর্ডারের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে টাকার পরিমাণ সাড়ে ২৬ লাখ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 01:45:02 pm, Saturday, 26 September 2026
  • / 4 Time View

জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে এনআরবিসি ব্যাংক পিএলসির এক সাবেক শাখা ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে তিন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জমা দেওয়া সাড়ে ২৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। 

অভিযুক্ত ওই সাবেক শাখা ব্যবস্থাপকের নাম মো. আহসান হাবিব।

অন্য হিসাব নম্বরে স্থানান্তরের মাধ্যমে ওই টাকা তুলে তিনি তা আর ফেরত দেননি বলে জানা গেছে।  

ঠিকাদারদের দাবি, কাজ শেষ করে পৌরসভার ছাড়পত্র নেওয়ার পরও তাদের জামানতের টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি। 

ঠিকাদাররা বলছেন, ব্যাংকের লেনদেনের তথ্য যাচাই করে তারা দেখতে পান, তাদের জমা দেওয়া অর্থ সাবেক শাখা ব্যবস্থাপকের নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান মেসার্স ফকির করপোরেশনের হিসাব নম্বরে স্থানান্তর করা হয়েছে। পরে ওই হিসাব থেকে দুটি চেকের মাধ্যমে ১৫ লাখ ৮১ হাজার ৫০০ টাকা তোলা হয় বলে তারা অভিযোগ করেন।

ঠিকাদারদের অভিযোগ ও নথিপত্র অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০২৫ সালের ৫ মে কালাই পৌরসভার উন্নয়নকাজের টেন্ডার সিকিউরিটি ওপারফরমেন্স সিকিউরিটি বাবদ তিন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে পাঁচটি টেন্ডার আইডির বিপরীতে এনআরবিসি ব্যাংক ক্ষেতলাল উপশাখায় অর্থ জমা দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো  মেসার্স রুবিনা কনস্ট্রাকশন, মেসার্স আব্দুল্লাহ জুনায়েদ ট্রেডার্স ও তুলসীগঙ্গা ট্রেডার্স। 

ব্যাংকের ঋণ সুবিধাসহ পাঁচটি আইডিতে ছিল মোট ৪৩ লাখ ৩৬ হাজার ৩১০ টাকা। ঠিকাদারদের পৃথক নিজস্ব অর্থ জমা ছিল ১৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

এর মধ্যে রুবিনা কনস্ট্রাকশনের আইডির বিপরীতে প্রয়োজন ছিল যথাক্রমে ১৩ লাখ ৫৪ হাজার ও ছয় লাখ ৩১ হাজার টাকা। প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব জমা ছিল আট লাখ ২০ হাজার টাকা।  

আব্দুল্লাহ জুনায়েদ ট্রেডার্সের আইডির বিপরীতে প্রয়োজন ছিল ৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা। ওই আইডিতে জমা ছিল চার লাখ ৬০ হাজার টাকা। আর তুলসীগঙ্গা ট্রেডার্সের আইডির বিপরীতে প্রয়োজন ছিল যথাক্রমে ১১ লাখ ২০ হাজার ১০ ও দুই লাখ ৪১ হাজার ৩০০ টাকা।

ওই দুই আইডিতে জমা ছিল পাঁচ লাখ ৬০ হাজার টাকা। 

নথি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০২৫ সালের ৭ মে কালাই পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলীর নামে পাঁচটি পে-অর্ডার ইস্যু করা হয়। ঠিকাদারদের দাবি, কালাই পৌরসভার প্রকৌশলী পে-অর্ডারগুলো নেওয়ার পর তারা কাজ করার অনুমতি পান। কাজ শেষ করে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্রও নেন।

অভিযোগকারীদের দেওয়া লেনদেনের তথ্য অনুযায়ী, পে-অর্ডার ইস্যুর পাঁচ দিন পর ২০২৫ সালের ১২ মে তাদের জমা অর্থ থেকে তখনকার শাখা ব্যবস্থাপক আহসান হাবিব একই দিনে দুইটি চেকে যথাক্রমে ৯ লাখ ৫৯ হাজার ৬৭৫ টাকা এবং ছয় লাখ ২১ হাজার ৮২৫ টাকা তুলে নিজস্ব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান মেসার্স ফকির করপোরেশনের হিসাব নম্বরে স্থানান্তর করা হয়। 

এদিকে মেসার্স আব্দুল্লাহ জুনায়েদ ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. তহিদুল বারী শেখের পক্ষ থেকেও পারফরমেন্স সিকিউরিটি বাবদ জমা আট লাখ ১০ হাজার টাকা ফেরত না পাওয়ার পৃথক অভিযোগ রয়েছে। তার আবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের নভেম্বরে ই-জিপি টেন্ডার সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে তার প্রতিষ্ঠান কালাই পৌরসভা থেকে নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড (এনওএ) পায়। 

২০২৪ সালের ১৩ নভেম্বর নগদ আট লাখ ১০ হাজার টাকা দিয়ে এনআরবিসি ব্যাংকের ক্ষেতলাল উপশাখা থেকে পে-অর্ডার করা হয়। এরপর ব্যাংক থেকেই পে-অর্ডারটি ই-জিপি সিস্টেমে আপলোড করা হয়।

তিন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ১৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা ফেরত চেয়ে ২০২৬ সালের ২৬ আগস্ট এনআরবিসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়। আবেদনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করার কথা উল্লেখ রয়েছে। 

মেসার্স রুবিনা কনস্ট্রাকশনের কর্ণধার রেজাউল ইসলাম বলেন, আমরা ব্যাংকের ওপর আস্থা রেখে নিরাপত্তা জামানতের টাকা জমা দিয়েছি। কাজ শেষে পৌরসভার ছাড়পত্র নেওয়ার পর আমাদের টাকা ফেরত পাওয়ার কথা। কিন্তু তারা আমাদের টাকা আটকে রাখা হয়েছে। এখন ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের একটাই দাবি,আমাদের জমাকৃত টাকা সম্পূর্ণ ফেরত দেওয়া হোক।

একই দাবি করেন আব্দুল্লাহ জুনায়েদ ট্রেডার্সের কর্ণধার মো. তহিদুল বারী শেখ ও তুলসীগঙ্গা ট্রেডার্সের কর্ণধার ওয়াশিম আকরাম চঞ্চল। 

তবে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে এনআরবিসি ব্যাংক ক্ষেতলালের সাবেক উপশাখা ব্যবস্থাপক মো. আহসান হাবিব বলেন, কালাই পৌরসভার সঙ্গে আমার সুসম্পর্কের কারণে সংশ্লিষ্ট লেনদেনের ক্ষেত্রে দাপ্তরিকপ্রক্রিয়া অনুসরণে একটি ভুল হয়েছিল। তবে সেই ভুল সংশোধনের আগেই আমাকে ওএসডি করে ব্যাংকের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়। 

এ কারণে অভিযোগকারীদের টাকা ফেরতের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারেননি বলে দাবি আহসান হাবিবের। কোনো অর্থ আত্মসাৎ করেননি বলেও দাবি করেন তিনি।

এনআরবিসি ব্যাংকের ক্ষেতলাল উপশাখার ব্যবস্থাপক মো. আব্দুল কাইয়ুম প্রথমে সাংবাদিকদের পরিচয়পত্র দেখতে চান। পরে তিনি বলেন, অভিযোগকারীদের ঘটনার সবকিছুই জানি,তবে আপনারা আমার গ্রাহক নন,বাংলাদেশ ব্যাংক বা বিএফআইইউ এবং দুদকের কেউ নন। সেজন্য কোনো তথ্য দিতে আমি বাধ্য নই। 

আব্দুল কাইয়ুম আরো বলেন, আপনারা বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে আসেন, তখন বিষয়টি ভেবে দেখব।  তিনি তার বড় ভাই ‘ঢাকার প্রেসক্লাব’ নিয়ন্ত্রণ করেন বলে দাবি করে মূল বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

পে-অর্ডারের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে টাকার পরিমাণ সাড়ে ২৬ লাখ

Update Time : 01:45:02 pm, Saturday, 26 September 2026

জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে এনআরবিসি ব্যাংক পিএলসির এক সাবেক শাখা ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে তিন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জমা দেওয়া সাড়ে ২৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। 

অভিযুক্ত ওই সাবেক শাখা ব্যবস্থাপকের নাম মো. আহসান হাবিব।

অন্য হিসাব নম্বরে স্থানান্তরের মাধ্যমে ওই টাকা তুলে তিনি তা আর ফেরত দেননি বলে জানা গেছে।  

ঠিকাদারদের দাবি, কাজ শেষ করে পৌরসভার ছাড়পত্র নেওয়ার পরও তাদের জামানতের টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি। 

ঠিকাদাররা বলছেন, ব্যাংকের লেনদেনের তথ্য যাচাই করে তারা দেখতে পান, তাদের জমা দেওয়া অর্থ সাবেক শাখা ব্যবস্থাপকের নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান মেসার্স ফকির করপোরেশনের হিসাব নম্বরে স্থানান্তর করা হয়েছে। পরে ওই হিসাব থেকে দুটি চেকের মাধ্যমে ১৫ লাখ ৮১ হাজার ৫০০ টাকা তোলা হয় বলে তারা অভিযোগ করেন।

ঠিকাদারদের অভিযোগ ও নথিপত্র অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০২৫ সালের ৫ মে কালাই পৌরসভার উন্নয়নকাজের টেন্ডার সিকিউরিটি ওপারফরমেন্স সিকিউরিটি বাবদ তিন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে পাঁচটি টেন্ডার আইডির বিপরীতে এনআরবিসি ব্যাংক ক্ষেতলাল উপশাখায় অর্থ জমা দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো  মেসার্স রুবিনা কনস্ট্রাকশন, মেসার্স আব্দুল্লাহ জুনায়েদ ট্রেডার্স ও তুলসীগঙ্গা ট্রেডার্স। 

ব্যাংকের ঋণ সুবিধাসহ পাঁচটি আইডিতে ছিল মোট ৪৩ লাখ ৩৬ হাজার ৩১০ টাকা। ঠিকাদারদের পৃথক নিজস্ব অর্থ জমা ছিল ১৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

এর মধ্যে রুবিনা কনস্ট্রাকশনের আইডির বিপরীতে প্রয়োজন ছিল যথাক্রমে ১৩ লাখ ৫৪ হাজার ও ছয় লাখ ৩১ হাজার টাকা। প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব জমা ছিল আট লাখ ২০ হাজার টাকা।  

আব্দুল্লাহ জুনায়েদ ট্রেডার্সের আইডির বিপরীতে প্রয়োজন ছিল ৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা। ওই আইডিতে জমা ছিল চার লাখ ৬০ হাজার টাকা। আর তুলসীগঙ্গা ট্রেডার্সের আইডির বিপরীতে প্রয়োজন ছিল যথাক্রমে ১১ লাখ ২০ হাজার ১০ ও দুই লাখ ৪১ হাজার ৩০০ টাকা।

ওই দুই আইডিতে জমা ছিল পাঁচ লাখ ৬০ হাজার টাকা। 

নথি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০২৫ সালের ৭ মে কালাই পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলীর নামে পাঁচটি পে-অর্ডার ইস্যু করা হয়। ঠিকাদারদের দাবি, কালাই পৌরসভার প্রকৌশলী পে-অর্ডারগুলো নেওয়ার পর তারা কাজ করার অনুমতি পান। কাজ শেষ করে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্রও নেন।

অভিযোগকারীদের দেওয়া লেনদেনের তথ্য অনুযায়ী, পে-অর্ডার ইস্যুর পাঁচ দিন পর ২০২৫ সালের ১২ মে তাদের জমা অর্থ থেকে তখনকার শাখা ব্যবস্থাপক আহসান হাবিব একই দিনে দুইটি চেকে যথাক্রমে ৯ লাখ ৫৯ হাজার ৬৭৫ টাকা এবং ছয় লাখ ২১ হাজার ৮২৫ টাকা তুলে নিজস্ব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান মেসার্স ফকির করপোরেশনের হিসাব নম্বরে স্থানান্তর করা হয়। 

এদিকে মেসার্স আব্দুল্লাহ জুনায়েদ ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. তহিদুল বারী শেখের পক্ষ থেকেও পারফরমেন্স সিকিউরিটি বাবদ জমা আট লাখ ১০ হাজার টাকা ফেরত না পাওয়ার পৃথক অভিযোগ রয়েছে। তার আবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের নভেম্বরে ই-জিপি টেন্ডার সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে তার প্রতিষ্ঠান কালাই পৌরসভা থেকে নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড (এনওএ) পায়। 

২০২৪ সালের ১৩ নভেম্বর নগদ আট লাখ ১০ হাজার টাকা দিয়ে এনআরবিসি ব্যাংকের ক্ষেতলাল উপশাখা থেকে পে-অর্ডার করা হয়। এরপর ব্যাংক থেকেই পে-অর্ডারটি ই-জিপি সিস্টেমে আপলোড করা হয়।

তিন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ১৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা ফেরত চেয়ে ২০২৬ সালের ২৬ আগস্ট এনআরবিসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়। আবেদনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করার কথা উল্লেখ রয়েছে। 

মেসার্স রুবিনা কনস্ট্রাকশনের কর্ণধার রেজাউল ইসলাম বলেন, আমরা ব্যাংকের ওপর আস্থা রেখে নিরাপত্তা জামানতের টাকা জমা দিয়েছি। কাজ শেষে পৌরসভার ছাড়পত্র নেওয়ার পর আমাদের টাকা ফেরত পাওয়ার কথা। কিন্তু তারা আমাদের টাকা আটকে রাখা হয়েছে। এখন ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের একটাই দাবি,আমাদের জমাকৃত টাকা সম্পূর্ণ ফেরত দেওয়া হোক।

একই দাবি করেন আব্দুল্লাহ জুনায়েদ ট্রেডার্সের কর্ণধার মো. তহিদুল বারী শেখ ও তুলসীগঙ্গা ট্রেডার্সের কর্ণধার ওয়াশিম আকরাম চঞ্চল। 

তবে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে এনআরবিসি ব্যাংক ক্ষেতলালের সাবেক উপশাখা ব্যবস্থাপক মো. আহসান হাবিব বলেন, কালাই পৌরসভার সঙ্গে আমার সুসম্পর্কের কারণে সংশ্লিষ্ট লেনদেনের ক্ষেত্রে দাপ্তরিকপ্রক্রিয়া অনুসরণে একটি ভুল হয়েছিল। তবে সেই ভুল সংশোধনের আগেই আমাকে ওএসডি করে ব্যাংকের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়। 

এ কারণে অভিযোগকারীদের টাকা ফেরতের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারেননি বলে দাবি আহসান হাবিবের। কোনো অর্থ আত্মসাৎ করেননি বলেও দাবি করেন তিনি।

এনআরবিসি ব্যাংকের ক্ষেতলাল উপশাখার ব্যবস্থাপক মো. আব্দুল কাইয়ুম প্রথমে সাংবাদিকদের পরিচয়পত্র দেখতে চান। পরে তিনি বলেন, অভিযোগকারীদের ঘটনার সবকিছুই জানি,তবে আপনারা আমার গ্রাহক নন,বাংলাদেশ ব্যাংক বা বিএফআইইউ এবং দুদকের কেউ নন। সেজন্য কোনো তথ্য দিতে আমি বাধ্য নই। 

আব্দুল কাইয়ুম আরো বলেন, আপনারা বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে আসেন, তখন বিষয়টি ভেবে দেখব।  তিনি তার বড় ভাই ‘ঢাকার প্রেসক্লাব’ নিয়ন্ত্রণ করেন বলে দাবি করে মূল বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি।