ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াই শুরু হোক ঘর থেকেই : ডিসি ফরিদা
- Update Time : 12:20:22 pm, Saturday, 26 September 2026
- / 2 Time View
ডেঙ্গু প্রতিরোধের লড়াই হাসপাতাল থেকে নয়, ঘর ও আশপাশের পরিবেশ থেকেই শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম। তিনি বলেছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, এ জন্য নাগরিকদেরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজে জেলা প্রশাসন, ঢাকার উদ্যোগে আয়োজিত ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক আলোচনা সভা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সভাপতির বক্তব্যে ফরিদা খানম এসব কথা বলেন।
ফরিদা খানম বলেন, ‘ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াই হাসপাতাল থেকে শুরু না হয়ে আমাদের ঘর ও আশপাশের পরিবেশ থেকে হোক।’ ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হিসেবে সচেতনতা, পরিচ্ছন্নতা ও সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান মিঞা।
বিশেষ অতিথি ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসন-২-এর সংসদ সদস্য শিরীন সুলতানা এবং অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মো. আজমুল হক।
বিভাগীয় কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান মিঞা বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি। ঘরবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি কোথাও পানি জমতে না দেওয়ার মাধ্যমে এডিস মশার প্রজনন নিয়ন্ত্রণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্রসহ আশপাশের বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি এডিস মশার প্রজননস্থল হতে পারে।
তাই প্রতিদিন কয়েক মিনিট সময় নিয়ে ঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করতে হবে। কোথাও পানি জমে থাকলে তা দ্রুত অপসারণ করতে হবে।
তিনি বলেন, এক দিনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান দিয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। পরিচ্ছন্নতাকে প্রতিদিনের অভ্যাসে পরিণত করতে হবে। জেলা প্রশাসন নিয়মিত ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা, তদারকি ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
তবে শুধু প্রশাসনের অভিযান দিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।
ফরিদা খানম বলেন, পরিবার থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি থেকে সামাজিক সংগঠন এবং গণমাধ্যম থেকে সাধারণ নাগরিক—সবাইকে এ কাজে যুক্ত হতে হবে। প্রতিটি পরিবারকে ডেঙ্গু প্রতিরোধের প্রথম দুর্গ এবং প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সচেতনতার কেন্দ্রে পরিণত করতে হবে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তোমরাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। তোমরা শুধু নিজেরা সচেতন হবে না, তোমাদের পরিবার, বন্ধু ও প্রতিবেশীদেরও সচেতন করবে। তোমাদের একটি ছোট উদ্যোগ একটি পরিবারকে ডেঙ্গুর ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে পারে।’
ডেঙ্গু প্রতিরোধে গণমাধ্যমের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন জেলা প্রশাসক। সংবাদ, প্রতিবেদন ও প্রচারের মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধের বার্তা আরো বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে শামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, আমন্ত্রিত অতিথি এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা শেষে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে শামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজসংলগ্ন এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।







