Dhaka 5:55 pm, Sunday, 27 September 2026

ফারাক্কার প্রভাবে দক্ষিণ-পশ্চিমের ৫৪ নদী ভরাট হয়েছে : পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 07:58:06 am, Saturday, 26 September 2026
  • / 11 Time View

ফারাক্কার প্রভাবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ৫৪টি নদী ভরাট হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, উজান থেকে মিষ্টি পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় নদী-খালে পলি জমার পাশাপাশি বাড়ছে লবণাক্ততা।

এতে সুন্দরবনসহ উপকূলীয় অঞ্চলের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে। 

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় খুলনার সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার সোলার পার্কে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) ও বিকাশ লিমিটেডের যৌথ বনায়ন কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ওপর থেকে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় নিচ থেকে আসা পলি নদী-খালে জমছে। এতে একসময় যে নদী ও খালগুলো পানির প্রবাহ ধরে রাখত, সেগুলো ধীরে ধীরে নাব্যতা হারাচ্ছে।

একই সঙ্গে বাড়ছে লবণাক্ততার চাপ। 

তিনি বলেন, সুন্দরবন ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পরিবেশ রক্ষায় ভারতের কাছ থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্য মিষ্টি পানির হিস্যা নিশ্চিত করা জরুরি। শুধু আলোচনা বা কূটনৈতিক বক্তব্য দিয়ে এ সংকটের সমাধান হবে না। এ বিষয়ে ভারতের সঙ্গে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

সম্প্রতি ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকেও বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। 

প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, মিষ্টি পানির প্রবাহ কমে গেলে সাগরের লবণাক্ত পানি ও মিষ্টি পানির সংযোগস্থলের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়। এতে সুন্দরীসহ সুন্দরবনের বিভিন্ন উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হতে পারে। মানুষের বা কোনো দেশের হস্তক্ষেপে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হলে সুন্দরবন রক্ষা কঠিন হয়ে পড়বে।

সুন্দরবনের আশপাশের ‘লাল শ্রেণির’ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর দূষণ নিয়ন্ত্রণেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

শেখ ফরিদুল ইসলাম জানান, সারা দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এরই মধ্যে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি গাছ লাগানো হয়েছে। আরও ২ কোটি কেওড়ার চারা ও বীজ প্রস্তুত রয়েছে। আগামী ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে উপকূলীয় এলাকায় এসব চারা ও বীজ রোপণ করা হবে। ফেব্রুয়ারি থেকে পরবর্তী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্য রয়েছে।

তিনি বলেন, যেখানে-সেখানে গাছ লাগানো হবে না। কোন এলাকার জন্য কোন গাছ উপযোগী, তা বিবেচনা করে সুষম বৃক্ষায়ন করা হবে। পাহাড়, সমতল, উপকূল, কৃষিজমি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ কাজে এনজিওসহ বিভিন্ন সংগঠনকে যুক্ত করা হচ্ছে।

বজ্রপাত মোকাবিলায় চলতি বছর যশোর, মাগুরা, নড়াইল, খুলনা ও সাতক্ষীরায় প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার তালগাছ লাগানো হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, তাল, নারকেলসহ উঁচু গাছের সংখ্যা বাড়ানো গেলে বজ্রপাতের ঝুঁকি কমানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, সৌরবিদ্যুৎ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বৈদ্যুতিক বাস চালুর মতো প্রকৃতিনির্ভর কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে সরকার। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য শুধু পরিবেশ রক্ষা নয়, নদী-খাল পুনরুদ্ধার, মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি কমানোও।

একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ও পলিথিনের ব্যবহার বন্ধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে প্লাস্টিক ও পলিথিনমুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

খুলনা সিটি করপোরেশনের বৃক্ষরোপণ ও সৌন্দর্যবর্ধন উদ্যোগের প্রশংসা করে শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, খুলনা তার নিজের শহরের মতো। শহরকে সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য করা সবার দায়িত্ব। বিকাশের সহযোগিতায় নগরীতে বৃক্ষরোপণ ও গাছের পরিচর্যার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিন বছর এসব গাছের রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। স্বাগত বক্তব্য দেন কেসিসির প্রধান নির্বাহী রাজিব আহমেদ। এ ছাড়া বক্তব্য দেন খুলনা ওয়াসার চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনি, খুলনা বিভাগীয় বন সংরক্ষক মো. ইমরান আহমেদ, কেএমপির উপপুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. রেজাউর রহমান, খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. সাজ্জাদুর রহমান রাসেল, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক এস এম রুবায়েত আবদুল্লাহ এবং বিকাশের এভিপি হুমায়ুন কবির।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ফারাক্কার প্রভাবে দক্ষিণ-পশ্চিমের ৫৪ নদী ভরাট হয়েছে : পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

Update Time : 07:58:06 am, Saturday, 26 September 2026

ফারাক্কার প্রভাবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ৫৪টি নদী ভরাট হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, উজান থেকে মিষ্টি পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় নদী-খালে পলি জমার পাশাপাশি বাড়ছে লবণাক্ততা।

এতে সুন্দরবনসহ উপকূলীয় অঞ্চলের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে। 

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় খুলনার সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার সোলার পার্কে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) ও বিকাশ লিমিটেডের যৌথ বনায়ন কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ওপর থেকে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় নিচ থেকে আসা পলি নদী-খালে জমছে। এতে একসময় যে নদী ও খালগুলো পানির প্রবাহ ধরে রাখত, সেগুলো ধীরে ধীরে নাব্যতা হারাচ্ছে।

একই সঙ্গে বাড়ছে লবণাক্ততার চাপ। 

তিনি বলেন, সুন্দরবন ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পরিবেশ রক্ষায় ভারতের কাছ থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্য মিষ্টি পানির হিস্যা নিশ্চিত করা জরুরি। শুধু আলোচনা বা কূটনৈতিক বক্তব্য দিয়ে এ সংকটের সমাধান হবে না। এ বিষয়ে ভারতের সঙ্গে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

সম্প্রতি ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকেও বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। 

প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, মিষ্টি পানির প্রবাহ কমে গেলে সাগরের লবণাক্ত পানি ও মিষ্টি পানির সংযোগস্থলের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়। এতে সুন্দরীসহ সুন্দরবনের বিভিন্ন উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হতে পারে। মানুষের বা কোনো দেশের হস্তক্ষেপে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হলে সুন্দরবন রক্ষা কঠিন হয়ে পড়বে।

সুন্দরবনের আশপাশের ‘লাল শ্রেণির’ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর দূষণ নিয়ন্ত্রণেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

শেখ ফরিদুল ইসলাম জানান, সারা দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এরই মধ্যে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি গাছ লাগানো হয়েছে। আরও ২ কোটি কেওড়ার চারা ও বীজ প্রস্তুত রয়েছে। আগামী ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে উপকূলীয় এলাকায় এসব চারা ও বীজ রোপণ করা হবে। ফেব্রুয়ারি থেকে পরবর্তী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্য রয়েছে।

তিনি বলেন, যেখানে-সেখানে গাছ লাগানো হবে না। কোন এলাকার জন্য কোন গাছ উপযোগী, তা বিবেচনা করে সুষম বৃক্ষায়ন করা হবে। পাহাড়, সমতল, উপকূল, কৃষিজমি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ কাজে এনজিওসহ বিভিন্ন সংগঠনকে যুক্ত করা হচ্ছে।

বজ্রপাত মোকাবিলায় চলতি বছর যশোর, মাগুরা, নড়াইল, খুলনা ও সাতক্ষীরায় প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার তালগাছ লাগানো হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, তাল, নারকেলসহ উঁচু গাছের সংখ্যা বাড়ানো গেলে বজ্রপাতের ঝুঁকি কমানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, সৌরবিদ্যুৎ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বৈদ্যুতিক বাস চালুর মতো প্রকৃতিনির্ভর কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে সরকার। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য শুধু পরিবেশ রক্ষা নয়, নদী-খাল পুনরুদ্ধার, মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি কমানোও।

একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ও পলিথিনের ব্যবহার বন্ধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে প্লাস্টিক ও পলিথিনমুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

খুলনা সিটি করপোরেশনের বৃক্ষরোপণ ও সৌন্দর্যবর্ধন উদ্যোগের প্রশংসা করে শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, খুলনা তার নিজের শহরের মতো। শহরকে সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য করা সবার দায়িত্ব। বিকাশের সহযোগিতায় নগরীতে বৃক্ষরোপণ ও গাছের পরিচর্যার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিন বছর এসব গাছের রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। স্বাগত বক্তব্য দেন কেসিসির প্রধান নির্বাহী রাজিব আহমেদ। এ ছাড়া বক্তব্য দেন খুলনা ওয়াসার চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনি, খুলনা বিভাগীয় বন সংরক্ষক মো. ইমরান আহমেদ, কেএমপির উপপুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. রেজাউর রহমান, খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. সাজ্জাদুর রহমান রাসেল, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক এস এম রুবায়েত আবদুল্লাহ এবং বিকাশের এভিপি হুমায়ুন কবির।