তিন গণমাধ্যম মামলা করায় আরো খেপেছেন ট্রাম্প
- Update Time : 08:01:03 am, Tuesday, 22 September 2026
- / 5 Time View
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার বন্ধ করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মামলা করায় সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, যেসব সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে মিথ্যা বা মানহানিকর খবর প্রকাশের অভিযোগ রয়েছে, তাদের ওভাল অফিসে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।
এএনআই নিউজ জানা, সোমবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রবেশের অনুমতি ফিরিয়ে দিতে আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়ে তিন সংবাদমাধ্যম মামলা করার পর তিনি এ মন্তব্য করেন। মামলাটি মার্কিন জেলা আদালতের বিচারক টিমোথি কেলির আদালতে গেছে। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে কেলিকে ফেডারেল বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্টে ট্রাম্প বিচারক কেলির নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। ট্রাম্প লেখেন, সিএনএন, পলিটিকো ও এমএস নাও ‘ভুয়া খবর’ ছড়ায় এবং হোয়াইট হাউসে প্রবেশের সুযোগ পাওয়ার জন্য তার প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তিনি বলেন, আদালত তার প্রশাসনের বিরুদ্ধে রায় দিলে তারা সম্ভবত সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবে।
ট্রাম্পের অভিযোগ, এসব সংবাদমাধ্যম তার প্রশাসন ও তার কর্মকাণ্ড নিয়ে নেতিবাচক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
তার দাবি, তারা অনেক সময় অজ্ঞাত সূত্রের বরাত দিয়ে মিথ্যা ও মানহানিকর খবর প্রকাশ করে। ট্রাম্প বলেন, এমন সংবাদমাধ্যমকে হোয়াইট হাউসের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় প্রবেশের সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। তিনি আরো বলেন, ওভাল অফিসে শালীনতা, সম্মান ও মর্যাদা বজায় রাখা প্রয়োজন। ট্রাম্পের অভিযোগ, ওই তিন সংবাদমাধ্যম তার কর্মকাণ্ড এবং তার প্রশাসন নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তথ্য বিকৃত করছে। ট্রাম্প বলেন, ‘ভুয়া খবর’ গণতন্ত্রের জন্য হুমকি।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে যা করা প্রয়োজন, তিনি তা করবেন বলেও মন্তব্য করেন।
এর আগে সোমবার সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকো যৌথভাবে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করে। হোয়াইট হাউসে তাদের সাংবাদিকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত বাতিল করাই এই মামলার অন্যতম উদ্দেশ্য। সংবাদমাধ্যমগুলো আদালতের কাছে জরুরি নির্দেশনা চেয়েছে, যাতে তাদের সাংবাদিকদের আবার হোয়াইট হাউসে গিয়ে সংবাদ সংগ্রহের সুযোগ দেওয়া হয়। তিন সংবাদমাধ্যমের দাবি, তাদের সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার বন্ধ করার সিদ্ধান্ত মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে দেওয়া সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার অধিকার লঙ্ঘন করেছে। তাদের বক্তব্য, কোনো সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন সরকারের পছন্দ না হলেই সেই সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশ বন্ধ করা যায় না।
সপ্তাহান্তে সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। তাদের প্রেস ব্যাজ নিষ্ক্রিয় বা কেড়ে নেওয়া হয়। একই সময়ে প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ভিডিও ও ছবি সংগ্রহ করে অংশগ্রহণকারী সংবাদমাধ্যমগুলোর মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হোয়াইট হাউসের টেলিভিশন পুল থেকেও সিএনএনকে নির্ধারিত দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। হোয়াইট হাউস অবশ্য এই সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য, মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনী সংবাদমাধ্যমকে খবর প্রকাশের অধিকার দিয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে, প্রতিটি সংবাদমাধ্যমকে হোয়াইট হাউসে প্রবেশের অনুমতি, ব্রিফিং কক্ষে আসন বা প্রেস পুলে অংশ নেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউস বলেছে, সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার সব সময়ই একটি বিশেষ সুবিধা হিসেবে দেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সেই নিয়মই প্রয়োগ করছেন বলে প্রশাসনের দাবি। ট্রাম্প প্রশাসন আরো বলেছে, অতীতের ডেমোক্র্যাট প্রশাসনগুলোর সময়ও রক্ষণশীল সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের সঙ্গে এ ধরনের বিরোধ হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ফক্স নিউজসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আগের প্রশাসনগুলোর বিরোধের উদাহরণও তুলে ধরেছে তারা। তবে সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর অবস্থান হলো, সরকারের কর্মকর্তারা কোনো সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন পছন্দ না করলেই বেছে বেছে সেই সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার বন্ধ করতে পারেন না। যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেছে, সরকার যেন কোনো সংবাদমাধ্যম কী প্রতিবেদন করবে বা কী প্রকাশ করবে, তা নির্ধারণ করে না দেয়।
এই মামলা হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার এবং প্রেসিডেন্টের সংবাদ সংগ্রহের সুযোগ নিয়ে চলমান বিরোধকে আরও সামনে এনেছে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের ক্ষমতার সীমা নিয়েও নতুন করে আইনি প্রশ্ন উঠেছে। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিয়ে আইনি বিরোধ হয়েছিল। সে সময় সিএনএনের সাবেক প্রতিবেদক জিম আকোস্টাকে ঘিরে একটি মামলাও বিচারক টিমোথি কেলির আদালতে গিয়েছিল। এই আইনি লড়াইয়ের মধ্যেই ট্রাম্প জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে গেছেন। সেখানে তিনি সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।








