তৃণমূলের নামের পর ‘জোড়া ফুল’ প্রতীকও হাতছাড়া মমতার
- Update Time : 12:25:03 pm, Friday, 18 September 2026
- / 3 Time View
তৃণমূল কংগ্রেসের ‘জোড়াফুল’ প্রতীক নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ও ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম নিয়ে বিরোধের মধ্যে আপাতত একটি অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্ত দিয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশন।
কমিশন জানিয়েছে, দলের ওপর কার অধিকার থাকবে, সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনো পক্ষই তৃণমূলের নাম ও ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। অর্থাৎ, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দুই পক্ষকেই আলাদা নাম ও প্রতীক ব্যবহার করতে হবে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল আপাতত এই প্রতীক ব্যবহার করতে পারছে না। এই সিদ্ধান্তের পর বিরোধীরা নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলেছেন।
লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বলেন, “একটি পুরো দলকেই যদি ‘চুরি’ করা যায়, তাহলে কোটি কোটি মানুষের ভোট নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।” আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়ালও বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করেছেন।
তিনি বলেন, ‘মমতার কাছ থেকে জোড়াফুল প্রতীক কেড়ে নেওয়া যেন প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনের উপহার।’
বৃহস্পতিবার তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও প্রতীক আপাতত ফ্রিজ করেছে নির্বাচন কমিশন।
ফলে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুই পক্ষের প্রার্থীদের অন্য প্রতীক নিয়ে লড়তে হবে।
কমিশন জানিয়েছে, ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘ঘাসের ওপর জোড়াফুল’ প্রতীক কোনো পক্ষই ব্যবহার করতে পারবে না। উপনির্বাচনে প্রার্থীদের বিকল্প নাম ও প্রতীক নিতে হবে।
ভারতের রাজনীতিতে এমন ঘটনা আগেও ঘটেছে। শিবসেনা ও এনসিপিতেও দলীয় বিরোধের পর দুই পক্ষের মধ্যে প্রতীক ও দলের নাম নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়েছিল।
পরে বিদ্রোহী পক্ষ বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটে যোগ দেয় এবং মূল দলীয় প্রতীক তাদের হাতে যায়।
শুক্রবার এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রাহুল গান্ধী তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও প্রতীক ফ্রিজ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির সমালোচনা করেন।
রাহুলের অভিযোগ, শিবসেনা ও এনসিপির পর এবার তৃণমূলের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ঘটনা ঘটছে। তার দাবি, বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন মিলে দল ভেঙে দিচ্ছে এবং দলীয় প্রতীক কেড়ে নিচ্ছে।
রাহুল আরো বলেন, একটি দলই যদি এভাবে ‘চুরি’ হয়ে যায়, তাহলে কোটি কোটি মানুষের ভোট নিয়েও প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। তার মতে, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব জনগণের মতামত রক্ষা করা এবং স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা।
রাহুল বলেন, ‘এই লড়াই শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নয়। স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চাওয়া সব রাজনৈতিক দলেরই বিষয়।’
আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়ালও মমতার পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এভাবে কি বিজেপি নির্বাচনে জয় পেতে চায়? এদিকে তৃণমূলের প্রতীক ফ্রিজ হওয়ার খবর পাওয়ার পর শুক্রবার রাত ১১টার দিকে রাহুল গান্ধী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করেছিলেন বলে জানা গেছে।





