Dhaka 12:47 am, Friday, 28 August 2026

৭২ ঘণ্টার মধ্যে ধেয়ে আসছে আরো ভয়ংকর বিপর্যয়?

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 05:04:33 pm, Thursday, 27 August 2026
  • / 6 Time View


নেপালে আকস্মিক বন্যায় অকল্পনীয় বিপর্যয়ের মধ্যেই আরো বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কার কথা সামনে আসছে। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম চায়না সেন্ট্রাল টেলিভিশন-সিসিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেপাল-তিব্বত সীমান্ত এলাকায় বর্তমান বিপর্যয় এলাকার কাছেই নতুন সৃষ্ট একটি কৃত্রিম হ্রদ থেকে নতুন ঝুঁকি চিহ্নিত করেছে বেইজিং কর্তৃপক্

সিসিটিভির তথ্যমতে, নেপাল-তিব্বত সীমান্তে দুর্যোগস্থলের উত্তর-পূর্বে ছচেন খোলা এবং পুরেপু সাংপো নদীর সংযোগস্থলে নতুনভাবে সৃষ্ট এই হ্রদটির ওপর নজরদারি ও মূল্যায়ন জোরদার করেছে চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। উদ্ধারকাজে সহায়তা এবং পরবর্তী অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

সিসিটিভি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এই কৃত্রিম হ্রদটিতে পানির পরিমাণ আনুমানিক ২০ লক্ষ কিউবিক মিটার ছিল এবং এটি ইতোমধ্যে উপচে পড়ছে। টানা বৃষ্টির কারণে আগামী ৭২ ঘণ্টায় হ্রদটিতে আরও ৩০ লক্ষ কিউবিক মিটার পানি প্রবাহিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সিসিটিভি এবং গ্লোবাল টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অতিরিক্ত পানির এই বিশাল চাপের কারণে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে হ্রদের প্রাকৃতিকভাবে তৈরি বাঁধটি ভেঙে যাওয়ার চরম ঝুঁকি রয়েছে। যদি এই হ্রদের বাঁধটি সত্যিই ভেঙে যায়, তবে সেটি এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয় একটি বিধ্বংসী মহাবিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। বাঁধ ভাঙা মাত্রই লাখ লাখ কিউবিক মিটার পানি ও কাদার প্রাচীর তীব্র গতিতে ভাটির দিকে ধেয়ে যাবে। প্রথম বন্যার ধকল কাটিয়ে ওঠার আগেই এটি নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোকে নতুন করে ভাসিয়ে নিয়ে যেতে পারে।

তেমনটি হলে উদ্ধারকাজ স্থবির হয়ে যাবে। উদ্ধারকর্মীদের জীবনও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে যোগাযোগ ব্যবস্থা। নেপাল-তিব্বত সীমান্তের এই হ্রদটি ভেঙে পড়লে সেই পানি সরাসরি নেপালের ভটে কোসি এবং ত্রিশূলী নদী হয়ে ভাটির দিকে যাবে। তাতে নেপালে মৃত্যুর মিছিল আরো দীর্ঘ হবে।

এই হ্রদটি আগে ছিল না। ভূতাত্ত্বিক পরিভাষায় একে ‘ল্যান্ড স্লাইড ড্যাম’ বলা হয়। গত বুধবারে হিমালয় সীমান্তে যে বিশাল বরফ-পাথর ও কাদামাটির ধস নেমেছে, তার একটি বড় অংশ ছচেন খোলা এবং পুরেপু সাংপো নদীর সংযোগস্থলে এসে পড়ে। এই ধসের কারণে নদীর স্বাভাবিক পানি প্রবাহের পথটি পুরোপুরি অবরুদ্ধ হয়ে যায়। পাহাড় থেকে ধসে পড়া মাটি এবং পাথরের স্তূপ নদীর ওপর একটি অস্থায়ী ‘প্রাকৃতিক বাঁধ’ বা দেয়াল তৈরি করেছে। এই দেয়ালের পেছনে নদীর পানি আটকে গিয়েই এই নতুন কৃত্রিম হ্রদটির সৃষ্টি হয়েছে।

হ্রদটি তৈরি হওয়ার পর মাত্র দুদিনেই সেখানে প্রায় ২০ লক্ষ কিউবিক মিটার নতুন পানি জমা হয়ে গেছে। পাহাড়ি ঢল এবং বৃষ্টির কারণে সেখানে প্রতি মুহূর্তে আরও পানি এসে যোগ হচ্ছে, যার ফলে এটি ইতোমধ্যে উপচে পড়ছে। টানা বৃষ্টিতে আগামী ৭২ ঘণ্টায় সেখানে আরো ৩০ লক্ষ কিউবিক মিটার জমা হলে নতুন করে ভয়ংকর বিপর্যয় ঘটতে পারে।

aআবহাওয়া ও ‍দুর্যোগ বিশেষজ্ঞরা নেপাল-তিব্বত সীমান্তের এই হ্রদটিকে ‘টাইম বোমা’ হিসেবে অভিহিত করছেন। এই কারণেই চীন সরকার সেখানে স্যাটেলাইট ও ড্রোন দিয়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি জোরদার করছে। এই নতুন কৃত্রিম হ্রদটি ঠিক তিব্বত এবং নেপাল সীমান্তের হিমালয় পর্বতমালায় অবস্থিত। এটি মূলত নেপাল অংশে তৈরি হয়েছে, তবে এর প্রভাব সরাসরি তিব্বত ও নেপাল উভয়ের সীমান্ত এলাকা জুড়েই রয়েছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

৭২ ঘণ্টার মধ্যে ধেয়ে আসছে আরো ভয়ংকর বিপর্যয়?

Update Time : 05:04:33 pm, Thursday, 27 August 2026


নেপালে আকস্মিক বন্যায় অকল্পনীয় বিপর্যয়ের মধ্যেই আরো বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কার কথা সামনে আসছে। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম চায়না সেন্ট্রাল টেলিভিশন-সিসিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেপাল-তিব্বত সীমান্ত এলাকায় বর্তমান বিপর্যয় এলাকার কাছেই নতুন সৃষ্ট একটি কৃত্রিম হ্রদ থেকে নতুন ঝুঁকি চিহ্নিত করেছে বেইজিং কর্তৃপক্

সিসিটিভির তথ্যমতে, নেপাল-তিব্বত সীমান্তে দুর্যোগস্থলের উত্তর-পূর্বে ছচেন খোলা এবং পুরেপু সাংপো নদীর সংযোগস্থলে নতুনভাবে সৃষ্ট এই হ্রদটির ওপর নজরদারি ও মূল্যায়ন জোরদার করেছে চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। উদ্ধারকাজে সহায়তা এবং পরবর্তী অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

সিসিটিভি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এই কৃত্রিম হ্রদটিতে পানির পরিমাণ আনুমানিক ২০ লক্ষ কিউবিক মিটার ছিল এবং এটি ইতোমধ্যে উপচে পড়ছে। টানা বৃষ্টির কারণে আগামী ৭২ ঘণ্টায় হ্রদটিতে আরও ৩০ লক্ষ কিউবিক মিটার পানি প্রবাহিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সিসিটিভি এবং গ্লোবাল টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অতিরিক্ত পানির এই বিশাল চাপের কারণে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে হ্রদের প্রাকৃতিকভাবে তৈরি বাঁধটি ভেঙে যাওয়ার চরম ঝুঁকি রয়েছে। যদি এই হ্রদের বাঁধটি সত্যিই ভেঙে যায়, তবে সেটি এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয় একটি বিধ্বংসী মহাবিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। বাঁধ ভাঙা মাত্রই লাখ লাখ কিউবিক মিটার পানি ও কাদার প্রাচীর তীব্র গতিতে ভাটির দিকে ধেয়ে যাবে। প্রথম বন্যার ধকল কাটিয়ে ওঠার আগেই এটি নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোকে নতুন করে ভাসিয়ে নিয়ে যেতে পারে।

তেমনটি হলে উদ্ধারকাজ স্থবির হয়ে যাবে। উদ্ধারকর্মীদের জীবনও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে যোগাযোগ ব্যবস্থা। নেপাল-তিব্বত সীমান্তের এই হ্রদটি ভেঙে পড়লে সেই পানি সরাসরি নেপালের ভটে কোসি এবং ত্রিশূলী নদী হয়ে ভাটির দিকে যাবে। তাতে নেপালে মৃত্যুর মিছিল আরো দীর্ঘ হবে।

এই হ্রদটি আগে ছিল না। ভূতাত্ত্বিক পরিভাষায় একে ‘ল্যান্ড স্লাইড ড্যাম’ বলা হয়। গত বুধবারে হিমালয় সীমান্তে যে বিশাল বরফ-পাথর ও কাদামাটির ধস নেমেছে, তার একটি বড় অংশ ছচেন খোলা এবং পুরেপু সাংপো নদীর সংযোগস্থলে এসে পড়ে। এই ধসের কারণে নদীর স্বাভাবিক পানি প্রবাহের পথটি পুরোপুরি অবরুদ্ধ হয়ে যায়। পাহাড় থেকে ধসে পড়া মাটি এবং পাথরের স্তূপ নদীর ওপর একটি অস্থায়ী ‘প্রাকৃতিক বাঁধ’ বা দেয়াল তৈরি করেছে। এই দেয়ালের পেছনে নদীর পানি আটকে গিয়েই এই নতুন কৃত্রিম হ্রদটির সৃষ্টি হয়েছে।

হ্রদটি তৈরি হওয়ার পর মাত্র দুদিনেই সেখানে প্রায় ২০ লক্ষ কিউবিক মিটার নতুন পানি জমা হয়ে গেছে। পাহাড়ি ঢল এবং বৃষ্টির কারণে সেখানে প্রতি মুহূর্তে আরও পানি এসে যোগ হচ্ছে, যার ফলে এটি ইতোমধ্যে উপচে পড়ছে। টানা বৃষ্টিতে আগামী ৭২ ঘণ্টায় সেখানে আরো ৩০ লক্ষ কিউবিক মিটার জমা হলে নতুন করে ভয়ংকর বিপর্যয় ঘটতে পারে।

aআবহাওয়া ও ‍দুর্যোগ বিশেষজ্ঞরা নেপাল-তিব্বত সীমান্তের এই হ্রদটিকে ‘টাইম বোমা’ হিসেবে অভিহিত করছেন। এই কারণেই চীন সরকার সেখানে স্যাটেলাইট ও ড্রোন দিয়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি জোরদার করছে। এই নতুন কৃত্রিম হ্রদটি ঠিক তিব্বত এবং নেপাল সীমান্তের হিমালয় পর্বতমালায় অবস্থিত। এটি মূলত নেপাল অংশে তৈরি হয়েছে, তবে এর প্রভাব সরাসরি তিব্বত ও নেপাল উভয়ের সীমান্ত এলাকা জুড়েই রয়েছে।