ড্রোন হামলায় আহত, ইউক্রেন যুদ্ধের বিভীষিকা নিয়ে দেশে রাজন
- Update Time : 04:24:13 pm, Thursday, 27 August 2026
- / 6 Time View
ভালো বেতন ও উন্নত জীবনের আশায় রাশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের যুবক রাজন। নির্মাণ শ্রমিকের চাকরির কথা বলে তাঁকে সেখানে নেওয়া হলেও পরে জোর করে সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়ে রাশিয়ার পক্ষে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
ড্রোন হামলায় আহত হয়ে কোনোমতে প্রাণে বেঁচে দেশে ফিরেছেন রাজন। এখনো যুদ্ধের ভয়াবহ স্মৃতি তাড়া করে ফিরছে তাঁকে।
কালীগঞ্জ উপজেলার গয়েশপুর গ্রামের এ যুবকের একটি পা অচল হয়ে গেছে। ক্র্যাচে ভর করে কোনোমতে চলাফেরা করছেন তিনি।
সুঠাম দেহের রাজন এখন অনেকটাই কঙ্কালসার। চোখ বন্ধ করলেই তাঁর মনে পড়ে বিস্ফোরণের শব্দ, ড্রোন হামলা ও মৃত্যুর আতঙ্ক।
রাজন জানান, দালালের মাধ্যমে গত ৭ মে রাশিয়ায় যান তিনি। নির্মাণ শ্রমিকের কাজ দেওয়ার কথা থাকলেও সেখানে যাওয়ার পর তাঁকে জোর করে সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
পরে রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয় তাঁকে।
তিনি বলেন, তাঁর সঙ্গে আরো ৩০ জন যুবককে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়েছিল। প্রথম কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁদের মধ্যে ২০ জন নিহত হন। পরে একটি ড্রোন হামলায় আহত হন রাজন। গুরুতর আহত অবস্থায় চার দিন চার রাত বুকের ওপর ভর দিয়ে কোনোভাবে ক্যাম্পে ফিরে আসেন তিনি।
পরে ইউক্রেন ও রাশিয়ার বিভিন্ন হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা হয়। একপর্যায়ে সেখান থেকে পালিয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন রাজন। পরে দূতাবাসের সহযোগিতায় দেশে ফেরেন তিনি।
গয়েশপুর গ্রামের বাসিন্দা রফিক বলেন, ‘রাজন ভালো ছেলে। পরিবারের অভাবের কারণে বিদেশে যেতে বাধ্য হয়েছিল। এখন তাঁর এই অবস্থা দেখে খুব কষ্ট হচ্ছে।’
রাজনের পরিবার জানায়, ছেলেকে বিদেশে পাঠাতে সহায়-সম্বল বিক্রি করেছিলেন তাঁর বাবা। এখন পরিবারটি নিঃস্ব। রাজনের চিকিৎসা চালানোর মতো অর্থও তাঁদের নেই। দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং রাজনের চিকিৎসায় সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা।










