দুনিয়া কাঁপানো পাঁচ টেক জায়ান্ট
- Update Time : 09:19:36 pm, Sunday, 22 March 2026
- / 69 Time View
লন মাস্ক: প্রযুক্তির বিশ্ব মুঘলটেক-দুনিয়ার ধ্রুবতারা এবং বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবের ইলন মাস্কের ব্যক্তিগত জীবন একদিকে যেমন রহস্যময় তেমনি অনেক চড়াই-উতরাই পার হয়ে সফলতার শীর্ষ উদাহরণ। মাত্র তের বছর বয়সে বাবার কাজে সাহায্যের জন্য বিশেষ সফটওয়্যার বানান তিনি। ১৭ বছর বয়সে সাউথ আফ্রিকা থেকে আমেরিকায় পাড়ি জমান বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ এড়ানোর জন্য। কাজ পাগল মাস্ক কোনো উদ্যোগ নিতে যেমন ভয় পান না তেমনি ব্যর্থ হলেই সঙ্গে সঙ্গে হাল ছেড়ে দেন না। তার অধিকাংশ প্রচেষ্টাই প্রথমে ব্যর্থ হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সফলতার মুখ দেখেছে। প্রায় ৮৫০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল সাম্রাজ্যের এই অধিপতি কেবল তার মহাকাশ জয়ের স্বপ্ন বা টেসলা গাড়ি দিয়েই নয়, বরং তার বর্ণিল সম্পর্ক এবং বিশাল পরিবার দিয়েও বিশ্ববাসীকে প্রতিনিয়ত চমকে দিচ্ছেন। ১৪ সন্তানের জনক এই অদ্ভুতকর্মা মানুষটি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, জনসংখ্যা হ্রাস পাওয়া মানব সভ্যতার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি- আর সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি গড়ে তুলেছেন এক মহাকাব্যিক সংসার। প্রথম স্ত্রী জাস্টিন উইলসন থেকে শুরু করে বৃটিশ অভিনেত্রী তালুলাহ রিলে, কিংবা আলোচিত সংগীতশিল্পী গ্রাইমস এবং নিউরালিংক নির্বাহী শিভন জিলিস- সম্পর্কের টানাপড়েন আর বিচ্ছেদের মিছিলেও সন্তানদের প্রতি মাস্কের মমত্ববোধ এবং তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তার বিশেষ পরিকল্পনা সবসময়ই আলোচনার তুঙ্গে থাকে। ডেট করেছেন অ্যাম্বার হার্ড নামক বিতর্কিত অভিনেত্রীর সঙ্গে। একসময় বলেছিলেন নিজের জন্য কোনো বাড়ি কিনবেন না। কাজ করতে করতে অফিসেই ঘুমিয়ে পড়তেন প্রায়শই। বর্তমানে সেই প্রতিজ্ঞা থেকে সরে এসেছেন। টেক্সাসের অস্টিনে প্রায় ৩৫ মিলিয়ন ডলার মূল্যের এক বিশাল কম্পাউন্ডে নিজের বিশাল বহর নিয়ে বসবাস করা এই ‘অ্যাসপারগার সিনড্রোম’ আক্রান্ত মানুষটি প্রমাণ করেছেন যে, প্রচণ্ড কর্মব্যস্ততা আর অদ্ভুত সব খেয়াল নিয়ে কীভাবে পৃথিবীর শীর্ষস্থানে থাকা যায়। ২০২২ সালে টুইটার কিনে নিয়েছিলেন ৪৪ বিলিয়ন ডলারের বিশাল অঙ্ক খরচ করে। পরবর্তীতে এর নাম পরিবর্তন করে রাখেন এক্স। নিজের এক্স হ্যান্ডলে নিয়মিত বিতর্কিত পোস্ট করে সামাজিক মাধ্যম মাতিয়ে রাখতে মাস্কের জুরি মেলা ভার।সন্তানদের সঙ্গে মাস্কের সম্পর্ক যেমন নিবিড়, তেমনি শিক্ষাদীক্ষায় তার দৃষ্টিভঙ্গিও বেশ বৈপ্লবিক। প্রথাগত স্কুলিং ব্যবস্থায় অনীহা প্রকাশ করে তিনি নিজের সন্তানদের জন্য গড়ে তুলেছেন ‘অ্যাড্রাস্ট্রা’র মতো বিশেষায়িত স্কুল, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা রোবটিক্সই পাঠ্য বইয়ের প্রধান অনুষঙ্গ। প্রযুক্তির ব্যবহারে তিনি সন্তানদের কোনো বাধা দেন না, বরং তাদের ভবিষ্যৎ পৃথিবীর জন্য ডিজিটাল যোদ্ধা হিসেবে গড়ে তুলছেন। বিশেষ করে তার ছোট ছেলে এক্স-কে প্রায়ই তার সঙ্গে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রকেট লঞ্চিং বা টেসলার ফ্যাক্টরি পরিদর্শনে দেখা যায়, যা প্রমাণ করে যে তিনি তার উত্তরসূরিদের খুব কাছ থেকেই প্রযুক্তির সর্বোচ্চ প্রয়োগ শিখিয়ে দিচ্ছেন। ব্যক্তিগত জীবনে স্ক্রিন টাইম নিয়ে কঠোর না হলেও, তার সন্তানদের জীবন নিয়ন্ত্রিত হয় মাস্কের নিজস্ব প্রযুক্তিনির্ভর ফিলোসফি দিয়ে।স্যাম অল্টম্যান: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার রূপকারটেক-দুনিয়ার বর্তমান মানচিত্রে যদি কোনো নাম আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে, তবে তিনি স্যাম অল্টম্যান। ওপেন এআই-এর এই কর্ণধার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) জগতের প্রধান কারিগরকে ঘিরে কৌতূহলের শেষ নেই। প্রযুক্তিগত বিপ্লবের স্বর্গযুগে দাঁড়িয়ে অল্টম্যান কেবল একজন সিইও নন, বরং মানবসভ্যতার আগামীর রূপকার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। ব্যক্তিগত জীবনে অত্যন্ত মিতভাষী এবং কিছুটা অন্তর্মুখী এই মানুষটির জীবনদর্শন মুগ্ধ করে যে কাউকে।সিলিকন ভ্যালিতে কথিত আছে যে, নিরামিষাশী এই প্রযুক্তিবিশারদ নিজের ফিটনেস এবং দীর্ঘায়ু নিয়ে এতটাই সচেতন যে, তিনি নিয়মিত ‘মেটফরমিন’-এর মতো ওষুধ সেবন করেন এবং কঠোর ডায়েট মেনে চলেন। তার কাছে প্রযুক্তি কেবল ব্যবসার মাধ্যম নয়, বরং মৃত্যুকে জয় করার এক হাতিয়ার। সিলিকন ভ্যালির গুঞ্জন অনুযায়ী, অল্টম্যানের ব্যক্তিগত বাঙ্কারে রয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি- যদি কোনোদিন কোনো মহাপ্রলয় বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিদ্রোহ ঘটে, তবে সেখানে তিনি নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে রেখেছেন।ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে অল্টম্যান সবসময়ই গোপনীয়তা বজায় রাখতে পছন্দ করেন। তবে চলতি বছরের শুরুতে তার সঙ্গী অলিভার মুলহেরিনের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকে বিশ্ববাসী তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নতুন করে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। অল্টম্যান বিশ্বাস করেন আগামীর পৃথিবী হবে মানুষের মেধা এবং যন্ত্রের এক অভূতপূর্ব সংমিশ্রণ। তার অন্দরমহলে পোষা প্রাণীদের প্রতি তার গভীর মমতা এবং সাধারণ জীবনযাপনের প্রতি একনিষ্ঠতা তাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করে তুলেছে।সন্তান লালন-পালন বা উত্তরসূরি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অল্টম্যানের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ প্রযুক্তি-কেন্দ্রিক। তিনি প্রথাগত স্কুলিং-এর চেয়ে ‘ক্রিটিক্যাল থিংকিং’ এবং ‘প্রবলেম সলভিং’-কে বেশি গুরুত্ব দেন। তার মতে, আগামী দিনের শিশুদের জন্য কোডিং শেখার চেয়েও বেশি জরুরি হবে এআই-কে নির্দেশ দেয়ার ক্ষমতা বা ‘প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং’। তিনি মনে করেন, মানুষের সৃজনশীলতা এবং এআই-এর গাণিতিক নির্ভুলতা একীভূত হয়েই তৈরি হবে নতুন এক উন্নত প্রজাতি। মানুষের কাজ হবে শুধু আইডিয়া জেনারেট করা। যদিও এআই এর ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে অনেক সমালোচনা রয়েছে, স্যাম তাতে কর্ণপাত না করে নতুন নতুন আরও আগ্রাসী প্রযুক্তি হাজির করছেন। স্যাম চ্যাটজিপিটি-র স্রষ্টা হিসেবে কেবল চ্যাটবট তৈরি করেননি, বরং মানুষের চিন্তা করার ধরন বদলে দিয়েছেন। অস্টিনের বিলাসবহুল জীবন কিংবা স্ট্যানফোর্ডের ঝরঝরে ড্রপআউট তকমা- সবকিছু মিলিয়ে স্যাম অল্টম্যান আজ এমন এক উচ্চতায়, যেখানে দাঁড়িয়ে তিনি নির্ধারণ করছেন আগামীর পৃথিবীর ভাগ্য। শান্ত স্বভাবের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এই তীক্ষè মস্তিষ্কের মানুষটি প্রমাণ করেছেন যে, চিৎকার করে নয়, বরং নিঃশব্দে উদ্ভাবনের মাধ্যমেই পৃথিবীকে শাসন করা সম্ভব। স্যাম অল্টম্যান তৈরি করছেন এমন এক জগৎ, যেখানে মানুষ আর যন্ত্রের সীমারেখা ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে আসছে।টিম কুক: ডিজিটাল ডিটক্সের প্রবক্তা২০২৬ সালের প্রযুক্তি বিশ্ব যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আর রোবটিক্সের জোয়ারে ভাসছে, তখন ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের বিশাল সাম্রাজ্য ‘অ্যাপল’-এর সিংহাসনে বসে আছেন এক অদ্ভুত শান্ত ও মিতভাষী মানুষ- টিম কুক। আইফোন, ম্যাকবুক কিংবা অ্যাপল ওয়াচের মতো চাকচিক্যময় সব উদ্ভাবনের পেছনে যার মস্তিষ্ক কাজ করে, সেই মানুষটির ব্যক্তিগত জীবন যেন এক দুর্ভেদ্য দুর্গ। প্রচারের আলো থেকে যোজন যোজন দূরে থাকা এই মানুষটি প্রমাণ করেছেন যে, আস্ফালন ছাড়াও বিশ্ব জয় করা সম্ভব।অ্যালাবামার এক সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা টিম কুকের জীবন এক দীর্ঘ সাধনার গল্প। যখন ক্যালিফোর্নিয়ার সিলিকন ভ্যালিতে ভোরের আলো ফোটে না, ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত ৩টা ৪৫ মিনিট- ঠিক তখনই শুরু হয় এই বিলিয়নিয়ারের দিন। হাজার হাজার ইমেইল পড়া আর কঠোর জিম সেশনের মাধ্যমে তিনি নিজেকে প্রস্তুত করেন পরবর্তী যুদ্ধের জন্য। প্রযুক্তির শিখরে বসে থেকেও টিম কুকের জীবনধারা অবিশ্বাস্য রকমের সাদামাটা। ব্যক্তিগত জেটের চেয়ে তিনি বেশি পছন্দ করেন ক্যালিফোর্নিয়ার পাহাড়ে হাইকিং করতে কিংবা সাইকেল চালিয়ে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাতে।ব্যক্তিগত জীবনকে আড়ালে রাখার ক্ষেত্রে টিম কুক এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। ২০১৪ সালে যখন তিনি প্রথম কোনো ‘ফরচুন ৫০০’ কোম্পানির সিইও হিসেবে নিজের সমকামী পরিচয় প্রকাশ করেন, তখন পুরো বিশ্ব চমকে গিয়েছিল। কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থে নয় বরং বিশ্বের কোটি কোটি মানুষকে সাহস জোগাতেই তিনি তার জীবনের সবচেয়ে বড় গোপনীয়তা জনসমক্ষে এনেছিলেন। তার কাছে জীবন মানে কেবল সম্পদ আহরণ নয়, বরং প্রতিটি মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করার এক নিরন্তর সংগ্রাম।নেট দুনিয়ায় টিম কুক হাজির করেছেন ‘ডিজিটাল ডিটক্স’ থিওরি। সোশ্যাল মিডিয়া, প্রযুক্তি আসক্ততা আমাদের জীবনকে যখন গ্রাস করছে তখন প্রযুক্তিকে সাময়িক ছুটি দিয়ে ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে সময় দিয়ে প্রযুক্তির বিষমুক্ত হওয়ার এই ধারণার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন বিশ্ববাসীকে।সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় গ্যাজেট নির্মাতা হয়েও টিম কুক প্রযুক্তির অন্ধ ব্যবহারের ঘোর বিরোধী। তিনি বারবার সতর্ক করেছেন প্রযুক্তির আসক্তি নিয়ে। নিজের ভাগ্নেকে নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে তিনি সরাসরি বলেছিলেন, তিনি চান না তার ভাগ্নে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করুক। তার মতে, আইফোন বা আইপ্যাড হওয়া উচিত মানুষের সৃজনশীলতার হাতিয়ার, সময়ের অপচয় নয়। এই দর্শনই তাকে আধুনিক যুগের অন্য সব প্রযুক্তিবিদদের থেকে আলাদা এক উচ্চতায় নিয়ে গেছে।টিম কুকের কাছে সম্পদের মোহ নেই বললেই চলে। তিনি ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন যে, তার অর্জিত বিশাল সম্পদের প্রায় পুরোটাই তিনি জনহিতকর কাজে দান করে দেবেন। কোনো ব্যক্তিগত সাম্রাজ্য বা পারিবারিক উত্তরাধিকার তৈরির চেয়ে তিনি বেশি গুরুত্ব দেন সমাজ সংস্কারে। তার নেতৃত্বে অ্যাপল আজ কেবল একটি টেক কোম্পানি নয়, বরং গোপনীয়তা এবং পরিবেশ রক্ষার এক বৈশ্বিক আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।মার্ক জাকারবার্গ: মেটাভার্সের নীল দুনিয়ামার্ক জাকারবার্গ সারা বিশ্বের সোশ্যাল মিডিয়ার সবচেয়ে বড় মুঘল। একাধারে ফেসবুক, ম্যাসেঞ্জার, ইন্সটাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপসহ আরও ছোট বড় অসংখ্য প্ল্যাটফরম হয় নিজে গড়েছেন কিংবা কিনে নিয়েছেন। সবগুলো একত্রে করে বানিয়েছেন মেটা নামক প্ল্যাটফরম। কিন্তু এই বিলিয়ন ডলারের সাম্রাজ্যের অধিপতির ব্যক্তিগত জীবন বেশ চমকপ্রদ ও বৈচিত্র্যময়।প্রতিভাবান এই ধনকুবের ড্রপ আউট হয়েছেন হাভার্ড থেকে। কিন্তু নিজের জীবনসঙ্গিনীও পেয়েছেন সেখান থেকেই। জাকারবার্গের প্রেমের গল্পটা কোনো দামি রেস্তরাঁ থেকে শুরু হয়নি। ২০০৩ সালের এক রাতে হার্ভার্ডের এক ঘরোয়া পার্টিতে বাথরুমের লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন মার্ক। সেখানেই তার পরিচয় হয় প্রিসিলা চ্যানের সঙ্গে। মজার ব্যাপার হলো, সেই সময় মার্ক হার্ভার্ড থেকে বহিষ্কার হওয়ার আশঙ্কায় ছিলেন (ফেসম্যাশ কাণ্ডের জন্য)। প্রিসিলাকে তিনি প্রথম ডেটেই বলেছিলেন, ‘পরশু হয়তো আমাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের করে দেবে, তাই আমাদের এখনই সময় কাটাতে হবে।’ সেই যে শুরু, দীর্ঘ ৯ বছরের প্রেম শেষে ২০১২ সালে তারা ঘরোয়াভাবে বিয়ে করেন। বিয়ের দিনটিও ছিল বিশেষ- ফেসবুক শেয়ার বাজারে আসার ঠিক একদিন পর। অতিথিরা ভেবেছিলেন তারা প্রিসিলার ডাক্তার হওয়ার উৎসব পালন করতে এসেছেন, কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখেন বিয়ের আয়োজন!আপনি কি জানেন ফেসবুকের রং কেন নীল? এর পেছনে কোনো ব্রান্ডিং থিওরি নয়, বরং মার্কের একটি শারীরিক সীমাবদ্ধতা কাজ করেছে। জাকারবার্গ আসলে লাল-সবুজ রঙের অন্ধত্ব বা ‘রেড-গ্রীন কালার ব্লাইন্ডনেস’-এ আক্রান্ত। তিনি নীল রঙটি সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দেখতে পান। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘নীল রঙ আমার কাছে সবচেয়ে সমৃদ্ধ, আমি নীলের সব শেড দেখতে পাই।’ আর এভাবেই বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়ার থিম হয়ে গেল নীল।জাকারবার্গের আলমারি খুললে আপনি অবাক হবেন। সেখানে সারি সারি সাজানো থাকে একই রঙের ধূসর টি-শার্ট এবং হুডি। তিনি মনে করেন, সকালে উঠে ‘আজ কী পরবো’ এই সামান্য সিদ্ধান্ত নিতে যেটুকু মস্তিষ্কের শক্তি ব্যয় হয়, তা তিনি বড় কোনো কাজে ব্যয় করতে চান। তিনি চান তার জীবনকে যতটা সম্ভব সাধারণ রাখতে, যাতে তিনি কেবল ‘কমিউনিটি’ বা জনসেবামূলক কাজে পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারেন।মার্ক একবার নিলেন এক অদ্ভুত চ্যালেঞ্জ: ‘আমি নিজে যা শিকার করি না, তা খাই না’। ২০১১ সালে জাকারবার্গ এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছিলেন। তিনি ঘোষণা করেন, তিনি কেবল সেইসব প্রাণীর মাংস খাবেন যেগুলোকে তিনি নিজে নিজ হাতে শিকার বা জবাই করেছেন। এমনকি তিনি একবার টুইটারের প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক ডরসিকে নিজের হাতে মারা একটি ছাগলের মাংস খাইয়েছিলেন, যা ডরসি কোনোদিন ভুলতে পারবেন না! যদিও এক বছর পর তিনি এই চ্যালেঞ্জ থেকে সরে এসে সাধারণ খাদ্যাভ্যাসে ফিরে যান।মার্কের সঙ্গী প্রিসিলা চ্যানের পরিবার চীনা বংশোদ্ভূত। তাদের সঙ্গে সাবলীলভাবে কথা বলার জন্য এবং নিজের কাজের পরিধি বাড়াতে জাকারবার্গ অত্যন্ত কঠিন ‘মান্দারিন’ ভাষা রপ্ত করেন। ২০১০ সাল থেকে তিনি প্রতিদিন নিয়ম করে এই ভাষা শিখতেন। ২০১৪ সালে বেইজিংয়ের সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি যখন টানা ৩০ মিনিট মান্দারিন ভাষায় বক্তৃতা দেন, তখন গোটা বিশ্ব তাজ্জব হয়ে গিয়েছিল। কেবল প্রেমের জন্য একজন মানুষ কতোটা পরিশ্রম করতে পারেন, মার্ক তার এক অনন্য উদাহরণ। বর্তমানে জাকারবার্গ হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার খরচ করে এক বিশাল সম্পত্তি গড়ে তুলছেন। সেখানে তিনি মাটির নিচে প্রায় ৫০০০ বর্গফুটের একটি বিশাল বাঙ্কার তৈরি করছেন, যা স্বয়ংসম্পূর্ণ। শুধু তাই নয়, সেখানে তিনি জাপানিজ ‘ওয়াগু’ এবং ‘অ্যাঙ্গাস’ জাতের গরু পালন করছেন। মজার বিষয় হলো, এই গরুগুলোকে তিনি দামি বিয়ার খাওয়ান এবং ম্যাকাডামিয়া বাদাম খাওয়ানো হয় যাতে মাংসের স্বাদ অতুলনীয় হয়। তিনি নিজেকে এখন একজন ‘পার্ট-টাইম ফার্মার’ হিসেবেও পরিচয় দিতে পছন্দ করেন। শান্তশিষ্ট জাকারবার্গকে ইদানীং চেনা দায়। তিনি এখন পুরোদস্তুর মার্শাল আর্ট যোদ্ধা। ব্রাসিলিয়ান জিইউ-জিতসু প্রতিযোগিতায় তিনি ইতিমধ্যেই মেডেল জিতেছেন। ইলন মাস্কের সঙ্গে তার সেই কথিত ‘কেজ ফাইট’ বা খাঁচার লড়াইয়ের খবর তো বিশ্ব জুড়ে ভাইরাল হয়েছিল। যদিও সেই লড়াই শেষ পর্যন্ত রিং পর্যন্ত গড়ায়নি, কিন্তু জাকারবার্গ প্রমাণ করেছেন যে কি-বোর্ডের পাশাপাশি তিনি রিংয়েও সমান পারদর্শী।সত্য নাদেলা: কর্মী থেকে সিইওহায়দরাবাদের এক আইএএস অফিসারের ঘরে জন্ম সত্য নাদেলার পুরো নাম সত্যনারায়ণ নাদেলা। ছোটবেলা থেকেই ছিলেন প্রবল মেধাবী। আর দশটা সাধারণ ভারতীয়র মতোই পছন্দ করতেন ক্রিকেট খেলা। ক্রিকেটপাগল এই ছেলেটি যে ভবিষ্যতে সামলাবেন বিশ্ব প্রযুক্তির দিকপাল বিল গেটসের সাম্রাজ্য তা হয়তো কেউ কল্পনাও করেনি। সত্য নাদেলার উত্থানের গল্পটি যতটা না প্রযুক্তির, তার চেয়েও বেশি এক হার না মানা মানবিক আখ্যান। নাদেলার জীবনের সবচেয়ে বিস্ময়কর এবং ত্যাগের ঘটনাটি ঘটেছিল ১৯৯৪ সালে- তখন তিনি মাইক্রোসফটের উঠতি তারকা এবং আমেরিকার ‘গ্রিন কার্ড’ধারী, কিন্তু তার স্ত্রী অনুপমার (যাকে তিনি অনু বলে ডাকেন) ভিসা বারবার প্রত্যাখ্যান হওয়ায় তিনি এক অভাবনীয় কাণ্ড করে বসেন। স্ত্রীকে নিজের কাছে রাখতে তিনি স্বেচ্ছায় তার অতি মূল্যবান ‘গ্রিন কার্ড’ মার্কিন সরকারকে ফেরত দিয়ে পুনরায় ‘এইচ-১বি’ ভিসায় চলে যান, যা সে সময়ে তো বটেই, আজও অভিবাসীদের কাছে এক অকল্পনীয় আত্মত্যাগ হিসেবে বিবেচিত হয়। নাদেলার এই ‘রোমান্টিক’ জেদই তাকে আজকের অনন্য উচ্চতায় নিয়ে এসেছে। তবে মাইক্রোসফটের সিইও হওয়ার পথে তার সবচেয়ে বড় বাধা ছিল একটি ইন্টারভিউ প্রশ্ন; তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, ‘রাস্তায় একটি শিশুকে কাঁদতে দেখলে আপনি কী করবেন?’-তাৎক্ষণিক উত্তরে নাদেলা বলেছিলেন ‘আমি ৯১১-এ ফোন করবো’, কিন্তু ইন্টারভিউয়ার তাকে মনে করিয়ে দিয়েছিলেন যে, আগে শিশুটিকে কোলে তুলে নেয়া উচিত ছিল; এই একটি ঘটনাই নাদেলার হৃদয়ে ‘সহমর্মিতা’ বা এমপ্যাথির বীজ বুনে দেয়। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এক লড়াকু বাবা- তার বড় ছেলে জায়ন জন্ম থেকেই সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত ছিলেন এবং তার সেই সংগ্রামের কারণেই আজ মাইক্রোসফট প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য বিশ্বের সেরা সব ‘অ্যাক্সেসিবিলিটি’ ফিচার তৈরি করছে। ক্রিকেট মাঠের অফ-স্পিনার নাদেলা আজও প্রতিদিন ভোরে উঠে আমেরিকান বা ভারতীয় কবিতা পড়েন এবং তিনি বিশ্বাস করেন, একটি নিখুঁত কোডিং আর একটি সার্থক কবিতার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। মাইক্রোসফটের পুরনো ‘সবজান্তা’ সংস্কৃতি ভেঙে ‘কৌতূহলী হওয়ার’ সংস্কৃতি চালু করা এই মানুষটি আজ প্রমাণ করেছেন যে, কঠোর কর্পোরেট জগতেও নম্রতা আর ভালোবাসা দিয়ে ট্রিলিয়ন ডলারের সাম্রাজ্য জয় করা সম্ভব। Í
এসকাগজ/আরডি



















