Dhaka 6:29 pm, Wednesday, 28 October 2026
সর্বশেষ
ডেঙ্গুতে আরো ৯ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৯৮২ সত্যিই কি ভারত-চীন সম্পর্কের বরফ গলছে দেশি মাছ নিয়ে একগুচ্ছ পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার : কৃষিমন্ত্রী নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো শুরু : প্রতিমন্ত্রী নুর শ্বাশুড়িকে হত্যার দায়ে জামাইয়ের যাবজ্জীবন ২০৩৪ সালের মধ্যে জিডিপি ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে, আশা প্রধানমন্ত্রীর ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচনে এখন পর্যন্ত উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই : ইসি সচিব মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অবৈধ হুন্ডি ব্যবসার অভিযোগে আট বাংলাদেশি আটক হরিনারায়ণপুরে দুই ভাইয়ের নির্বাচনী লড়াই নিয়ে তুমুল আলোচনা জাতিসংঘে মানবাধিকারভিত্তিক অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের আহ্বান বাংলাদেশের

২০৩৪ সালের মধ্যে জিডিপি ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে, আশা প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 10:28:17 am, Wednesday, 28 October 2026
  • / 13 Time View

২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশকে বৈশ্বিক উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার।

এ লক্ষ্য অর্জনে জাপানি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। 

বুধবার (২৮ অক্টোবর) টোকিওর জেট্রো হলে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরাম ডায়ালগ’-এ প্রধান বক্তা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, আমি জাপানি কম্পানিগুলোকে পারস্পরিক সুবিধার স্বার্থে পাঁচটি মূল খাতে ভবিষ্যৎ সহযোগিতা ও ব্যবসার সুযোগ অন্বেষণ করার জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। খাতগুলো হলো—অটোমোটিভ (যানবাহন) উৎপাদন, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও মহাকাশ গবেষণা সহযোগিতা, রেল ও লজিস্টিকস এবং কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও ম্যানুফ্যাকচারিং।

তিনি জানান, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৩৫০টি জাপানি কম্পানি কাজ করছে। তবে দেশে জাপানের সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ এখনো ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের নিচে রয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, গত অর্থবছরে জাপানে বাংলাদেশের রপ্তানি ছিল ১.৩৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং জাপান থেকে আমদানি হয়েছিল ২.১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তাই এই সম্পর্ককে কেবল উন্নয়ন সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে এগিয়ে নেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৮ কোটির বেশি। জনসংখ্যার মধ্যম বয়স ২৭ বছর। তরুণ ও প্রশিক্ষণযোগ্য কর্মশক্তি বাংলাদেশের বড় সম্পদ। প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার শিক্ষার্থী প্রকৌশলে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা অর্থনীতিতে পরিণত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত ও সচ্ছল জনগোষ্ঠীর চাহিদা দেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিকে আরো ত্বরান্বিত করবে। 

তিনি আরো বলেন, এ বছর বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। অন্য কোনো দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের এ ধরনের প্রথম চুক্তি এটি। সম্প্রতি স্বাক্ষরিত অর্থনৈতিক সহযোগিতা কাঠামোর আওতায় বাংলাদেশের ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধায় জাপানের বাজারে প্রবেশ করতে পারবে। একইভাবে ইস্পাত, গাড়ির যন্ত্রাংশ ও ইলেকট্রনিক উপাদানসহ জাপানি পণ্য বাংলাদেশে অগ্রাধিকারমূলক বাজারসুবিধা পাবে। বিনিয়োগ, সেবা ও শুল্কসংক্রান্ত প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

জাপানি কোম্পানিগুলোর উত্থাপিত কিছু উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি, দক্ষ অবকাঠামো, সহজ কাস্টমস ও কর ব্যবস্থার বিষয়ে বিনিয়োগকারীদের চাহিদার কথা সরকার গুরুত্বের সঙ্গে শুনেছে এবং এসব সমাধানে কাজ করছে।

তিনি আশ্বাস দেন, ব্যবসায়ীদের নিশ্চিন্ততা এবং বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস প্রয়োজন—আমরা সেটি পুরোপুরি বুঝি। আমাদের কাজ হলো এই দুটির উপযোগী সঠিক পরিবেশ তৈরি করে দেওয়া।

জনগণের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক ও দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতি বছর বহু বাংলাদেশি শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য জাপানে যান। সরকার বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জাপানি ভাষা শেখানোকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, যাতে লাখ লাখ তরুণ কারিগরি দক্ষতার পাশাপাশি জাপানি ভাষায় পারদর্শী হতে পারে। এই দক্ষ পেশাদাররা জাপান ও বাংলাদেশ উভয় দেশের কর্মসংস্থানের চাহিদা মেটাতে ভূমিকা রাখতে পারবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

২০৩৪ সালের মধ্যে জিডিপি ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে, আশা প্রধানমন্ত্রীর

Update Time : 10:28:17 am, Wednesday, 28 October 2026

২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশকে বৈশ্বিক উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার।

এ লক্ষ্য অর্জনে জাপানি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। 

বুধবার (২৮ অক্টোবর) টোকিওর জেট্রো হলে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরাম ডায়ালগ’-এ প্রধান বক্তা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, আমি জাপানি কম্পানিগুলোকে পারস্পরিক সুবিধার স্বার্থে পাঁচটি মূল খাতে ভবিষ্যৎ সহযোগিতা ও ব্যবসার সুযোগ অন্বেষণ করার জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। খাতগুলো হলো—অটোমোটিভ (যানবাহন) উৎপাদন, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও মহাকাশ গবেষণা সহযোগিতা, রেল ও লজিস্টিকস এবং কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও ম্যানুফ্যাকচারিং।

তিনি জানান, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৩৫০টি জাপানি কম্পানি কাজ করছে। তবে দেশে জাপানের সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ এখনো ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের নিচে রয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, গত অর্থবছরে জাপানে বাংলাদেশের রপ্তানি ছিল ১.৩৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং জাপান থেকে আমদানি হয়েছিল ২.১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তাই এই সম্পর্ককে কেবল উন্নয়ন সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে এগিয়ে নেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৮ কোটির বেশি। জনসংখ্যার মধ্যম বয়স ২৭ বছর। তরুণ ও প্রশিক্ষণযোগ্য কর্মশক্তি বাংলাদেশের বড় সম্পদ। প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার শিক্ষার্থী প্রকৌশলে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা অর্থনীতিতে পরিণত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত ও সচ্ছল জনগোষ্ঠীর চাহিদা দেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিকে আরো ত্বরান্বিত করবে। 

তিনি আরো বলেন, এ বছর বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। অন্য কোনো দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের এ ধরনের প্রথম চুক্তি এটি। সম্প্রতি স্বাক্ষরিত অর্থনৈতিক সহযোগিতা কাঠামোর আওতায় বাংলাদেশের ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধায় জাপানের বাজারে প্রবেশ করতে পারবে। একইভাবে ইস্পাত, গাড়ির যন্ত্রাংশ ও ইলেকট্রনিক উপাদানসহ জাপানি পণ্য বাংলাদেশে অগ্রাধিকারমূলক বাজারসুবিধা পাবে। বিনিয়োগ, সেবা ও শুল্কসংক্রান্ত প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

জাপানি কোম্পানিগুলোর উত্থাপিত কিছু উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি, দক্ষ অবকাঠামো, সহজ কাস্টমস ও কর ব্যবস্থার বিষয়ে বিনিয়োগকারীদের চাহিদার কথা সরকার গুরুত্বের সঙ্গে শুনেছে এবং এসব সমাধানে কাজ করছে।

তিনি আশ্বাস দেন, ব্যবসায়ীদের নিশ্চিন্ততা এবং বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস প্রয়োজন—আমরা সেটি পুরোপুরি বুঝি। আমাদের কাজ হলো এই দুটির উপযোগী সঠিক পরিবেশ তৈরি করে দেওয়া।

জনগণের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক ও দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতি বছর বহু বাংলাদেশি শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য জাপানে যান। সরকার বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জাপানি ভাষা শেখানোকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, যাতে লাখ লাখ তরুণ কারিগরি দক্ষতার পাশাপাশি জাপানি ভাষায় পারদর্শী হতে পারে। এই দক্ষ পেশাদাররা জাপান ও বাংলাদেশ উভয় দেশের কর্মসংস্থানের চাহিদা মেটাতে ভূমিকা রাখতে পারবে।