Dhaka 8:15 pm, Tuesday, 3 November 2026
সর্বশেষ
অপহরণের পর বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ, চট্টগ্রামে যুবক গ্রেপ্তার ঢাকায় ৫ নভেম্বর শুরু হচ্ছে এআই বিজনেস সামিট ওয়াই আকৃতির দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর নয়াদিল্লি থেকে ম্যানিলা, আটলান্টা—২০২৬ সালে নতুন গতি পেয়েছে কোয়াড বৈশ্বিক উৎপাদনকেন্দ্র হতে চায় বাংলাদেশ, সমন্বিত নেটওয়ার্ক গড়ার প্রস্তাব হাতি-গাধার মধ্যবর্তী লড়াইয়ে যেভাবে পাল্টাতে পারে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি বাইন্যান্সে ভয়াবহ সাইবার হামলা, চুরি ৬৩০ কোটি ডলারের সম্পদ মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়াই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বাংলা-ইংরেজির বাইরে তৃতীয় ভাষা হিসেবে ইতালীয় শেখাতে চায় সরকার ছয় ঘণ্টার জন্য টোলমুক্ত হচ্ছে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে

নয়াদিল্লি থেকে ম্যানিলা, আটলান্টা—২০২৬ সালে নতুন গতি পেয়েছে কোয়াড

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 12:42:16 pm, Tuesday, 3 November 2026
  • / 8 Time View

যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় অনুষ্ঠিত জি-২০ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের ফাঁকে বৈঠকে বসেন কোয়াডভুক্ত চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। চলতি বছর এটি ছিল তাদের তৃতীয় বৈঠক।

এর আগে মে মাসে ভারতের নয়াদিল্লি এবং জুলাই মাসে ফিলিপাইনের ম্যানিলায় কোয়াড পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। 

তবে কোয়াড নিয়ে অধিকাংশ আলোচনা ও বিশ্লেষণের কেন্দ্রে রয়েছে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত শীর্ষ সম্মেলন। চলতি মাসের শেষ দিকে ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

২০২৫ সালে ভারতের নয়াদিল্লিতে কোয়াড শীর্ষ সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা অনুষ্ঠিত হয়নি।

এরপর থেকেই সম্মেলনটি নিয়ে আলোচনা ও বিতর্ক চলছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর এটিই হবে কোয়াড নেতাদের প্রথম শীর্ষ বৈঠক। এ কারণেও সম্মেলনটি ঘিরে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। 

এ ছাড়া বিশ্বজুড়ে ভূরাজনৈতিক সংঘাত, জ্বালানি ও প্রযুক্তিপণ্যের সরবরাহে সীমাবদ্ধতা এবং চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে সম্ভাব্য ‘জি-৩’ মডেল নিয়ে আলোচনা চলছে।

এই পরিস্থিতিতে ম্যানিলার সম্মেলন কোয়াডের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হওয়া নানা প্রশ্ন ও জল্পনার অবসান ঘটাতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। 

তবে শীর্ষ সম্মেলন না হলেও ২০২৬ সাল কোয়াডের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এ বছর পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে তিনটি বৈঠকের মাধ্যমে জোটটির অভিন্ন অগ্রাধিকারগুলো নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি আগে নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রেও অগ্রগতি হয়েছে।

এর মধ্যে ৩১ অক্টোবর আটলান্টায় অনুষ্ঠিত কোয়াড পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

বৈঠকের পর প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নির্ভরযোগ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে ৮ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বেশি প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।  

এ ছাড়া ভারত ও আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোতে বর্জ্য থেকে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পুনরুদ্ধারের অবকাঠামো ও স্থাপনা গড়ে তুলতে ১ কোটি ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এসব উদ্যোগকে কোয়াডের সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের বিষয়ে জোটভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে অভিন্ন অবস্থান আরো স্পষ্ট হয়েছে।

আটলান্টার বৈঠক শেষে দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে কোয়াডভুক্ত দেশগুলো নির্বিচার রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা এবং বাজারভিত্তিক নয়, এমন নীতি ও কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। তাদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ শিল্পে অতিরিক্ত উৎপাদনের কারণে এসব নীতি বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।

২০২৬ সালের মে মাসে নয়াদিল্লিতে ঘোষিত ‘কোয়াড ক্রিটিক্যাল মিনারেলস ফ্রেমওয়ার্ক’-এর ধারাবাহিকতায় গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পুনরুদ্ধারে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে কোয়াড। বর্জ্য থেকে এসব খনিজ সংগ্রহে সহযোগিতার মাধ্যমে জোটটি এ খাতে অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত অংশীদারত্ব বাড়াতে চায়।

ভারতের জন্য এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে সমমনা দেশগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তি ও নীতিগত সহযোগিতা বাড়িয়ে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের উৎপাদন ও পরিশোধনে নিজস্ব সক্ষমতা জোরদার করতে পারবে দেশটি।

২০২৬ সালে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে কোয়াডের অবস্থান আরো স্পষ্ট হয়েছে। অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের বিরোধিতার পাশাপাশি জোটটি নিজেদের আসিয়ানের ব্যাপক কৌশলগত অংশীদার হিসেবে ঘোষণা করেছে। জুলাই মাসে ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে কোয়াডভুক্ত দেশগুলো সামুদ্রিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, প্রযুক্তি এবং মানবিক সহায়তার মতো বিষয়ে আসিয়ানের দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তবায়নে সমর্থন জানায়।

আগে কোয়াডের বিভিন্ন বিবৃতিতে আসিয়ানের কেন্দ্রীয় ভূমিকার কথা বলা হলেও, এবার আসিয়ানের ইন্দো-প্যাসিফিক বিষয়ক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি সরাসরি সমর্থন জানানো হয়েছে। এতে কোয়াডের কার্যক্রম আসিয়ানের নেতৃত্বাধীন উদ্যোগের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে কি না, সেই দীর্ঘদিনের অস্পষ্টতা দূর হয়েছে। 

জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোতেগি তোশিমিতসুও বলেছেন, ম্যানিলার বৈঠক কোয়াডের পক্ষ থেকে আসিয়ানের ঐক্য ও কেন্দ্রীয় ভূমিকাকে সমর্থনের স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে।

গত সপ্তাহে আটলান্টায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রথমবারের মতো ‘কোয়াড বিজনেস লিডার্স ফোরাম’ গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে চার দেশের ব্যবসায়ী নেতা, সরকারি কর্মকর্তা ও নীতি বিশেষজ্ঞরা অংশ নেবেন। এর লক্ষ্য বেসরকারি খাতের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানো। এ ছাড়া সরকারি অর্থায়নে সহযোগিতার সুযোগ খুঁজতে চার দেশের রপ্তানি ঋণ সংস্থাগুলো আগামী ১৮ নভেম্বর টোকিওতে বৈঠক করবে।

বৈঠকে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কৌশলগত তেল মজুত বাড়াতে গত সেপ্টেম্বরে প্রথমবারের মতো ‘কোয়াড জ্বালানি নিরাপত্তা ফোরাম’ আয়োজন করা হয়। হরমুজ সংকটের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের কারণে এ উদ্যোগের গুরুত্ব বেড়েছে। এশিয়ায় অপরিশোধিত তেল আমদানি আগের পর্যায়ে ফিরলেও মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়ায় পরিশোধন কার্যক্রম কম থাকায় ডিজেলের মতো পরিশোধিত জ্বালানির বাজারে চাপ রয়ে গেছে।

আটলান্টায় অনুষ্ঠিত কোয়াড বৈঠকের যৌথ বিবৃতিতে মে মাসের নয়াদিল্লি বৈঠকে নেওয়া কয়েকটি উদ্যোগের অগ্রগতিও তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে দ্বিতীয়বারের মতো ‘কোয়াড-অ্যাট-সি’ জাহাজ পর্যবেক্ষণ মিশন এবং জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে ইন্দো-প্যাসিফিক লজিস্টিকস নেটওয়ার্কের দ্বিতীয় মহড়া।

কোয়াডের ভবিষ্যৎ ও প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে নানা প্রশ্ন থাকলেও, ২০২৬ সালে জোটটির কার্যক্রমে নতুন গতি এসেছে। নয়াদিল্লি, ম্যানিলা ও আটলান্টায় তিনটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের মাধ্যমে সদস্যদেশগুলো অভিন্ন অগ্রাধিকার নির্ধারণ, ঘোষিত উদ্যোগ বাস্তবায়ন এবং সহযোগিতার পরিধি বাড়িয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত শীর্ষ সম্মেলনের আগে কোয়াড নিজের কার্যক্রমে ধারাবাহিকতা তৈরি করেছে। এখন এই উদ্যোগগুলোকে আরো কার্যকর ও সুসংহত করার চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

নয়াদিল্লি থেকে ম্যানিলা, আটলান্টা—২০২৬ সালে নতুন গতি পেয়েছে কোয়াড

Update Time : 12:42:16 pm, Tuesday, 3 November 2026

যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় অনুষ্ঠিত জি-২০ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের ফাঁকে বৈঠকে বসেন কোয়াডভুক্ত চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। চলতি বছর এটি ছিল তাদের তৃতীয় বৈঠক।

এর আগে মে মাসে ভারতের নয়াদিল্লি এবং জুলাই মাসে ফিলিপাইনের ম্যানিলায় কোয়াড পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। 

তবে কোয়াড নিয়ে অধিকাংশ আলোচনা ও বিশ্লেষণের কেন্দ্রে রয়েছে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত শীর্ষ সম্মেলন। চলতি মাসের শেষ দিকে ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

২০২৫ সালে ভারতের নয়াদিল্লিতে কোয়াড শীর্ষ সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা অনুষ্ঠিত হয়নি।

এরপর থেকেই সম্মেলনটি নিয়ে আলোচনা ও বিতর্ক চলছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর এটিই হবে কোয়াড নেতাদের প্রথম শীর্ষ বৈঠক। এ কারণেও সম্মেলনটি ঘিরে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। 

এ ছাড়া বিশ্বজুড়ে ভূরাজনৈতিক সংঘাত, জ্বালানি ও প্রযুক্তিপণ্যের সরবরাহে সীমাবদ্ধতা এবং চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে সম্ভাব্য ‘জি-৩’ মডেল নিয়ে আলোচনা চলছে।

এই পরিস্থিতিতে ম্যানিলার সম্মেলন কোয়াডের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হওয়া নানা প্রশ্ন ও জল্পনার অবসান ঘটাতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। 

তবে শীর্ষ সম্মেলন না হলেও ২০২৬ সাল কোয়াডের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এ বছর পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে তিনটি বৈঠকের মাধ্যমে জোটটির অভিন্ন অগ্রাধিকারগুলো নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি আগে নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রেও অগ্রগতি হয়েছে।

এর মধ্যে ৩১ অক্টোবর আটলান্টায় অনুষ্ঠিত কোয়াড পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

বৈঠকের পর প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নির্ভরযোগ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে ৮ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বেশি প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।  

এ ছাড়া ভারত ও আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোতে বর্জ্য থেকে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পুনরুদ্ধারের অবকাঠামো ও স্থাপনা গড়ে তুলতে ১ কোটি ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এসব উদ্যোগকে কোয়াডের সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের বিষয়ে জোটভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে অভিন্ন অবস্থান আরো স্পষ্ট হয়েছে।

আটলান্টার বৈঠক শেষে দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে কোয়াডভুক্ত দেশগুলো নির্বিচার রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা এবং বাজারভিত্তিক নয়, এমন নীতি ও কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। তাদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ শিল্পে অতিরিক্ত উৎপাদনের কারণে এসব নীতি বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।

২০২৬ সালের মে মাসে নয়াদিল্লিতে ঘোষিত ‘কোয়াড ক্রিটিক্যাল মিনারেলস ফ্রেমওয়ার্ক’-এর ধারাবাহিকতায় গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পুনরুদ্ধারে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে কোয়াড। বর্জ্য থেকে এসব খনিজ সংগ্রহে সহযোগিতার মাধ্যমে জোটটি এ খাতে অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত অংশীদারত্ব বাড়াতে চায়।

ভারতের জন্য এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে সমমনা দেশগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তি ও নীতিগত সহযোগিতা বাড়িয়ে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের উৎপাদন ও পরিশোধনে নিজস্ব সক্ষমতা জোরদার করতে পারবে দেশটি।

২০২৬ সালে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে কোয়াডের অবস্থান আরো স্পষ্ট হয়েছে। অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের বিরোধিতার পাশাপাশি জোটটি নিজেদের আসিয়ানের ব্যাপক কৌশলগত অংশীদার হিসেবে ঘোষণা করেছে। জুলাই মাসে ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে কোয়াডভুক্ত দেশগুলো সামুদ্রিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, প্রযুক্তি এবং মানবিক সহায়তার মতো বিষয়ে আসিয়ানের দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তবায়নে সমর্থন জানায়।

আগে কোয়াডের বিভিন্ন বিবৃতিতে আসিয়ানের কেন্দ্রীয় ভূমিকার কথা বলা হলেও, এবার আসিয়ানের ইন্দো-প্যাসিফিক বিষয়ক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি সরাসরি সমর্থন জানানো হয়েছে। এতে কোয়াডের কার্যক্রম আসিয়ানের নেতৃত্বাধীন উদ্যোগের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে কি না, সেই দীর্ঘদিনের অস্পষ্টতা দূর হয়েছে। 

জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোতেগি তোশিমিতসুও বলেছেন, ম্যানিলার বৈঠক কোয়াডের পক্ষ থেকে আসিয়ানের ঐক্য ও কেন্দ্রীয় ভূমিকাকে সমর্থনের স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে।

গত সপ্তাহে আটলান্টায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রথমবারের মতো ‘কোয়াড বিজনেস লিডার্স ফোরাম’ গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে চার দেশের ব্যবসায়ী নেতা, সরকারি কর্মকর্তা ও নীতি বিশেষজ্ঞরা অংশ নেবেন। এর লক্ষ্য বেসরকারি খাতের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানো। এ ছাড়া সরকারি অর্থায়নে সহযোগিতার সুযোগ খুঁজতে চার দেশের রপ্তানি ঋণ সংস্থাগুলো আগামী ১৮ নভেম্বর টোকিওতে বৈঠক করবে।

বৈঠকে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কৌশলগত তেল মজুত বাড়াতে গত সেপ্টেম্বরে প্রথমবারের মতো ‘কোয়াড জ্বালানি নিরাপত্তা ফোরাম’ আয়োজন করা হয়। হরমুজ সংকটের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের কারণে এ উদ্যোগের গুরুত্ব বেড়েছে। এশিয়ায় অপরিশোধিত তেল আমদানি আগের পর্যায়ে ফিরলেও মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়ায় পরিশোধন কার্যক্রম কম থাকায় ডিজেলের মতো পরিশোধিত জ্বালানির বাজারে চাপ রয়ে গেছে।

আটলান্টায় অনুষ্ঠিত কোয়াড বৈঠকের যৌথ বিবৃতিতে মে মাসের নয়াদিল্লি বৈঠকে নেওয়া কয়েকটি উদ্যোগের অগ্রগতিও তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে দ্বিতীয়বারের মতো ‘কোয়াড-অ্যাট-সি’ জাহাজ পর্যবেক্ষণ মিশন এবং জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে ইন্দো-প্যাসিফিক লজিস্টিকস নেটওয়ার্কের দ্বিতীয় মহড়া।

কোয়াডের ভবিষ্যৎ ও প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে নানা প্রশ্ন থাকলেও, ২০২৬ সালে জোটটির কার্যক্রমে নতুন গতি এসেছে। নয়াদিল্লি, ম্যানিলা ও আটলান্টায় তিনটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের মাধ্যমে সদস্যদেশগুলো অভিন্ন অগ্রাধিকার নির্ধারণ, ঘোষিত উদ্যোগ বাস্তবায়ন এবং সহযোগিতার পরিধি বাড়িয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত শীর্ষ সম্মেলনের আগে কোয়াড নিজের কার্যক্রমে ধারাবাহিকতা তৈরি করেছে। এখন এই উদ্যোগগুলোকে আরো কার্যকর ও সুসংহত করার চ্যালেঞ্জ রয়েছে।