কৃষি, প্রযুক্তি ও ওষুধশিল্পে বিনিয়োগের আশ্বাস
- Update Time : 09:05:56 am, Tuesday, 27 October 2026
- / 3 Time View
বাংলাদেশে কৃষি, খাদ্য, তথ্যপ্রযুক্তি ও ওষুধশিল্পে বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী জাপান। আগামী পাঁচ বছরে দেশটির বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ এক ট্রিলিয়ন ইয়েনে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
এসব বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশে দুই লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রত্যাশা করা হচ্ছে। বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়ন, ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারেও একমত হয়েছে বাংলাদেশ ও জাপান।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাপানের রাজধানী টোকিওতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি সানায়ের দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের নেওয়া উদ্যোগগুলোর প্রশংসা করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি।
আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে জাপানের বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ এক ট্রিলিয়ন ইয়েন পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এসব বিনিয়োগ থেকে দুই লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রত্যাশা রয়েছে। তবে বিনিয়োগের অঙ্কটি সম্ভাব্য পূর্বাভাস, নিশ্চিত বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি নয়।
দুই প্রধানমন্ত্রী উৎপাদনশিল্প, খাদ্য ও কৃষি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি এবং ওষুধশিল্পে বিনিয়োগের ওপর গুরুত্ব দেন।
এসব খাতে দুই দেশের সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে পরস্পর-পরিপূরক এবং ঝুঁকি মোকাবেলায় সক্ষম পণ্য সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে তাঁরা একমত হন।
বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিবেশ আরো উন্নত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী। জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন এবং ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করেন।
যৌথ বিবৃতি অনুযায়ী, করব্যবস্থা, শুল্ক ছাড়করণ, অর্থ প্রেরণ এবং লাইসেন্স প্রদানের প্রক্রিয়ায় নিয়ম-কানুন, স্বচ্ছতা ও পূর্বানুমানযোগ্যতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ছাড়া দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরকে স্বাগত জানান দুই প্রধানমন্ত্রী।
খাদ্য, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগ আকর্ষণে জাপান ও বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে পৃথক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরকেও তাঁরা স্বাগত জানান।
জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগের আগ্রহ ধরে রাখা এবং আরো বাড়াতে অদূর ভবিষ্যতে একটি জাপানি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে পাঠানোর পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক সংলাপ আয়োজন এবং যৌথ সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের আওতায় সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি দ্রুত কার্যকর করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন দুই প্রধানমন্ত্রী। তাদের প্রত্যাশা, এ চুক্তি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি বাংলাদেশের শিল্পের বহুমুখীকরণে সহায়তা করবে।
এ ছাড়া ‘অভিন্ন সমৃদ্ধির জন্য বঙ্গোপসাগরীয় শিল্প প্রবৃদ্ধি বলয়’ বা বিআইজি-বি উদ্যোগের আওতায় অবকাঠামো, জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর ও শিল্প খাতে সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে একমত হন তাঁরা। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে মাতারবাড়ী-মহেশখালী এলাকাকে সরবরাহ, পরিবহন, জ্বালানি ও শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
বৈঠকে জ্বালানি নিরাপত্তা, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, মানবসম্পদ তৈরি এবং ডিজিটাল রূপান্তরেও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো গভীর করার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।









