Dhaka 8:07 pm, Monday, 12 October 2026
সর্বশেষ
সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর পদযাত্রা আটকে দিয়েছে পুলিশ সেন্ট মার্টিনে পর্যটনের সময়সীমা, পর্যটক সংখ্যা ও জাহাজ ছাড়ার স্থান পুনর্বিবেচনা করা হবে সরকারবিরোধী চক্রান্ত : সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তার চার দিনের রিমান্ড মায়েদের সঙ্গে কারাগারে ৩০৩ শিশু, পরিবেশ অনুকূল নয় রাজধানীতে দুই বাসের পাল্লাপাল্লি, ধাক্কায় প্রাণ গেল নারীর নেপালের আমা দাবলাম অভিযানে ইয়াসমিন লিসা নাটোরে অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৩, ট্রাক্টর জব্দ প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টার সঙ্গে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধির বৈঠক ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতে হবে, পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ ৩ বিভাগের জন্য দুঃসংবাদ দিল আবহাওয়া অফিস

নেপালের আমা দাবলাম অভিযানে ইয়াসমিন লিসা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 01:06:06 pm, Monday, 12 October 2026
  • / 3 Time View

বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের কালজয়ী সাহিত্যকর্ম ‘সুলতানাস ড্রিম’ ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে পর্বতারোহণবিষয়ক সংগঠন ‘অভিযাত্রী’। ‘সুলতানার স্বপ্ন অবারিত’ স্লোগানকে সামনে রেখে নেপালের হিমালয়ে মাউন্ট আমা দাবলাম অভিযানে যাত্রা শুরু করেছেন বাংলাদেশের পর্বতারোহী ইয়াসমিন লিসা।

এ উপলক্ষে সোমবার (১২ অক্টোবর) মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তার হাতে বাংলাদেশের পতাকা তুলে দেওয়া হয়। 

মাউন্ট আমা দাবলাম অভিযানের উদ্দেশ্যে সোমবারই ঢাকা ছেড়েছেন ইয়াসমিন লিসা। অভিযান শেষে আগামী ১০ নভেম্বর তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

অভিযানের বিস্তারিত জানিয়ে বাংলাদেশের প্রথম নারী এভারেস্টজয়ী পর্বতারোহী নিশাত মজুমদার বলেন, ‘নেপালের খুম্বু অঞ্চলে অবস্থিত ৬ হাজার ৮১২ মিটার উচ্চতার মাউন্ট আমা দাবলাম আরোহণ করবেন ইয়াসমিন লিসা।

অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং প্রযুক্তিগতভাবে চ্যালেঞ্জিং আরোহণপথের জন্য আমা দাবলাম পর্বতারোহীদের কাছে বিশেষভাবে পরিচিত। এই পর্বতে আরোহণের জন্য প্রয়োজন দীর্ঘ প্রস্তুতি, শারীরিক সক্ষমতা, কারিগরি দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও দলগত সমন্বয়।’ 

অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক বলেন, ‘পর্বতারোহণের মতো কঠিন শারীরিক চ্যালেঞ্জ জয় করার পাশাপাশি নারীদের সমাজের নানা প্রতিবন্ধকতাও অতিক্রম করতে হয়। রক্ষণশীল মানসিকতা ও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পেরিয়ে তাদের এগিয়ে যেতে হয়।

অতীতেও বেগম রোকেয়ার মতো অগ্রগণ্য নারীদের বাধার মুখে পড়তে হয়েছে, যার প্রতিফলন এখনো সমাজে রয়েছে।’ 

অভিযান প্রসঙ্গে ইয়াসমিন লিসা বলেন, ‘যারা পাহাড় সম্পর্কে জানেন, তারা আমা দাবলামের সৌন্দর্য ও ভয়াবহতা সম্পর্কে অবগত। পাহাড়টি একই সঙ্গে ভীষণ সুন্দর ও বিপজ্জনক। তবু নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে এই অভিযান সফল করার আশা রাখছি।’

সমাজ এক সময় যেসব কাজ নারীদের পক্ষে সম্ভব নয় বলে মনে করত, সেসব কাজ করে দেখানোর স্বপ্ন দেখেন বলেও জানান ইয়াসমিন লিসা।

সেই স্বপ্ন ধারণ করে আমা দাবলামের চূড়ায় বাংলাদেশের পতাকা ওড়াতে চান তিনি। 

ঢাকা আমেরিকান উইমেন্স ক্লাবের প্রেসিডেন্ট রুমানা হাবিব বলেন, “বাংলাদেশের নারীরা নানা সামাজিক ও ব্যক্তিগত বাধা অতিক্রম করে কিভাবে এগিয়ে যেতে পারেন, ‘সুলতানার স্বপ্ন’ তার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। সমাজের সহযোগিতা পেলে নারীরা সব বাধা অতিক্রম করে নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিতে পারেন।”

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন হারস্টোরি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা জারিন মাহমুদ হোসেন এবং ঢাকা আমেরিকান উইমেন্স ক্লাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট তাসনুভা আহমেদ। নারীদের নিয়ে গঠিত এ বিশেষ পর্বতাভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করছে এমটিবি ফাউন্ডেশন। সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর।

জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কোর ‘মেমরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রিজিওনাল রেজিস্টার ফর এশিয়া প্যাসিফিক’ তালিকায় স্থান পেয়েছে ‘সুলতানাস ড্রিম’। ‘সুলতানাস ড্রিম’–সম্পর্কিত দলিল, তথ্য ও ঐতিহাসিক উপকরণ সংরক্ষণ এবং এ বিষয়ে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর। বর্তমানে ‘সুলতানার স্বপ্ন’কে কেন্দ্র করে গ্রন্থপাঠ, সৃজনশীল পাঠ ও কার্যক্রম এবং কর্মশালাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ পরিচালনা করা হচ্ছে।

লিখিত বক্তব্যে নিশাত মজুমদার বলেন, ‘বেগম রোকেয়া এমন এক সমাজের স্বপ্ন দেখেছিলেন, যেখানে নারীরা নিজেদের মেধা, জ্ঞান ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে নেতৃত্ব দেবে। তার সেই স্বপ্ন আজও আমাদের জন্য অনুপ্রেরণার বাতিঘর। বাংলাদেশের নারীরা শিক্ষা, বিজ্ঞান, সংস্কৃতি, প্রশাসন, ব্যবসা ও নানা পেশায় নিজেদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। দুঃসাহসিক অভিযাত্রার ক্ষেত্রেও নারীরা পিছিয়ে নেই। সেই অগ্রযাত্রাকে আরো বিস্তৃত করা এবং নতুন প্রজন্মের মেয়েদের সামনে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। আমরা চাই, বাংলাদেশের মেয়েরা পর্বতারোহণকে শুধু একটি দুঃসাহসিক খেলা হিসেবে নয়, আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব ও নিজের সক্ষমতার একটি ক্ষেত্র হিসেবে আবিষ্কার করবে। ইয়াসমিন লিসার এই অভিযান সেই বৃহত্তর স্বপ্নেরই একটি অংশ।’

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

নেপালের আমা দাবলাম অভিযানে ইয়াসমিন লিসা

Update Time : 01:06:06 pm, Monday, 12 October 2026

বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের কালজয়ী সাহিত্যকর্ম ‘সুলতানাস ড্রিম’ ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে পর্বতারোহণবিষয়ক সংগঠন ‘অভিযাত্রী’। ‘সুলতানার স্বপ্ন অবারিত’ স্লোগানকে সামনে রেখে নেপালের হিমালয়ে মাউন্ট আমা দাবলাম অভিযানে যাত্রা শুরু করেছেন বাংলাদেশের পর্বতারোহী ইয়াসমিন লিসা।

এ উপলক্ষে সোমবার (১২ অক্টোবর) মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তার হাতে বাংলাদেশের পতাকা তুলে দেওয়া হয়। 

মাউন্ট আমা দাবলাম অভিযানের উদ্দেশ্যে সোমবারই ঢাকা ছেড়েছেন ইয়াসমিন লিসা। অভিযান শেষে আগামী ১০ নভেম্বর তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

অভিযানের বিস্তারিত জানিয়ে বাংলাদেশের প্রথম নারী এভারেস্টজয়ী পর্বতারোহী নিশাত মজুমদার বলেন, ‘নেপালের খুম্বু অঞ্চলে অবস্থিত ৬ হাজার ৮১২ মিটার উচ্চতার মাউন্ট আমা দাবলাম আরোহণ করবেন ইয়াসমিন লিসা।

অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং প্রযুক্তিগতভাবে চ্যালেঞ্জিং আরোহণপথের জন্য আমা দাবলাম পর্বতারোহীদের কাছে বিশেষভাবে পরিচিত। এই পর্বতে আরোহণের জন্য প্রয়োজন দীর্ঘ প্রস্তুতি, শারীরিক সক্ষমতা, কারিগরি দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও দলগত সমন্বয়।’ 

অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক বলেন, ‘পর্বতারোহণের মতো কঠিন শারীরিক চ্যালেঞ্জ জয় করার পাশাপাশি নারীদের সমাজের নানা প্রতিবন্ধকতাও অতিক্রম করতে হয়। রক্ষণশীল মানসিকতা ও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পেরিয়ে তাদের এগিয়ে যেতে হয়।

অতীতেও বেগম রোকেয়ার মতো অগ্রগণ্য নারীদের বাধার মুখে পড়তে হয়েছে, যার প্রতিফলন এখনো সমাজে রয়েছে।’ 

অভিযান প্রসঙ্গে ইয়াসমিন লিসা বলেন, ‘যারা পাহাড় সম্পর্কে জানেন, তারা আমা দাবলামের সৌন্দর্য ও ভয়াবহতা সম্পর্কে অবগত। পাহাড়টি একই সঙ্গে ভীষণ সুন্দর ও বিপজ্জনক। তবু নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে এই অভিযান সফল করার আশা রাখছি।’

সমাজ এক সময় যেসব কাজ নারীদের পক্ষে সম্ভব নয় বলে মনে করত, সেসব কাজ করে দেখানোর স্বপ্ন দেখেন বলেও জানান ইয়াসমিন লিসা।

সেই স্বপ্ন ধারণ করে আমা দাবলামের চূড়ায় বাংলাদেশের পতাকা ওড়াতে চান তিনি। 

ঢাকা আমেরিকান উইমেন্স ক্লাবের প্রেসিডেন্ট রুমানা হাবিব বলেন, “বাংলাদেশের নারীরা নানা সামাজিক ও ব্যক্তিগত বাধা অতিক্রম করে কিভাবে এগিয়ে যেতে পারেন, ‘সুলতানার স্বপ্ন’ তার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। সমাজের সহযোগিতা পেলে নারীরা সব বাধা অতিক্রম করে নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিতে পারেন।”

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন হারস্টোরি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা জারিন মাহমুদ হোসেন এবং ঢাকা আমেরিকান উইমেন্স ক্লাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট তাসনুভা আহমেদ। নারীদের নিয়ে গঠিত এ বিশেষ পর্বতাভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করছে এমটিবি ফাউন্ডেশন। সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর।

জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কোর ‘মেমরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রিজিওনাল রেজিস্টার ফর এশিয়া প্যাসিফিক’ তালিকায় স্থান পেয়েছে ‘সুলতানাস ড্রিম’। ‘সুলতানাস ড্রিম’–সম্পর্কিত দলিল, তথ্য ও ঐতিহাসিক উপকরণ সংরক্ষণ এবং এ বিষয়ে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর। বর্তমানে ‘সুলতানার স্বপ্ন’কে কেন্দ্র করে গ্রন্থপাঠ, সৃজনশীল পাঠ ও কার্যক্রম এবং কর্মশালাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ পরিচালনা করা হচ্ছে।

লিখিত বক্তব্যে নিশাত মজুমদার বলেন, ‘বেগম রোকেয়া এমন এক সমাজের স্বপ্ন দেখেছিলেন, যেখানে নারীরা নিজেদের মেধা, জ্ঞান ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে নেতৃত্ব দেবে। তার সেই স্বপ্ন আজও আমাদের জন্য অনুপ্রেরণার বাতিঘর। বাংলাদেশের নারীরা শিক্ষা, বিজ্ঞান, সংস্কৃতি, প্রশাসন, ব্যবসা ও নানা পেশায় নিজেদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। দুঃসাহসিক অভিযাত্রার ক্ষেত্রেও নারীরা পিছিয়ে নেই। সেই অগ্রযাত্রাকে আরো বিস্তৃত করা এবং নতুন প্রজন্মের মেয়েদের সামনে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। আমরা চাই, বাংলাদেশের মেয়েরা পর্বতারোহণকে শুধু একটি দুঃসাহসিক খেলা হিসেবে নয়, আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব ও নিজের সক্ষমতার একটি ক্ষেত্র হিসেবে আবিষ্কার করবে। ইয়াসমিন লিসার এই অভিযান সেই বৃহত্তর স্বপ্নেরই একটি অংশ।’