Dhaka 4:15 pm, Sunday, 11 October 2026
সর্বশেষ
নিউমুরিং টার্মিনালের চুক্তি বাতিল চায় রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন মুক্তির পর যে বার্তা দিলেন ধ্রুব রাঠি টঙ্গীতে স্বেচ্ছাসেবক লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক গ্রেপ্তার আবাসনকে শুধু ব্যবসা নয়, মৌলিক চাহিদা হিসেবে দেখতে হবে ৯ মাসে সুপ্রিম কোর্ট হেল্পলাইনে ৭ হাজার কল সোবহানার সেঞ্চুরি, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একের পর এক রেকর্ড বাংলাদেশের সমন্বিত বন্দর ব্যবস্থাপনা কৌশল তৈরি করছে সরকার : নৌপরিবহনমন্ত্রী দিবস পালনে নতুন পরিপত্র, সরকারি সব অফিসের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশনা দেশে ফিরল সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রোটনের মরদেহ মারুবেনি কর্পোরেশনকে নতুন বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

নিউমুরিং টার্মিনালের চুক্তি বাতিল চায় রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 09:13:07 am, Sunday, 11 October 2026
  • / 2 Time View

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার প্রস্তাবিত চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন। একই সঙ্গে চুক্তির বিরোধিতা করে আন্দোলনরত শ্রমিক, রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ মানুষের ওপর পুলিশি হামলার নিন্দা জানিয়েছে সংগঠনটি।

বন্দর পরিচালনায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরশীলতা তৈরির পরিবর্তে নিজস্ব সক্ষমতা ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার আহ্বানও জানানো হয়েছে। 

রবিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব দাবি জানায় বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন। 

বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে বড় টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে উদ্বেগ তৈরি করেছে। দেশের কৌশলগত ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ খাত বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে আগের সরকারগুলোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখছে বর্তমান সরকারও।

একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের নীতির সঙ্গে এ ধরনের উদ্যোগ সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। 

বিবৃতিতে বলা হয়, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল দেশের মোট কনটেইনার পরিচালনার প্রায় ৪৪ শতাংশের সঙ্গে যুক্ত। ইতিমধ্যে প্রস্তুত ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিসমৃদ্ধ এই লাভজনক টার্মিনালকে দরপত্র ছাড়াই বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ অর্থনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। এত বড় জাতীয় সিদ্ধান্তের পরও চুক্তির শর্ত, সম্ভাব্য আয়-ব্যয় এবং রাষ্ট্রের লাভ-ক্ষতির হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ না করায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সংগঠনটির দাবি, চুক্তির আগেই বন্দরের মাশুল বৃদ্ধি করা হয়েছে। পরিচালন ব্যয় বাড়লে আমদানি-রপ্তানির খরচও বাড়তে পারে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তাদের ওপর পড়বে। পাশাপাশি, পর্যাপ্ত গণআলোচনা ছাড়া কৌশলগত স্থাপনা পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার উদ্যোগ জাতীয় নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করছে বলে বিবৃতিতে বলা হয়।

বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন মনে করে, দীর্ঘমেয়াদি ইজারার পরিবর্তে আন্তর্জাতিক মানের বন্দর ব্যবস্থাপনা, আধুনিক প্রযুক্তি ও বিশেষজ্ঞ সেবা নেওয়া অধিক যৌক্তিক। বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় দেশীয় কর্মীদের প্রশিক্ষিত করে নিজস্ব দক্ষ জনবল গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংগঠনটি।

সংগঠনটি জানিয়েছে, বন্দর পরিচালনায় আন্তর্জাতিক অংশীদার যুক্ত করার প্রয়োজন হলে উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে তা করতে হবে। এতে রাষ্ট্রের আর্থিক ও কৌশলগত স্বার্থ সুরক্ষিত রাখার সুযোগ তৈরি হবে।

জাতীয় নিরাপত্তা ও সংহতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ সব অস্বচ্ছ চুক্তি বাতিল এবং চট্টগ্রাম বন্দরসহ দেশের কৌশলগত স্থাপনাগুলোতে নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানায় বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

নিউমুরিং টার্মিনালের চুক্তি বাতিল চায় রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন

Update Time : 09:13:07 am, Sunday, 11 October 2026

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার প্রস্তাবিত চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন। একই সঙ্গে চুক্তির বিরোধিতা করে আন্দোলনরত শ্রমিক, রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ মানুষের ওপর পুলিশি হামলার নিন্দা জানিয়েছে সংগঠনটি।

বন্দর পরিচালনায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরশীলতা তৈরির পরিবর্তে নিজস্ব সক্ষমতা ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার আহ্বানও জানানো হয়েছে। 

রবিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব দাবি জানায় বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন। 

বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে বড় টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে উদ্বেগ তৈরি করেছে। দেশের কৌশলগত ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ খাত বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে আগের সরকারগুলোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখছে বর্তমান সরকারও।

একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের নীতির সঙ্গে এ ধরনের উদ্যোগ সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। 

বিবৃতিতে বলা হয়, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল দেশের মোট কনটেইনার পরিচালনার প্রায় ৪৪ শতাংশের সঙ্গে যুক্ত। ইতিমধ্যে প্রস্তুত ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিসমৃদ্ধ এই লাভজনক টার্মিনালকে দরপত্র ছাড়াই বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ অর্থনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। এত বড় জাতীয় সিদ্ধান্তের পরও চুক্তির শর্ত, সম্ভাব্য আয়-ব্যয় এবং রাষ্ট্রের লাভ-ক্ষতির হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ না করায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সংগঠনটির দাবি, চুক্তির আগেই বন্দরের মাশুল বৃদ্ধি করা হয়েছে। পরিচালন ব্যয় বাড়লে আমদানি-রপ্তানির খরচও বাড়তে পারে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তাদের ওপর পড়বে। পাশাপাশি, পর্যাপ্ত গণআলোচনা ছাড়া কৌশলগত স্থাপনা পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার উদ্যোগ জাতীয় নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করছে বলে বিবৃতিতে বলা হয়।

বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন মনে করে, দীর্ঘমেয়াদি ইজারার পরিবর্তে আন্তর্জাতিক মানের বন্দর ব্যবস্থাপনা, আধুনিক প্রযুক্তি ও বিশেষজ্ঞ সেবা নেওয়া অধিক যৌক্তিক। বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় দেশীয় কর্মীদের প্রশিক্ষিত করে নিজস্ব দক্ষ জনবল গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংগঠনটি।

সংগঠনটি জানিয়েছে, বন্দর পরিচালনায় আন্তর্জাতিক অংশীদার যুক্ত করার প্রয়োজন হলে উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে তা করতে হবে। এতে রাষ্ট্রের আর্থিক ও কৌশলগত স্বার্থ সুরক্ষিত রাখার সুযোগ তৈরি হবে।

জাতীয় নিরাপত্তা ও সংহতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ সব অস্বচ্ছ চুক্তি বাতিল এবং চট্টগ্রাম বন্দরসহ দেশের কৌশলগত স্থাপনাগুলোতে নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানায় বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন।