নিউমুরিং টার্মিনালের চুক্তি বাতিল চায় রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন
- Update Time : 09:13:07 am, Sunday, 11 October 2026
- / 2 Time View
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার প্রস্তাবিত চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন। একই সঙ্গে চুক্তির বিরোধিতা করে আন্দোলনরত শ্রমিক, রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ মানুষের ওপর পুলিশি হামলার নিন্দা জানিয়েছে সংগঠনটি।
বন্দর পরিচালনায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরশীলতা তৈরির পরিবর্তে নিজস্ব সক্ষমতা ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
রবিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব দাবি জানায় বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন।
বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে বড় টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে উদ্বেগ তৈরি করেছে। দেশের কৌশলগত ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ খাত বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে আগের সরকারগুলোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখছে বর্তমান সরকারও।
একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের নীতির সঙ্গে এ ধরনের উদ্যোগ সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল দেশের মোট কনটেইনার পরিচালনার প্রায় ৪৪ শতাংশের সঙ্গে যুক্ত। ইতিমধ্যে প্রস্তুত ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিসমৃদ্ধ এই লাভজনক টার্মিনালকে দরপত্র ছাড়াই বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ অর্থনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। এত বড় জাতীয় সিদ্ধান্তের পরও চুক্তির শর্ত, সম্ভাব্য আয়-ব্যয় এবং রাষ্ট্রের লাভ-ক্ষতির হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ না করায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সংগঠনটির দাবি, চুক্তির আগেই বন্দরের মাশুল বৃদ্ধি করা হয়েছে। পরিচালন ব্যয় বাড়লে আমদানি-রপ্তানির খরচও বাড়তে পারে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তাদের ওপর পড়বে। পাশাপাশি, পর্যাপ্ত গণআলোচনা ছাড়া কৌশলগত স্থাপনা পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার উদ্যোগ জাতীয় নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করছে বলে বিবৃতিতে বলা হয়।
বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন মনে করে, দীর্ঘমেয়াদি ইজারার পরিবর্তে আন্তর্জাতিক মানের বন্দর ব্যবস্থাপনা, আধুনিক প্রযুক্তি ও বিশেষজ্ঞ সেবা নেওয়া অধিক যৌক্তিক। বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় দেশীয় কর্মীদের প্রশিক্ষিত করে নিজস্ব দক্ষ জনবল গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংগঠনটি।
সংগঠনটি জানিয়েছে, বন্দর পরিচালনায় আন্তর্জাতিক অংশীদার যুক্ত করার প্রয়োজন হলে উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে তা করতে হবে। এতে রাষ্ট্রের আর্থিক ও কৌশলগত স্বার্থ সুরক্ষিত রাখার সুযোগ তৈরি হবে।
জাতীয় নিরাপত্তা ও সংহতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ সব অস্বচ্ছ চুক্তি বাতিল এবং চট্টগ্রাম বন্দরসহ দেশের কৌশলগত স্থাপনাগুলোতে নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানায় বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন।









