পে ফিক্সেশন সহজ করতে আইবাস++ ব্যবস্থা সংশোধনের দাবি
- Update Time : 11:46:27 am, Saturday, 10 October 2026
- / 3 Time View
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পে ফিক্সেশন প্রক্রিয়া সহজ করতে আইবাস++ ব্যবস্থায় বিভিন্ন সংশোধনের দাবি জানিয়েছে কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। সার্ভারে প্রবেশের সমস্যা, বিভিন্ন অপশনে ত্রুটি, বদলির তথ্য চাওয়া এবং স্ত্রী-সন্তানের তথ্য পুনরায় পূরণের মতো বিষয়গুলো তুলে ধরে এ আবেদন করা হয়েছে।
এতে পে ফিক্সেশন ব্যবস্থাকে আরো সহজ ও কার্যকর করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আবদুল মালেক ও মহাসচিব আশিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। আবেদনটি অতিরিক্ত হিসাব মহা নিয়ন্ত্রক (হিসাব) বরাবর পাঠানো হয়েছে। এতে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে সিজিএর।
আবেদনপত্রে বলা হয়, গত ১ অক্টোবর থেকে পাইলট প্রকল্প হিসেবে ঢাকার বিভিন্ন দপ্তর ও অধিদপ্তরে পে ফিক্সেশন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা বিভাগ ও রাজশাহী বিভাগে যথাক্রমে ১, ৫ ও ৮ অক্টোবর থেকে এ কার্যক্রম শুরু হয়। তবে কার্যক্রম শুরুর পর বিভিন্ন দপ্তর, অধিদপ্তর ও বিভাগে পে ফিক্সেশন করতে গিয়ে নানা সমস্যা দেখা যাচ্ছে।
আবেদনে প্রথমেই সার্ভার সমস্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
অনেক ক্ষেত্রে আইবাস++ ব্যবস্থায় প্রবেশ করা যাচ্ছে না। আবার কোথাও প্রবেশ করা গেলেও বিভিন্ন অপশনে ত্রুটি দেখা দিচ্ছে। যেমন, প্রথম যোগদানের পদ-পদবি নির্বাচন করতে গেলে তা পাওয়া যাচ্ছে না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নামও দেখা যাচ্ছে না।
এ সমস্যা সমাধানে প্রথম যোগদানের পদ-পদবি ও দপ্তরের নামের ক্ষেত্রে শুধু তালিকা থেকে নির্বাচন করার পরিবর্তে সরাসরি টাইপ করে লেখার ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এতে সংশ্লিষ্ট তথ্য খুঁজতে হবে না এবং কাজ সহজ হবে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিভিন্ন জেলা, উপজেলা, দপ্তর ও অধিদপ্তরে বদলির তারিখ এবং বদলির দপ্তরের তথ্য চাওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। আবেদনকারীদের মতে, এসব তথ্য উল্লেখ করতে গেলে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ ছাড়া বদলির সঙ্গে বেতনের কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করে পে ফিক্সেশন ব্যবস্থায় এ অপশন না রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
আবেদনে আরো বলা হয়েছে, অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর স্ত্রী ও সন্তানের তথ্য আগে থেকেই আইবাস++ ব্যবস্থায় দেওয়া রয়েছে। সে ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর দেওয়ার মাধ্যমে আগের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে আসার কথা। নতুন করে একই তথ্য পূরণ করতে হলে তা অপ্রয়োজনীয় জটিলতা তৈরি করে। তাই এ প্রক্রিয়া সহজ করার দাবি জানানো হয়েছে।
পে ফিক্সেশন ব্যবস্থায় অতিরিক্ত তথ্য ও অপশন থাকার বিষয়টিও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অপ্রয়োজনীয় অপশন বাদ দিলে পুরো প্রক্রিয়াটি আরো সহজ হবে বলে মনে করছেন আবেদনকারীরা।
এ ছাড়া ‘সাবস্ট্যানটিভ গ্রেড’–সংক্রান্ত একটি নির্দিষ্ট সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়েছে। যারা সাবস্ট্যানটিভ হিসেবে ১১তম গ্রেডে রয়েছেন, কিন্তু বর্তমানে সপ্তম, অষ্টম বা নবম গ্রেডে আছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ভাতা বিশেষ করে বাড়িভাড়া ভাতা যেন ১১তম গ্রেডের ভিত্তিতে দেখা যায়, সে ব্যবস্থা সিস্টেমে যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে।
আবেদনপত্রে বলা হয়, সরকারি চাকরিতে এই প্রথম আইবাস++ ব্যবস্থার মাধ্যমে পে ফিক্সেশন করা হচ্ছে। তাই প্রক্রিয়াটি যথাসম্ভব সহজ করা হলে দ্রুত পে ফিক্সেশন সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এতে ভুলের পরিমাণও কমবে এবং সংশ্লিষ্ট সবাই উপকৃত হবেন।
আবেদনকারীরা আরো বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত তথ্য অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ রাখা যেতে পারে। তবে সেগুলো সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও অধিদপ্তরভিত্তিক ধাপে ধাপে যুক্ত করার ব্যবস্থা করা সম্ভব। এতে মূল প্রক্রিয়াটি জটিল হবে না। এ অবস্থায় পে ফিক্সেশন সহজ করার লক্ষ্যে আইবাস++ ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা অথবা আরও সহজ পদ্ধতি চালুর জন্য জোর দাবি ও অনুরোধ জানিয়েছে কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি।









