স্বরাষ্ট্র সচিবকে ফোন করে কাঁদলেন এমপি মনিরুল হক
- Update Time : 02:29:41 pm, Saturday, 19 September 2026
- / 6 Time View
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে স্বরাষ্ট্রসচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীকে ফোন করে কাঁদলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঘটনাস্থল থেকে স্বরাষ্ট্রসচিবকে ফোন করেন এমপি মনিরুল হক।
এ সময় অপ্রতিমের কথা বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। স্বরাষ্ট্রসচিবকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেন তিনি।
এমপি মনিরুল হকের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এর একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। ফোনে নিজের পরিচয় দিয়ে মনিরুল হক বলেন, ‘আমি মনিরুল হক চৌধুরী বলছিলাম।
ভাই, সরি যে আমি কান্নার মধ্যে… শুনছেন তো কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এখানে কী ঘটনা ঘটেছে। আমি কল করেছি যে আপনি জানেন কি না। এই ব্যাপারে একটু ত্বরিত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।’
জবাবে অপরপ্রান্ত থেকে বলা হয়, ‘জ্বি স্যার শুনেছি।
আমরা সেটা নিয়েই ব্যবস্থার চিন্তা করছি, কী করব। আমি রিপোর্টটা পেয়েছি এবং দেখছি।’ পরে মনিরুল হক বলেন, ‘একেবারে অসহনীয় সিচুয়েশন। থ্যাংক ইউ ভেরি মাচ ফর অ্যাটেনশন।’
এদিকে, অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর তার বাসায় গিয়েছিলেন এমপি মনিরুল হক চৌধুরী।
ছেলেকে হারানোর শোকে ভেঙে পড়েন অপ্রতিমের মা ড. নাহিদা বেগম। তিনি বিলাপ করে বলেন, ‘আমার ছেলে কী অন্যায় করেছে? আমাকে জবাব দেন, আমার ছেলে কী অন্যায় করেছে? আমি কুমিল্লায় চাকরি করতে এসেছি, এটা কি আমার অন্যায়? আমার ছেলে কী অন্যায় করেছে, আমি এটার জবাব চাই?’
নাহিদা বেগম আরো বলেন, ‘আমি কোনো বিচার চাই না, আমাকে এর উত্তর দিতে হবে। আমার ছোট্ট একটা ছেলে, সে কি অন্যায় করেছে। তার কী অন্যায় ছিল, আমি শুধু জানতে চাই। এটা কোন দেশ?’
তিনি বলেন, ‘আমার তো একটাই ছেলে। আমি কেমনে আমার জীবন কাটাব? আমি আমার জীবন পার করব কেমনে? আমারে একটু সবাই বলেন, আমি আমার জীবনটা পার করব কেমনে।’
অপ্রতিমের মায়ের এসব কথা শুনে এমপি মনিরুল হক চৌধুরী কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, ‘এর কোনো জবাব আমার কাছে নেই মা।’
এর আগে আজ দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার জঙ্গল থেকে ইশায়াতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ইশায়াত কোটবাড়ি এলাকার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকায় মা-বাবার সঙ্গে থাকত সে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে গতকাল শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয়েছিল ইশায়াত। পরে আর বাসায় ফেরেনি। এরপর তার মরদেহ উদ্ধার করা হলো।







