Dhaka 3:07 pm, Monday, 19 October 2026
সর্বশেষ
নৈতিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার তাগিদ শিক্ষামন্ত্রীর ‘গুজব’ বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ করলেন ইশরাক ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের নাগরিক সেবা ‘মাইগভ’ প্ল্যাটফর্মের উদ্বোধন হাসিনা আমলের চোর-সন্ত্রাসী-মানি লন্ডারারদের দেশে ফেরানো অগ্রাধিকার তালিকায় ১০০ ফিট সড়কে অবৈধ দখল, নজরদারি কি শুধু কাগজে? লালনের আখড়া বাড়ি থেকে বোমা উদ্ধার ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যপথ বন্ধ করল পাকিস্তান, বড় সংকটের শঙ্কা হরিনারায়ণপুর বাজারে জনদুর্ভোগ চরমে,নেই সিসি ক্যামেরা , দুর্বল ড্রেনেজ, সড়ক দখলে যানজট মালয়েশিয়ায় ২৮৭ দিনে বাংলাদেশীসহ আটক ৬৫ হাজার জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশে ৪ বছর অত্যন্ত ঘটনাবহুল ও স্মরণীয় : চীনের বিদায়ি রাষ্ট্রদূত

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 12:12:34 pm, Friday, 18 September 2026
  • / 19 Time View

বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনকে এক বিদায়ি মধ্যাহ্নভোজের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক বিদায় জানিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় এই বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 

পররাষ্ট্র সচিব সিয়াম বাংলাদেশে প্রায় চার বছরের মেয়াদে বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরো দৃঢ় করতে সক্রিয় সহযোগিতা ও মূল্যবান অবদানের জন্য রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

গত জুন ২০২৬-এ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, এই সফর দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক ছিল। এর মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক ‘নতুন যুগে চীন-বাংলাদেশ অভিন্ন ভাগ্যের অংশীদারি’ উন্নীত হয়েছে।

সফরটি সফল করতে এবং যৌথ ইশতেহার জারিতে চীনের সহযোগিতার প্রশংসাও করেন তিনি। 

পররাষ্ট্র সচিব সিয়াম দুই দেশের চলমান সহযোগিতার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র তুলে ধরেন, যার মধ্যে রয়েছে- তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা প্রকল্প এবং নদী ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক সহযোগিতা। চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর। বাংলাদেশে চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (CEIZ) প্রতিষ্ঠা।

তিনি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সংযোগ (কানেক্টিভিটি), অবকাঠামো এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে এই দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার গতি বজায় রাখা এবং তা আরো সম্প্রসারণের ওপর জোর দেন। বিদায়ি রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন তাকে সম্মানিত করার জন্য পররাষ্ট্র সচিবকে ধন্যবাদ জানান এবং বাংলাদেশে তার প্রায় চার বছরের মেয়াদকে অত্যন্ত ঘটনাবহুল ও স্মরণীয় বলে অভিহিত করেন।

তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফর এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর কথা স্মরণ করেন। পাশাপাশি, বাংলাদেশে অবস্থানরত চীনা নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের কার্যক্রম সহজতর করার জন্য বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

রাষ্ট্রদূত ইয়াও তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্প, পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এবং প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক করিডোরের কাজ দ্রুত শুরু হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বহুপক্ষীয় ফোরামগুলোতে বাংলাদেশের প্রতি চীনের ধারাবাহিক সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ের সহায়তায় চীনের পক্ষ থেকে ৮,০০,০০০ মার্কিন ডলার অনুদান প্রদানের কথা উল্লেখ করেন বিদায়ি রাষ্ট্রদূত। 

উভয় পক্ষই দৃঢ় আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করে যে, আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব ও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা আরো গভীর ও সুদূরপ্রসারী হবে। মধ্যাহ্নভোজ শেষে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন পারস্পরিক উপহার বিনিময় করেন। চীনা রাষ্ট্রদূতের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের সাফল্য ও শুভকামনা জানান পররাষ্ট্র সচিব।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বাংলাদেশে ৪ বছর অত্যন্ত ঘটনাবহুল ও স্মরণীয় : চীনের বিদায়ি রাষ্ট্রদূত

Update Time : 12:12:34 pm, Friday, 18 September 2026

বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনকে এক বিদায়ি মধ্যাহ্নভোজের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক বিদায় জানিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় এই বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 

পররাষ্ট্র সচিব সিয়াম বাংলাদেশে প্রায় চার বছরের মেয়াদে বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরো দৃঢ় করতে সক্রিয় সহযোগিতা ও মূল্যবান অবদানের জন্য রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

গত জুন ২০২৬-এ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, এই সফর দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক ছিল। এর মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক ‘নতুন যুগে চীন-বাংলাদেশ অভিন্ন ভাগ্যের অংশীদারি’ উন্নীত হয়েছে।

সফরটি সফল করতে এবং যৌথ ইশতেহার জারিতে চীনের সহযোগিতার প্রশংসাও করেন তিনি। 

পররাষ্ট্র সচিব সিয়াম দুই দেশের চলমান সহযোগিতার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র তুলে ধরেন, যার মধ্যে রয়েছে- তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা প্রকল্প এবং নদী ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক সহযোগিতা। চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর। বাংলাদেশে চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (CEIZ) প্রতিষ্ঠা।

তিনি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সংযোগ (কানেক্টিভিটি), অবকাঠামো এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে এই দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার গতি বজায় রাখা এবং তা আরো সম্প্রসারণের ওপর জোর দেন। বিদায়ি রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন তাকে সম্মানিত করার জন্য পররাষ্ট্র সচিবকে ধন্যবাদ জানান এবং বাংলাদেশে তার প্রায় চার বছরের মেয়াদকে অত্যন্ত ঘটনাবহুল ও স্মরণীয় বলে অভিহিত করেন।

তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফর এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর কথা স্মরণ করেন। পাশাপাশি, বাংলাদেশে অবস্থানরত চীনা নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের কার্যক্রম সহজতর করার জন্য বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

রাষ্ট্রদূত ইয়াও তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্প, পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এবং প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক করিডোরের কাজ দ্রুত শুরু হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বহুপক্ষীয় ফোরামগুলোতে বাংলাদেশের প্রতি চীনের ধারাবাহিক সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ের সহায়তায় চীনের পক্ষ থেকে ৮,০০,০০০ মার্কিন ডলার অনুদান প্রদানের কথা উল্লেখ করেন বিদায়ি রাষ্ট্রদূত। 

উভয় পক্ষই দৃঢ় আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করে যে, আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব ও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা আরো গভীর ও সুদূরপ্রসারী হবে। মধ্যাহ্নভোজ শেষে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন পারস্পরিক উপহার বিনিময় করেন। চীনা রাষ্ট্রদূতের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের সাফল্য ও শুভকামনা জানান পররাষ্ট্র সচিব।