Dhaka 8:29 pm, Wednesday, 9 September 2026
সর্বশেষ
সিরিয়ায় অস্ত্রের গুদামে বিস্ফোরণ, নিহত ১৪ উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ ও টেকসই অংশীদারি বাড়াতে হবে সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ৪২ কোটি টাকার ইয়াবা জব্দ করল বিজিবি কানাডায় গায়কের গাড়ি লক্ষ্য করে সাত রাউন্ড গুলি! ছয় মাসে রেলওয়ের আয় বেড়েছে ২২৫ কোটি টাকা : রেলমন্ত্রী থাইল্যান্ডের এআইটি পরিদর্শনে মাভাবিপ্রবি উপাচার্য, গবেষণায় যৌথ কাজের পরিকল্পনা ‘জুলাইযোদ্ধা’ শব্দটা বিকৃত করে অনেক মানুষ ফায়দা লুটেছে : আরশ খান বাল্যবিবাহের অপরাধে কেরানীগঞ্জে বরসহ ৩ জনের কারাদণ্ড ট্রাক্টরের রড ঢুকে বাসচালক নিহত, আহত ১০ যাত্রী শিক্ষাব্যবস্থায় এআই ব্যবহারে জোর দেওয়া হচ্ছে : শিক্ষামন্ত্রী

ঘুমন্ত সাবেক স্ত্রীর মুখে এসিড, স্বামীর যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 01:55:28 pm, Wednesday, 9 September 2026
  • / 0 Time View

ফরিদপুরে ঘুমন্ত সাবেক স্ত্রীর মুখে এসিড নিক্ষেপ করে ঝলসে দেওয়ার মামলায় জুয়েল রানা (৩৭) নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৬০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

জরিমানার টাকা আদায় করে ক্ষতিগ্রস্ত নারীকে দেওয়ার জন্য জেলা কালেক্টরকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। 

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুরের এসিড অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল ও অতিরিক্ত দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক আবু হাসান খায়রুল্লাহ এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশ পাহারায় তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, জুয়েল রানা ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হারানহাট ইউনিয়নের দোগাছি গ্রামের বাসিন্দা। ২০১৮ সালে একই জেলার হরিপুর ইউনিয়নের সোনিয়া খাতুনের (৩৫) সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বনিবনা না হওয়ায় ২০২১ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তাদের তালাক হয়।

তালাকের পর সোনিয়া ফরিদপুরের মধুখালী পৌরসভার পশ্চিম গাড়াখোলা মহল্লায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘বীজ’র শাখায় চাকরি নেন।

তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের দোতলার একটি কক্ষে থাকতেন। তালাকের পরও জুয়েল তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। এ ঘটনায় ২০২২ সালের ১৯ আগস্ট সোনিয়া ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। 

এরপর ২০২২ সালের ১০ সেপ্টেম্বর রাত আড়াইটার দিকে জুয়েল ওই ভবনের নিচে গিয়ে সোনিয়াকে ডাকাডাকি ও গালাগাল করেন। সোনিয়া কোনো সাড়া না দেওয়ায় জুয়েল ভবনের পাশের একটি আমগাছে উঠে দোতলার খোলা জানালা দিয়ে ঘুমন্ত সোনিয়ার ওপর এসিড ছুড়ে মারেন।

এতে তার মুখ, গলা, ডান হাতসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায়। 

এ ঘটনায় পরদিন ১১ সেপ্টেম্বর সোনিয়ার বাবা মো. মতিয়ার রহমান বাদী হয়ে জুয়েল রানাকে আসামি করে মধুখালী থানায় এসিড অপরাধ দমন আইনে মামলা করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ননী গোপাল সরকার তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি জুয়েল রানাকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৬০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন।

আদালতের ভারপ্রাপ্ত পিপি রফিকুল ইসলাম বলেন, এসিড নিক্ষেপ একটি জঘন্যতম অপরাধ। যার ওপর এসিড নিক্ষেপ করা হয়, তার জন্য এটি মৃত্যুর সমান। এ জঘন্য অপরাধে যাবজ্জীবন সাজা হওয়ায় রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট। আশা করি, এ রায়ের ফলে সমাজে এ ধরনের অপরাধ কমে আসবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ঘুমন্ত সাবেক স্ত্রীর মুখে এসিড, স্বামীর যাবজ্জীবন

Update Time : 01:55:28 pm, Wednesday, 9 September 2026

ফরিদপুরে ঘুমন্ত সাবেক স্ত্রীর মুখে এসিড নিক্ষেপ করে ঝলসে দেওয়ার মামলায় জুয়েল রানা (৩৭) নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৬০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

জরিমানার টাকা আদায় করে ক্ষতিগ্রস্ত নারীকে দেওয়ার জন্য জেলা কালেক্টরকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। 

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুরের এসিড অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল ও অতিরিক্ত দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক আবু হাসান খায়রুল্লাহ এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশ পাহারায় তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, জুয়েল রানা ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হারানহাট ইউনিয়নের দোগাছি গ্রামের বাসিন্দা। ২০১৮ সালে একই জেলার হরিপুর ইউনিয়নের সোনিয়া খাতুনের (৩৫) সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বনিবনা না হওয়ায় ২০২১ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তাদের তালাক হয়।

তালাকের পর সোনিয়া ফরিদপুরের মধুখালী পৌরসভার পশ্চিম গাড়াখোলা মহল্লায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘বীজ’র শাখায় চাকরি নেন।

তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের দোতলার একটি কক্ষে থাকতেন। তালাকের পরও জুয়েল তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। এ ঘটনায় ২০২২ সালের ১৯ আগস্ট সোনিয়া ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। 

এরপর ২০২২ সালের ১০ সেপ্টেম্বর রাত আড়াইটার দিকে জুয়েল ওই ভবনের নিচে গিয়ে সোনিয়াকে ডাকাডাকি ও গালাগাল করেন। সোনিয়া কোনো সাড়া না দেওয়ায় জুয়েল ভবনের পাশের একটি আমগাছে উঠে দোতলার খোলা জানালা দিয়ে ঘুমন্ত সোনিয়ার ওপর এসিড ছুড়ে মারেন।

এতে তার মুখ, গলা, ডান হাতসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায়। 

এ ঘটনায় পরদিন ১১ সেপ্টেম্বর সোনিয়ার বাবা মো. মতিয়ার রহমান বাদী হয়ে জুয়েল রানাকে আসামি করে মধুখালী থানায় এসিড অপরাধ দমন আইনে মামলা করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ননী গোপাল সরকার তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি জুয়েল রানাকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৬০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন।

আদালতের ভারপ্রাপ্ত পিপি রফিকুল ইসলাম বলেন, এসিড নিক্ষেপ একটি জঘন্যতম অপরাধ। যার ওপর এসিড নিক্ষেপ করা হয়, তার জন্য এটি মৃত্যুর সমান। এ জঘন্য অপরাধে যাবজ্জীবন সাজা হওয়ায় রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট। আশা করি, এ রায়ের ফলে সমাজে এ ধরনের অপরাধ কমে আসবে।