হত্যা মামলায় ফের গ্রেপ্তার সাবেক এমপি আ স ম ফিরোজ
- Update Time : 10:03:14 am, Wednesday, 9 September 2026
- / 5 Time View
জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে শিক্ষার্থী নাইম হাওলাদার হত্যা এবং তারেক চৌকিদারকে হত্যাচেষ্টা মামলায় পটুয়াখালী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আ স ম ফিরোজকে ফের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) তদন্ত কর্মকর্তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হকের আদালত তাকে দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন-অর-রশীদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
নাইম হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই নাজিম উদ্দিন ফকির এবং তারেক চৌকিদারকে হত্যাচেষ্টা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার এসআই রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া গত ৩ সেপ্টেম্বর পৃথক আবেদনে আ স ম ফিরোজকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। ওইদিন আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য বুধবার দিন ধার্য করেন।
বুধবার শুনানির জন্য আ স ম ফিরোজকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।
আদালতে নেওয়ার পথে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘এক মামলায় দুই বছরের সাজা খাটলাম। জামিন হয়েছে। আবার অ্যারেস্ট দেখাল।’
আওয়ামী লীগ জাতির কাছে ক্ষমা চাইবে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি চাইলে তো হবে না।
যে ক্ষমা চাওয়ার যোগ্য, সে ক্ষমা চাইবে যদি প্রয়োজন মনে করে। আমি মনে করি না এ মুহূর্তে ক্ষমা চাওয়ার প্রয়োজন আছে।’
পরে তাকে এজলাসে নেওয়া হলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন-অর-রশীদ গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে শুনানি করেন। আ স ম ফিরোজের পক্ষে আইনজীবী কামাল হোসেন বিশ্বাস ও শফিকুল ইসলাম স্বপন গ্রেপ্তার না দেখানোর পক্ষে শুনানি করেন।
এরপর আদালতের অনুমতি নিয়ে আ স ম ফিরোজ বলেন, ‘আমার বয়স ৭৮ বছর।
দুই বছরের বেশি সময় ধরে কারাগারে আছি। আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি। আটবারের সংসদ সদস্য। আমি কোনো অন্যায়-অবিচার করিনি। কোনো অপরাধ করিনি। আমি অসুস্থ, আমাকে চিকিৎসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এক মামলায় জামিন পেলে, নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখায়।’
শুনানি শেষে আদালত তাকে দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে তার চিকিৎসার জন্য আবেদন করা হলে আদালত কারাবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই দুপুর দেড়টার দিকে জুলাই আন্দোলনের সময় যাত্রাবাড়ী থানার উত্তর কুতুবখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে অবস্থান করছিলেন নাইম হাওলাদার। এ সময় বাম কাঁধের সামনের দিকে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পরে মামলা করা হয়।
মামলার বিবরণে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই যাত্রাবাড়ী থানাধীন এলাকায় তারেক তৌকিদারের রুমমেট শিহাব ছাদে গুলিবিদ্ধ হন। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তারেকও গুলিবিদ্ধ হন। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ২৬ মার্চ বাদী হয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করেন তারেক।
২০২৪ সালের ২৩ আগস্ট রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে আ স ম ফিরোজকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
আ স ম ফিরোজের আরেক আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীন বলেন, ‘চার মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান তিনি। তিনি যখন কারামুক্ত হবেন, তখনই তাকে এ দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো। তিনি যেন কারামুক্ত হতে না পারেন, এজন্য তাকে নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো।’