মিয়ামি বিমানবন্দরে অ্যামাজনের কার্গো বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৫
- Update Time : 03:54:00 am, Tuesday, 8 September 2026
- / 6 Time View
যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অ্যামাজনের একটি কার্গো বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরো পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
গত রবিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার দিকে পুয়ের্তো রিকোর সান হুয়ান থেকে আসা বিমানটি রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে। এরপর এটি বিমানবন্দরের পাশে থাকা গুদাম ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ব্যবহৃত একটি সড়ক পার হয়ে কয়েকটি যানবাহনে সজোরে ধাক্কা লাগে।
মিয়ামি-ডেড কাউন্টি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আহত পাঁচজনের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বাকি দুজন তুলনামূলক কম গুরুতর আহত হয়েছেন।
নিহতদের সবাই গাড়িতে ছিলেন কি না তা জানা যায়নি। এছাড়া বিমানের দুই পাইলট বেঁচে আছেন কি না—তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মিয়ামি-ডেড ফায়ার সার্ভিসের প্রধান রে জাদাল্লাহ জানান, দুর্ঘটনার পর বিমানের ককপিটে পাইলট ও কো-পাইলট আটকা পড়েন। কয়েকজন গাড়ির ভেতরেও আটকা পড়েছিলেন।
একটি গাড়ির নিচে চাপা পড়া একজনকে উদ্ধার করতে হয়েছে দমকলকর্মীদের।
দুর্ঘটনার পর আকাশে ঘন কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে এবং বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বিকেলজুড়ে ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়। প্রায় ২০০ জন জরুরি উদ্ধারকর্মী ঘটনাস্থলে কাজ করেন। সেখানে পৌঁছে তারা বিমানটিকে আগুন ও ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন অবস্থায় দেখতে পান। বিমানের ইঞ্জিনের অংশে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল বলে জানা গেছে।
বিমানবন্দরের বিশেষায়িত অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও কয়েক ঘণ্টা পরও বিমান থেকে জ্বালানি লিক হওয়ার বিষয়টি উদ্বেগের কারণ হয়ে ছিল।
ছবিতে দেখা যায়, অ্যামাজনের প্রাইম এয়ারের বিমানটি একটি সড়কের পাশে পেটের অংশের ওপর পড়ে আছে এবং কাছেই দুটি বড় ট্রাক রয়েছে। আগুন লাগলেও বিমানটির কাঠামো অনেকটাই অক্ষত রয়েছে।
দুর্ঘটনার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। আবহাওয়ার কোনো ভূমিকা ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় ওই এলাকায় বজ্রঝড় এবং ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩০ মাইল (৪৮ কিলোমিটার) বেগে দমকা বাতাস ছিল।
বিমানটি পরিচালনা করছিল নর্থ ক্যারোলাইনাভিত্তিক কার্গো পরিবহন সংস্থা ২১ এয়ার। ৩২ বছর বয়সী বোয়িং ৭৬৭ বিমানটি মূলত যাত্রীবাহী বিমান হিসেবে তৈরি হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে এটি বিভিন্ন এয়ারলাইনসে ব্যবহৃত হয় এবং ২০১৫ সালে কার্গো বিমানে রূপান্তর করা হয়।
দুর্ঘটনার কারণে মিয়ামি বিমানবন্দরে ব্যাপক ফ্লাইট বিপর্যয় দেখা দেয়। ফ্লাইটঅ্যাওয়ার তথ্য অনুযায়ী, রবিবার দিনের শেষ নাগাদ ১৬০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল এবং প্রায় ৩২৫টি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়। কিছু ফ্লাইট মিয়ামি থেকে ২০০ মাইলেরও বেশি উত্তরে অবস্থিত অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সরিয়ে নেওয়া হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) জানিয়েছে, সংস্থাটির চেয়ারম্যান জেনিফার হোমেন্ডির নেতৃত্বে একটি তদন্তকারী দল মিয়ামিতে পাঠানো হচ্ছে।
অ্যামাজন জানিয়েছে, তারা তদন্তে সহযোগিতা করবে এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে।
বিমান নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তদন্তকারীরা প্রথমে খতিয়ে দেখবেন বিমানটি নির্ধারিত ল্যান্ডিং জোনের মধ্যে অবতরণ করেছিল কি না। পাশাপাশি, বিমানটি যদি রানওয়ের অনেকটা ভেতরে গিয়ে অবতরণ করে থাকে, তাহলে কেন পাইলটরা অবতরণ বাতিল করে পুনরায় আকাশে ওঠার সিদ্ধান্ত নেননি, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে।
অবসরপ্রাপ্ত ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের পাইলট ও বিমান নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ স্টিভ অ্যারোইয়ো বলেন, অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে সাধারণত বোয়িং ৭৬৭ বিমান দুজন পাইলট—একজন পাইলট ও একজন কো-পাইলট—দিয়ে পরিচালিত হয়। তবে দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে অতিরিক্ত পাইলট প্রয়োজন হতে পারে।
সাবেক মার্কিন পরিবহন বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেল মেরি শিয়াভো বলেন, অবতরণের ভিডিওতে বিমানটিকে রানওয়ের ওপর দীর্ঘ সময় আকাশে ভাসতে দেখা গেছে বলে মনে হয়েছে। এরপর সেটি রানওয়েতে অবতরণ করে।
তিনি আরো উল্লেখ করেন, মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রানওয়ে ছাড়িয়ে যাওয়া বিমান থামানোর জন্য বিশেষভাবে নির্মিত ‘ইঞ্জিনিয়ারড অ্যারেস্টিং সিস্টেম’ নেই। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) জানিয়েছে, দেশটির ১২০টির বেশি বিমানবন্দরে এ ধরনের ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে, যা শত শত মানুষের জীবন রক্ষায় সহায়তা করেছে।