মালয়েশিয়ায় বাণিজ্য বাড়াতে নতুন খাতে সহযোগিতার ওপর জোর
- Update Time : 08:34:17 am, Tuesday, 8 September 2026
- / 7 Time View
বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) ২০২৭ সালের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে সেমিকন্ডাক্টর, হালাল শিল্প, ডিজিটাল অর্থনীতি, আধুনিক উৎপাদন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, অবকাঠামো ও কৃষিসহ নতুন খাতে সহযোগিতা বাড়াতে চায় মালয়েশিয়া।
সোমবার ঢাকায় মালয়েশিয়ার ৬৯তম জাতীয় দিবস ও ৬৩তম মালয়েশিয়া দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেশটির হাইকমিশনার মোহাম্মদ শুহাদা উসমান এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।
হাইকমিশনার বলেন, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য প্রায় ৮৩ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার মালয়েশিয়া।
এখন বিদ্যমান অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে আরো এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া এফটিএ নিয়ে আলোচনা চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০২৭ সালের মধ্যে চুক্তিটি সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে।
শুহাদা উসমান বলেন, দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক শুধু প্রচলিত খাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নতুন সম্ভাবনাময় খাতে সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সেমিকন্ডাক্টর, হালাল শিল্প, ডিজিটাল অর্থনীতি, আধুনিক উৎপাদন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, অবকাঠামো, নগর ব্যবস্থাপনা, ইসলামী অর্থায়ন ও কৃষিতে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সফরের কথা উল্লেখ করে হাইকমিশনার বলেন, সফরটি দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এটি বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসেরও প্রতিফলন।
অনুষ্ঠানে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে যেসব চুক্তি ও সমঝোতা হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিতে হবে। চুক্তিগুলো যেন শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থাকে, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেন তিনি।
তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পাশাপাশি প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও অন্যান্য নতুন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের অবদানের কথাও তুলে ধরেন হাইকমিশনার। তিনি বলেন, দুই দেশের মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের শক্তিশালী যোগাযোগ রয়েছে। বর্তমানে মালয়েশিয়ায় ১০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন।
এ সময় ‘ভিজিট মালয়েশিয়া ২০২৬–২৭’ কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশিদের মালয়েশিয়া ভ্রমণের আমন্ত্রণ জানান তিনি। পর্যটনের পাশাপাশি চিকিৎসা পর্যটনেও বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ায় সুযোগ রয়েছে বলে জানান হাইকমিশনার।
গত বছর দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে সমঝোতা স্মারক সইয়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সামরিক প্রশিক্ষণ ও প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতার মাধ্যমে এই কাঠামো আরো কার্যকর করার বিষয়ে দুই দেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার বাংলাদেশের প্রতি তার দেশের সংহতি পুনর্ব্যক্ত করেন। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ, স্বেচ্ছামূলক ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পক্ষে মালয়েশিয়ার সমর্থনের কথাও জানান তিনি।
বাংলাদেশের আসিয়ানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পৃক্ততার আকাঙ্ক্ষাকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, এ প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়া গঠনমূলকভাবে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
এ ছাড়া বাংলাদেশকে আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব (আরসিইপি) জোটে যোগদানের আকাঙ্ক্ষায় মালয়েশিয়ার সমর্থনের কথা জানান হাইকমিশনার।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বেরও প্রশংসা করেন তিনি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সংলাপ, সহযোগিতা ও অভিন্ন স্বার্থ এগিয়ে নিতে তার নেতৃত্বে মালয়েশিয়া সহযোগিতা করবে বলে জানান শুহাদা উসমান।