Dhaka 5:49 pm, Tuesday, 8 September 2026
সর্বশেষ
বেদেপল্লির ৪০ পরিবারকে খাসজমি, ২৫ জনকে সেলাই মেশিন দিল জেলা প্রশাসন মালয়েশিয়ায় বাণিজ্য বাড়াতে নতুন খাতে সহযোগিতার ওপর জোর বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল চালু ১৬ ডিসেম্বর : বিমানমন্ত্রী ‘মেরে ফেলার হুমকি পেয়েছি!’—বরখাস্ত হওয়ার পর বাংলাদেশ কোচের বিস্ফোরক দাবি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ ৪১ বছর ধরে পরিত্যক্ত ভবনে আদালতের কার্যক্রম অস্ত্রের সন্ধান দিলে মিলবে পুরস্কার, গোপন থাকবে পরিচয় আপিল বিভাগে উচ্চবাচ্য : এজলাস ছাড়লেন প্রধান বিচারপতি অভিনেত্রী বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় ছাত্রদল সভাপতির নিন্দা ইউএনও কার্যালয়ে হাসিমুখে ঘুষ গ্রহণ, সেই নারী কর্মকর্তার বদলি

৪১ বছর ধরে পরিত্যক্ত ভবনে আদালতের কার্যক্রম

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 08:25:37 am, Tuesday, 8 September 2026
  • / 8 Time View

 ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল ১৯৮৫ সালে। এরপর কেটে গেছে ৪১ বছর।

ভবনের বয়স এখন প্রায় ১৫০ বছর। অথচ ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটিতেই প্রতিদিন বসছে আদালত। বিচারক শুনছেন মামলা, আইনজীবীরা দাঁড়াচ্ছেন যুক্তিতর্কে; আর ন্যায়বিচারের আশায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন বিচারপ্রার্থীরা। 

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, যে ভবনে বিচার হচ্ছে, সেটি এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

ভেতরে স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ। টিনের ছাউনির আদালত ভবনের বিভিন্ন অংশ জরাজীর্ণ। অনেক জায়গায় পলেস্তারা খসে পড়েছে। সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছে ভবনের ওপর দিয়ে যাওয়া ১১ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ লাইন।

 নেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা ও সীমানাপ্রাচীর।  

ভবনে কর্মরতরা জানান, বৃষ্টি হলে টিনের ছিদ্র দিয়ে পানি পড়ে আদালত কক্ষে। এতে গুরুত্বপূর্ণ মামলার নথি ও অন্যান্য  কাগজপত্র নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। তারা জানান, প্রতিদিন বিচারক, আইনজীবী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শত শত বিচারপ্রার্থীকে এই ঝুঁকি নিয়েই আদালত প্রাঙ্গণে আসতে হচ্ছে। শুধু ভবন নয়, সীমানাপ্রাচীরের সংকটও রয়েছে।

ফলে বিচারকদের খাসকামরা, চেম্বার, বাসভবন, আদালত ভবন ও সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। 

কর্মরতরা আরো জানান, একদিকে ৪১ বছর ধরে পরিত্যক্ত ভবনে বিচার, অন্যদিকে বিচারকের সংকট ও মামলার পাহাড় এই তিন সংকটে দক্ষিণ চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক কেন্দ্র পটিয়া এখন কার্যত ভারাক্রান্ত। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৮৮২ সালে ব্রিটিশ সরকারের আমলে নির্মাণ করা হয় পটিয়া আদালত ভবন। একই বছর ভবনটিতে চৌকি আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। ১৯৮৫ সালে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে গণপূর্ত বিভাগ। কিন্তু নতুন ভবন নির্মাণ না হওয়ায় পরিত্যক্ত ভবনেই চলছে বিচারিক কার্যক্রম। 

এদিকে, নতুন আদালত ভবন নির্মাণে ১৯৯১ সালে প্রায় ছয় কোটি টাকা এবং ২০১০ সালে প্রায় ২১ কোটি টাকার প্রকল্পের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনোটিই বাস্তবায়িত হয়নি। এবার বিষয়টি উঠেছে জাতীয় সংসদে। চট্টগ্রাম ১২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক এনাম দ্রুত আধুনিক আদালত কমপ্লেক্স নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। 

জবাবে সংসদে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানান, পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ আদালত ভবনগুলো পর্যায়ক্রমে আধুনিকায়ন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন ভবন নির্মাণ সরকারের বিচার অবকাঠামো উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ।

পটিয়া আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তানজিনা জাহান বলেন, বর্ষাকালে আদালতে কর্মরত ও বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে। টিনের ছিদ্র দিয়ে ভেতরে পানি পড়ে। এতে মামলার গুরুত্বপূর্ণ নথি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকায় বিচারকদের খাসকামরা, চেম্বার, বাসভবন, সড়ক ও আদালত ভবনসহ পুরো এলাকায় নিরাপত্তাহীনতা রয়েছে। 

অ্যাড. তানজিনা আরো বলেন, এটি শুধু পুরনো ভবনের সমস্যা নয়; এর সঙ্গে বিচারক, আইনজীবী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও হাজার হাজার বিচারপ্রার্থীর নিরাপত্তা এবং বিচারসেবার মান জড়িত। পটিয়ার ঐতিহ্য রক্ষার পাশাপাশি বর্তমান সময়ের চাহিদা বিবেচনায় দ্রুত একটি আধুনিক বহুতল আদালত কমপ্লেক্স নির্মাণ করা প্রয়োজন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

৪১ বছর ধরে পরিত্যক্ত ভবনে আদালতের কার্যক্রম

Update Time : 08:25:37 am, Tuesday, 8 September 2026

 ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল ১৯৮৫ সালে। এরপর কেটে গেছে ৪১ বছর।

ভবনের বয়স এখন প্রায় ১৫০ বছর। অথচ ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটিতেই প্রতিদিন বসছে আদালত। বিচারক শুনছেন মামলা, আইনজীবীরা দাঁড়াচ্ছেন যুক্তিতর্কে; আর ন্যায়বিচারের আশায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন বিচারপ্রার্থীরা। 

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, যে ভবনে বিচার হচ্ছে, সেটি এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

ভেতরে স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ। টিনের ছাউনির আদালত ভবনের বিভিন্ন অংশ জরাজীর্ণ। অনেক জায়গায় পলেস্তারা খসে পড়েছে। সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছে ভবনের ওপর দিয়ে যাওয়া ১১ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ লাইন।

 নেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা ও সীমানাপ্রাচীর।  

ভবনে কর্মরতরা জানান, বৃষ্টি হলে টিনের ছিদ্র দিয়ে পানি পড়ে আদালত কক্ষে। এতে গুরুত্বপূর্ণ মামলার নথি ও অন্যান্য  কাগজপত্র নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। তারা জানান, প্রতিদিন বিচারক, আইনজীবী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শত শত বিচারপ্রার্থীকে এই ঝুঁকি নিয়েই আদালত প্রাঙ্গণে আসতে হচ্ছে। শুধু ভবন নয়, সীমানাপ্রাচীরের সংকটও রয়েছে।

ফলে বিচারকদের খাসকামরা, চেম্বার, বাসভবন, আদালত ভবন ও সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। 

কর্মরতরা আরো জানান, একদিকে ৪১ বছর ধরে পরিত্যক্ত ভবনে বিচার, অন্যদিকে বিচারকের সংকট ও মামলার পাহাড় এই তিন সংকটে দক্ষিণ চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক কেন্দ্র পটিয়া এখন কার্যত ভারাক্রান্ত। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৮৮২ সালে ব্রিটিশ সরকারের আমলে নির্মাণ করা হয় পটিয়া আদালত ভবন। একই বছর ভবনটিতে চৌকি আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। ১৯৮৫ সালে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে গণপূর্ত বিভাগ। কিন্তু নতুন ভবন নির্মাণ না হওয়ায় পরিত্যক্ত ভবনেই চলছে বিচারিক কার্যক্রম। 

এদিকে, নতুন আদালত ভবন নির্মাণে ১৯৯১ সালে প্রায় ছয় কোটি টাকা এবং ২০১০ সালে প্রায় ২১ কোটি টাকার প্রকল্পের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনোটিই বাস্তবায়িত হয়নি। এবার বিষয়টি উঠেছে জাতীয় সংসদে। চট্টগ্রাম ১২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক এনাম দ্রুত আধুনিক আদালত কমপ্লেক্স নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। 

জবাবে সংসদে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানান, পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ আদালত ভবনগুলো পর্যায়ক্রমে আধুনিকায়ন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন ভবন নির্মাণ সরকারের বিচার অবকাঠামো উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ।

পটিয়া আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তানজিনা জাহান বলেন, বর্ষাকালে আদালতে কর্মরত ও বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে। টিনের ছিদ্র দিয়ে ভেতরে পানি পড়ে। এতে মামলার গুরুত্বপূর্ণ নথি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকায় বিচারকদের খাসকামরা, চেম্বার, বাসভবন, সড়ক ও আদালত ভবনসহ পুরো এলাকায় নিরাপত্তাহীনতা রয়েছে। 

অ্যাড. তানজিনা আরো বলেন, এটি শুধু পুরনো ভবনের সমস্যা নয়; এর সঙ্গে বিচারক, আইনজীবী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও হাজার হাজার বিচারপ্রার্থীর নিরাপত্তা এবং বিচারসেবার মান জড়িত। পটিয়ার ঐতিহ্য রক্ষার পাশাপাশি বর্তমান সময়ের চাহিদা বিবেচনায় দ্রুত একটি আধুনিক বহুতল আদালত কমপ্লেক্স নির্মাণ করা প্রয়োজন।