Dhaka 10:28 am, Monday, 2 November 2026
সর্বশেষ
মেহেরপুর সীমান্তে সাড়ে ৭ কোটি টাকার স্বর্ণের বারসহ আটক ২ সব অফিসের জন্য সরকারের জরুরি নির্দেশ শ্রমিক বিক্ষোভে ৩ শতাধিক পোশাক কারখানা ছুটি জামায়াতের রাজনৈতিক ইতিহাস স্বৈরাচারের কাছে নতজানু হওয়ার : রিজভী রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র : সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাফিজ ৪ দিনের রিমান্ডে ১৫০০ শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাসামগ্রী উপহার বেসরকারি মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজ ছাত্রদলের ৪ নভেম্বর থেকে সারা দেশে গ্যাসের সরবরাহ কমবে শাহবাগে পৃথক স্থান থেকে নারীসহ দুজনের মরদেহ উদ্ধার উপকূলের সংকট সমাধানে সর্বদলীয় রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের আহ্বান যৌথ মহড়া ‘কোপ সাউথ’ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ বিমানবাহিনী

রূপগঞ্জে কৃষিজমি ও বসতভিটা রক্ষায় মানববন্ধন, জলসিঁড়ি প্রকল্প বন্ধের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 10:17:03 am, Friday, 28 August 2026
  • / 97 Time View

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ও রূপগঞ্জ ইউনিয়নের কৃষিজমি ও বসতভিটা রক্ষার দাবিতে রাজধানীতে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা। তাঁদের অভিযোগ, জমি ক্রয় না করেই জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের নামে বিভিন্ন এলাকায় বালু ভরাট, রাস্তা নির্মাণ এবং ভবিষ্যতে উচ্ছেদের প্রস্তুতি চলছে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘পৈতৃক ভিটা-মাটি সংরক্ষণ পরিষদ’-এর উদ্যোগে মানববন্ধন হয়। পরে দুপুর ১২টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করে সংগঠনটি।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষে লিখিত বক্তব্য দেন আহ্বায়ক/সদস্য সচিব আহসান উল্লাহ। এ সময় আলহাজ্ব আবু বকর সিদ্দিক, রফিকুল ইসলাম, সার্জেন্ট ইলিয়াস পারভেজ, আবদুস সালাম, আহসান উল্লাহ মাস্টার, আইনজীবী নাজমুল ইসলাম ও প্রভাষক নুর সালাম বক্তব্য দেন।

ভুক্তভোগীরা বলেন, তাঁদের আন্দোলন দেশের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নয়। জলসিঁড়ি প্রকল্পের নামে জমি দখল, বালু ভরাট ও স্থানীয় মানুষের বসতভিটা হারানোর আশঙ্কার প্রতিবাদেই তাঁরা আন্দোলন করছেন।

লিখিত বক্তব্যে দাবি করা হয়, ২০১০ সালে কায়েতপাড়া ও রূপগঞ্জ ইউনিয়নের ১৭টি মৌজার প্রায় ৭ হাজার বিঘা কৃষিজমি অধিগ্রহণ ছাড়াই দখলের চেষ্টা করা হয়েছিল। এ সময় স্থানীয় লোকজন প্রতিবাদ করলে তাঁদের বিরুদ্ধে হামলা ও মামলা করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়। পরে বালু ভরাটের মাধ্যমে তিন ফসলি কৃষিজমির একটি অংশ দখল করা হয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জমির মালিকদের ভয়ভীতি দেখানো এবং স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহযোগিতায় জলসিঁড়ি প্রকল্প-১-এর কার্যক্রম শুরু হয়। পরে জলসিঁড়ি প্রকল্প-২-এর জন্য কায়েতপাড়া ও রূপগঞ্জ ইউনিয়নের কৃষিজমি ও বসতভিটা অন্তর্ভুক্ত করে একটি সীমানা নির্দেশক নকশা তৈরি করা হয়েছে। ওই নকশার ভিত্তিতে জমি ক্রয় না করেই বিভিন্ন স্থানে বালু ভরাট করা হচ্ছে বলে তাঁদের অভিযোগ।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানায় দুই শতাধিক বাসিন্দা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এ ছাড়া শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনও করেছেন তাঁরা। সহকারী পুলিশ সুপারের মাধ্যমে রূপগঞ্জ থানায় জমির আরএস দাগ নম্বর উল্লেখ করে প্রায় শতাধিক অভিযোগ জমা দেওয়ার কথাও জানানো হয়।

ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কাছেও স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। তবে বারবার আবেদন করার পরও কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।

সংবাদ সম্মেলনে রূপগঞ্জের ইচ্ছাখালী খাল বালু দিয়ে ভরাট করে দেওয়ার অভিযোগও করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে খালটি নৌচলাচল, কৃষিজমিতে সেচ এবং মাছ আহরণের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় আশপাশের প্রায় ২৪টি গ্রামের মানুষ জলাবদ্ধতার সমস্যায় পড়েছেন। তাঁরা দ্রুত খাল থেকে বালু অপসারণ, পুনঃখনন এবং নৌচলাচলের উপযোগী করে দেওয়ার দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলন থেকে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে নয় দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—জমি ক্রয় ছাড়া বালু ভরাট ও রাস্তা নির্মাণ বন্ধ করা, ইচ্ছাখালী খাল পুনঃখনন, আবাসন প্রকল্পের সুনির্দিষ্ট সীমানা ও মানচিত্র প্রকাশ, বসতবাড়ির বাইরে প্রকল্প স্থাপন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

রূপগঞ্জে কৃষিজমি ও বসতভিটা রক্ষায় মানববন্ধন, জলসিঁড়ি প্রকল্প বন্ধের দাবি

Update Time : 10:17:03 am, Friday, 28 August 2026

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ও রূপগঞ্জ ইউনিয়নের কৃষিজমি ও বসতভিটা রক্ষার দাবিতে রাজধানীতে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা। তাঁদের অভিযোগ, জমি ক্রয় না করেই জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের নামে বিভিন্ন এলাকায় বালু ভরাট, রাস্তা নির্মাণ এবং ভবিষ্যতে উচ্ছেদের প্রস্তুতি চলছে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘পৈতৃক ভিটা-মাটি সংরক্ষণ পরিষদ’-এর উদ্যোগে মানববন্ধন হয়। পরে দুপুর ১২টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করে সংগঠনটি।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষে লিখিত বক্তব্য দেন আহ্বায়ক/সদস্য সচিব আহসান উল্লাহ। এ সময় আলহাজ্ব আবু বকর সিদ্দিক, রফিকুল ইসলাম, সার্জেন্ট ইলিয়াস পারভেজ, আবদুস সালাম, আহসান উল্লাহ মাস্টার, আইনজীবী নাজমুল ইসলাম ও প্রভাষক নুর সালাম বক্তব্য দেন।

ভুক্তভোগীরা বলেন, তাঁদের আন্দোলন দেশের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নয়। জলসিঁড়ি প্রকল্পের নামে জমি দখল, বালু ভরাট ও স্থানীয় মানুষের বসতভিটা হারানোর আশঙ্কার প্রতিবাদেই তাঁরা আন্দোলন করছেন।

লিখিত বক্তব্যে দাবি করা হয়, ২০১০ সালে কায়েতপাড়া ও রূপগঞ্জ ইউনিয়নের ১৭টি মৌজার প্রায় ৭ হাজার বিঘা কৃষিজমি অধিগ্রহণ ছাড়াই দখলের চেষ্টা করা হয়েছিল। এ সময় স্থানীয় লোকজন প্রতিবাদ করলে তাঁদের বিরুদ্ধে হামলা ও মামলা করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়। পরে বালু ভরাটের মাধ্যমে তিন ফসলি কৃষিজমির একটি অংশ দখল করা হয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জমির মালিকদের ভয়ভীতি দেখানো এবং স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহযোগিতায় জলসিঁড়ি প্রকল্প-১-এর কার্যক্রম শুরু হয়। পরে জলসিঁড়ি প্রকল্প-২-এর জন্য কায়েতপাড়া ও রূপগঞ্জ ইউনিয়নের কৃষিজমি ও বসতভিটা অন্তর্ভুক্ত করে একটি সীমানা নির্দেশক নকশা তৈরি করা হয়েছে। ওই নকশার ভিত্তিতে জমি ক্রয় না করেই বিভিন্ন স্থানে বালু ভরাট করা হচ্ছে বলে তাঁদের অভিযোগ।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানায় দুই শতাধিক বাসিন্দা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এ ছাড়া শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনও করেছেন তাঁরা। সহকারী পুলিশ সুপারের মাধ্যমে রূপগঞ্জ থানায় জমির আরএস দাগ নম্বর উল্লেখ করে প্রায় শতাধিক অভিযোগ জমা দেওয়ার কথাও জানানো হয়।

ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কাছেও স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। তবে বারবার আবেদন করার পরও কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।

সংবাদ সম্মেলনে রূপগঞ্জের ইচ্ছাখালী খাল বালু দিয়ে ভরাট করে দেওয়ার অভিযোগও করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে খালটি নৌচলাচল, কৃষিজমিতে সেচ এবং মাছ আহরণের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় আশপাশের প্রায় ২৪টি গ্রামের মানুষ জলাবদ্ধতার সমস্যায় পড়েছেন। তাঁরা দ্রুত খাল থেকে বালু অপসারণ, পুনঃখনন এবং নৌচলাচলের উপযোগী করে দেওয়ার দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলন থেকে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে নয় দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—জমি ক্রয় ছাড়া বালু ভরাট ও রাস্তা নির্মাণ বন্ধ করা, ইচ্ছাখালী খাল পুনঃখনন, আবাসন প্রকল্পের সুনির্দিষ্ট সীমানা ও মানচিত্র প্রকাশ, বসতবাড়ির বাইরে প্রকল্প স্থাপন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা।