Dhaka 10:31 am, Monday, 18 May 2026

ফ্যাসিস্ট ঠিকাদারদের সুবিধা দিতে মরিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 02:34:07 pm, Sunday, 17 May 2026
  • / 43 Time View

চুয়াডাঙ্গার শিক্ষা প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন

ফ্যাসিস্ট সময়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া বিতর্কিত দেলোয়ার হোসেন এখনও আগের ফ্যাসিস্টের সুবিধাভোগি ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিতে মরিয়া। তিনি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে সম্প্রতি দুটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের অনুক’লে টেন্ডার অনুমোদনের জন্য সুপারিশ পাঠিয়েছেন। এ নিয়ে সাধারণ ঠিকাদারদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ ভবন নির্মাণের টেন্ডারে তিনি বসুন্ধরা হাউজ বিল্ডার্স প্রতিষ্ঠান যার আইডি নং ১১৯০১৬৩ কে ৮.২ ভাগ লেসে কাজ পাইয়ে দেওয়ার সুপারিশ করেছেন। এই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিক এসএম ওমর ফারুক, তিনি নওগাঁ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। এই প্রতিষ্ঠানের চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি ফরিদ সাবেক ছাত্রলীগ নেতা। গত ফ্যাসিস্ট সময়ে তারা দাপট দেখিয়ে সব কাজ নিয়ন্ত্রনে নিয়েছিল।
অন্যদিকে গ্লাক্সি এসোসিয়েটস, সৌরভ জেভি যার আইডি নং ১১৯০১৬৪, ৭.৫ ভাগ লেসে এই প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার সুপারিশ করেছেন দেলোয়ার হোসেন। এই প্রতিষ্ঠানের কর্ণধর শামসুল আলম বহুল আলোচিত কুষ্টিয়া সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুব উল আলম হানিফের চাচাতো ভাই উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতার ব্যাবসায়ীক পার্টনার। কুষ্টিয়া মজমপুরের এই শামসুলও ফ্যাসিস্ট সময়ে অবৈধভাবে সব সুবিধা ভোগ করেছেন।

এই দুটি কাজে বিভিন্ন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ ১৮ ভাগ পর্যন্তও লেস দিয়ে আবেদন করেছেন। সব ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে আবেদনের প্রায় তিন থেকে চার মাস ধরে প্রতিটি দরপত্রের অনুক’লে প্রায় চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা ব্যাংকে জামানত রাখতে হয়।

নির্বাহী প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে অনিয়মের মাধ্যমে ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিয়ে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি চাকুরিজীবনে নানা অনিয়মে জড়িয়ে নামে বেনামে বিপুল অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন বলেও জানা গেছে। ডিপ্লোমা প্রকৌশলী হিসেবে চাকুরি জীবন শুরু করে তিনি সর্বশেষ ধাপে জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। আর দুবছর চাকুরির মেয়াদ আছেন, এ সময়ে তিনি ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজস করে ইচ্ছেমতো টেন্ডার ভাগাভাগি করছেন। সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে তিনি কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য নিজেই ঠিকাদারদের মধ্যে নিজের কমিশনের টেন্ডার আহ্বান করেন। তাকে যে ঠিকাদার সর্বোচ্চ কমিশন দিতে চান, নানা ফন্দি ফিকির করে তিনি তাকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।
কুষ্টিয়ার ছেলে এই প্রকৌশলী এলাকাতে নামে-বেনামে গড়ে তুলেছেন বিপুল সম্পদ। তিনি কুষ্টিয়া শহরের হরিশংকরপুর রেল গেট এলাকায় প্রায় এক বিঘা জমি রয়েছে, সেখানে গড়ে তুলেছেন চারতল্য একটি সুরম্য অট্টালিকা। শহরের আড়ুয়াপাড়া স্ত্রী ও নিজের নামে রয়েছে ছয় কাঠা জমি, পরিবারের জন্য রয়েছে একটি নতুন মডেলের দামি গাড়ি। তিনি নিজের এলাকায় বিপুল ধানি জমি, গরুর খামার ও নানামুখী ব্যবসা গড়ে তুলেছেন। এ বিষয়ে প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, দুএকটা কাজের টেন্ডারে নিজের ক্ষমতাবলে কিছুটা অনিয়ম তিনি করেছেন। অর্থ সম্পদের বিষয়ে বাড়ি ও জমির কথা স্বীকার করলেও গাড়ির বিষয়টি অস্বীকার করেন, শহরের আডুয়াপাড়ার জমিও তার নামে না বলে জানান। তিনি জানান, তার স্ত্রীর গরুরর খামার ও স্টকের ব্যবসা রয়েছে, তার নামে ট্যাক্স ফাইলও আছে। তার সব সম্পদ বৈধ বলে তিনি দাবি করেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ফ্যাসিস্ট ঠিকাদারদের সুবিধা দিতে মরিয়া

Update Time : 02:34:07 pm, Sunday, 17 May 2026

চুয়াডাঙ্গার শিক্ষা প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন

ফ্যাসিস্ট সময়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া বিতর্কিত দেলোয়ার হোসেন এখনও আগের ফ্যাসিস্টের সুবিধাভোগি ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিতে মরিয়া। তিনি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে সম্প্রতি দুটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের অনুক’লে টেন্ডার অনুমোদনের জন্য সুপারিশ পাঠিয়েছেন। এ নিয়ে সাধারণ ঠিকাদারদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ ভবন নির্মাণের টেন্ডারে তিনি বসুন্ধরা হাউজ বিল্ডার্স প্রতিষ্ঠান যার আইডি নং ১১৯০১৬৩ কে ৮.২ ভাগ লেসে কাজ পাইয়ে দেওয়ার সুপারিশ করেছেন। এই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিক এসএম ওমর ফারুক, তিনি নওগাঁ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। এই প্রতিষ্ঠানের চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি ফরিদ সাবেক ছাত্রলীগ নেতা। গত ফ্যাসিস্ট সময়ে তারা দাপট দেখিয়ে সব কাজ নিয়ন্ত্রনে নিয়েছিল।
অন্যদিকে গ্লাক্সি এসোসিয়েটস, সৌরভ জেভি যার আইডি নং ১১৯০১৬৪, ৭.৫ ভাগ লেসে এই প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার সুপারিশ করেছেন দেলোয়ার হোসেন। এই প্রতিষ্ঠানের কর্ণধর শামসুল আলম বহুল আলোচিত কুষ্টিয়া সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুব উল আলম হানিফের চাচাতো ভাই উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতার ব্যাবসায়ীক পার্টনার। কুষ্টিয়া মজমপুরের এই শামসুলও ফ্যাসিস্ট সময়ে অবৈধভাবে সব সুবিধা ভোগ করেছেন।

এই দুটি কাজে বিভিন্ন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ ১৮ ভাগ পর্যন্তও লেস দিয়ে আবেদন করেছেন। সব ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে আবেদনের প্রায় তিন থেকে চার মাস ধরে প্রতিটি দরপত্রের অনুক’লে প্রায় চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা ব্যাংকে জামানত রাখতে হয়।

নির্বাহী প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে অনিয়মের মাধ্যমে ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিয়ে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি চাকুরিজীবনে নানা অনিয়মে জড়িয়ে নামে বেনামে বিপুল অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন বলেও জানা গেছে। ডিপ্লোমা প্রকৌশলী হিসেবে চাকুরি জীবন শুরু করে তিনি সর্বশেষ ধাপে জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। আর দুবছর চাকুরির মেয়াদ আছেন, এ সময়ে তিনি ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজস করে ইচ্ছেমতো টেন্ডার ভাগাভাগি করছেন। সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে তিনি কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য নিজেই ঠিকাদারদের মধ্যে নিজের কমিশনের টেন্ডার আহ্বান করেন। তাকে যে ঠিকাদার সর্বোচ্চ কমিশন দিতে চান, নানা ফন্দি ফিকির করে তিনি তাকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।
কুষ্টিয়ার ছেলে এই প্রকৌশলী এলাকাতে নামে-বেনামে গড়ে তুলেছেন বিপুল সম্পদ। তিনি কুষ্টিয়া শহরের হরিশংকরপুর রেল গেট এলাকায় প্রায় এক বিঘা জমি রয়েছে, সেখানে গড়ে তুলেছেন চারতল্য একটি সুরম্য অট্টালিকা। শহরের আড়ুয়াপাড়া স্ত্রী ও নিজের নামে রয়েছে ছয় কাঠা জমি, পরিবারের জন্য রয়েছে একটি নতুন মডেলের দামি গাড়ি। তিনি নিজের এলাকায় বিপুল ধানি জমি, গরুর খামার ও নানামুখী ব্যবসা গড়ে তুলেছেন। এ বিষয়ে প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, দুএকটা কাজের টেন্ডারে নিজের ক্ষমতাবলে কিছুটা অনিয়ম তিনি করেছেন। অর্থ সম্পদের বিষয়ে বাড়ি ও জমির কথা স্বীকার করলেও গাড়ির বিষয়টি অস্বীকার করেন, শহরের আডুয়াপাড়ার জমিও তার নামে না বলে জানান। তিনি জানান, তার স্ত্রীর গরুরর খামার ও স্টকের ব্যবসা রয়েছে, তার নামে ট্যাক্স ফাইলও আছে। তার সব সম্পদ বৈধ বলে তিনি দাবি করেন।