Dhaka 11:29 pm, Saturday, 30 May 2026

জুমার খুতবা না শুনলে কি গুনাহ হয়?

ইসলামিক ডেস্ক
  • Update Time : 07:16:53 am, Friday, 10 April 2026
  • / 73 Time View

জুমার দিনের গুরুত্ব অপরিসীম। ‘জুমা’ শব্দটি আসলে ‘জমা’ শব্দ থেকে এসেছে, যা আরবি শব্দ; এর অর্থ হচ্ছে একত্র হওয়া বা একত্রিত করা। এ দিনটি উপলক্ষে আগে আগে মসজিদে গিয়ে উপস্থিত হওয়া মহাপুরস্কারের ঘোষণার বাহক।

অনেকে প্রতি সপ্তাহে জানতে চান, “জুমার খুতবা না শুনলে কি গুনাহ হয়?”

এটির উত্তর সম্পর্কে ফুকাহায়ে কেরাম বলছেন, জুমার জামাত আদায় হওয়ার জন্য খুতবা দেওয়া একটি শর্ত। কিন্তু, যদি কোনো মুসল্লি খুতবা শুনতে না পারেন, তাহলে তার জুমার নামাজ শুদ্ধ হবে না—এমন কী বলা হয়নি। তবে, জুমার দিনে আগে আগে মসজিদে যাওয়া উচিত। বিশেষ করে, আজান দেয়ার পর কোনো কাজে লিপ্ত না হয়ে, সরাসরি নামাজের প্রস্তুতি নিয়ে মসজিদে চলে যাওয়া এবং খুতবা শোনা কর্তব্য।
মহান আল্লাহ বলেন, “হে মুমিনগণ! জুমার দিন যখন নামাজের জন্য ডাকা হয়, তখন আল্লাহর জিকিরের দিকে ধাবিত হও এবং বেচা-কেনা ছেড়ে দাও। এটাই তোমাদের জন্য শ্রেয়, যদি তোমরা বোঝ।” (সুরা জুমা: ৯)

নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “জুমার দিন সপ্তাহের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং তা আল্লাহর কাছে অধিক সম্মানিত।” (ইবনে মাজাহ: ১০৮৪)

জুমার দিন তাড়াতাড়ি এবং সবার আগে মসজিদে যাওয়ার বহু সওয়াব রয়েছে। অনেক হাদিসে উল্লেখ আছে, জুমার নামাজের জন্য যে যত তাড়াতাড়ি মসজিদে আসবে, সে তত বেশি সওয়াব পাবে।

হজরত আউস ইবনে আউস (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছিলেন, “আমি আল্লাহর রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করে, সময় মতো মসজিদে আসে, আসার সময় হেঁটে আসে, কোনো বাহনে চড়বে না, ইমামের কাছাকাছি বসবে, পরে দুটি খুতবা মনোযোগ দিয়ে শুনবে এবং খুতবার সময় কোনো অনর্থক কাজ করবে না, সে মসজিদে আসার প্রতিটি কদমে একবছর নফল রোজা ও একবছর নফল নামাজের সওয়াব পাবে।'” (আবু দাউদ: ৩৪৫)
আরেক হাদিসে নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “জুমার দিনে ফেরেশতারা মসজিদের দরজায় দাঁড়িয়ে প্রথম থেকেই আগন্তুকদের নাম লিখতে থাকেন। যে সবার আগে আসে, সে ওই ব্যক্তির মতো- যে একটি উট সদকা করে। এরপর যে আসে, সে ওই ব্যক্তির মতো- যে একটি গাভী সদকা করে। পরে আগমনকারী- তিনি মুরগি সদকাকারীর মতো। এরপর পরবর্তী আগমনকারী- একটি ডিম সদকাকারীর মতো। এবং যখন ইমাম খুতবা দিতে বের হন, তখন ফেরেশতারা তাদের দফতর বন্ধ করে দেন এবং মনোযোগ দিয়ে খুতবা শুনতে থাকেন।” (বুখারি: ৮৮২)

এসকাগজ/আরডি

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জুমার খুতবা না শুনলে কি গুনাহ হয়?

Update Time : 07:16:53 am, Friday, 10 April 2026

জুমার দিনের গুরুত্ব অপরিসীম। ‘জুমা’ শব্দটি আসলে ‘জমা’ শব্দ থেকে এসেছে, যা আরবি শব্দ; এর অর্থ হচ্ছে একত্র হওয়া বা একত্রিত করা। এ দিনটি উপলক্ষে আগে আগে মসজিদে গিয়ে উপস্থিত হওয়া মহাপুরস্কারের ঘোষণার বাহক।

অনেকে প্রতি সপ্তাহে জানতে চান, “জুমার খুতবা না শুনলে কি গুনাহ হয়?”

এটির উত্তর সম্পর্কে ফুকাহায়ে কেরাম বলছেন, জুমার জামাত আদায় হওয়ার জন্য খুতবা দেওয়া একটি শর্ত। কিন্তু, যদি কোনো মুসল্লি খুতবা শুনতে না পারেন, তাহলে তার জুমার নামাজ শুদ্ধ হবে না—এমন কী বলা হয়নি। তবে, জুমার দিনে আগে আগে মসজিদে যাওয়া উচিত। বিশেষ করে, আজান দেয়ার পর কোনো কাজে লিপ্ত না হয়ে, সরাসরি নামাজের প্রস্তুতি নিয়ে মসজিদে চলে যাওয়া এবং খুতবা শোনা কর্তব্য।
মহান আল্লাহ বলেন, “হে মুমিনগণ! জুমার দিন যখন নামাজের জন্য ডাকা হয়, তখন আল্লাহর জিকিরের দিকে ধাবিত হও এবং বেচা-কেনা ছেড়ে দাও। এটাই তোমাদের জন্য শ্রেয়, যদি তোমরা বোঝ।” (সুরা জুমা: ৯)

নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “জুমার দিন সপ্তাহের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং তা আল্লাহর কাছে অধিক সম্মানিত।” (ইবনে মাজাহ: ১০৮৪)

জুমার দিন তাড়াতাড়ি এবং সবার আগে মসজিদে যাওয়ার বহু সওয়াব রয়েছে। অনেক হাদিসে উল্লেখ আছে, জুমার নামাজের জন্য যে যত তাড়াতাড়ি মসজিদে আসবে, সে তত বেশি সওয়াব পাবে।

হজরত আউস ইবনে আউস (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছিলেন, “আমি আল্লাহর রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করে, সময় মতো মসজিদে আসে, আসার সময় হেঁটে আসে, কোনো বাহনে চড়বে না, ইমামের কাছাকাছি বসবে, পরে দুটি খুতবা মনোযোগ দিয়ে শুনবে এবং খুতবার সময় কোনো অনর্থক কাজ করবে না, সে মসজিদে আসার প্রতিটি কদমে একবছর নফল রোজা ও একবছর নফল নামাজের সওয়াব পাবে।'” (আবু দাউদ: ৩৪৫)
আরেক হাদিসে নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “জুমার দিনে ফেরেশতারা মসজিদের দরজায় দাঁড়িয়ে প্রথম থেকেই আগন্তুকদের নাম লিখতে থাকেন। যে সবার আগে আসে, সে ওই ব্যক্তির মতো- যে একটি উট সদকা করে। এরপর যে আসে, সে ওই ব্যক্তির মতো- যে একটি গাভী সদকা করে। পরে আগমনকারী- তিনি মুরগি সদকাকারীর মতো। এরপর পরবর্তী আগমনকারী- একটি ডিম সদকাকারীর মতো। এবং যখন ইমাম খুতবা দিতে বের হন, তখন ফেরেশতারা তাদের দফতর বন্ধ করে দেন এবং মনোযোগ দিয়ে খুতবা শুনতে থাকেন।” (বুখারি: ৮৮২)

এসকাগজ/আরডি