জলবায়ু সহনশীল কৃষি ও খাদ্যনিরাপত্তায় আঞ্চলিক সহযোগিতার তাগিদ
- Update Time : 02:06:17 pm, Tuesday, 13 October 2026
- / 3 Time View
দক্ষিণ এশিয়ায় খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলা এবং টেকসই কৃষিব্যবস্থা গড়ে তুলতে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের তাগিদ দিয়েছেন কৃষি খাত সংশ্লিষ্টরা। তারা বলেছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্যের ক্ষয় এবং কৃষিজমির ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ দক্ষিণ এশিয়ার কৃষি ও খাদ্যব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে যৌথ গবেষণা, প্রযুক্তি বিনিময় ও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ঢাকায় সার্ক কৃষি কেন্দ্রের ১৮তম পরিচালনা পর্ষদের সভার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। সভায় বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপের প্রতিনিধিরা সরাসরি এবং ভারত ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা ভার্চুয়ালি অংশ নেন।
উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন সার্ক কৃষি কেন্দ্রের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারপারসন ও নেপালের প্রতিনিধি শবনাম শিবাকোটি।
তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের জীবন-জীবিকা টিকিয়ে রাখতে খাদ্য, পশুখাদ্য ও আঁশজাতীয় পণ্যের গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এ অঞ্চলের কৃষি উৎপাদন এবং খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তা ক্রমাগত হুমকির মুখে পড়ছে। এসব অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সদস্য দেশগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
প্রধান অতিথি কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গতিশীল ও টেকসই কৃষিব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।
এ জন্য সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক অংশীদারি জোরদার করতে হবে। আন্তসীমান্ত উদ্ভিদ ও প্রাণীর রোগবালাইসহ অভিন্ন সমস্যাগুলো মোকাবেলায় সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।
তিনি বলেন, জ্ঞান বিনিময় এবং যৌথভাবে সমস্যার সমাধান উদ্ভাবনের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো কৃষি খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আরো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। টেকসই ও সমৃদ্ধ দক্ষিণ এশিয়া গড়ে তুলতে সার্ক কৃষি কেন্দ্রের কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. আবদুস সালাম এবং কাঠমান্ডুতে অবস্থিত সার্ক সচিবালয়ের পরিচালক (এআরডি ও এসডিএফ) তানভীর আহমেদ তরফদার।
তিনি সার্ক মহাসচিবের প্রতিনিধি হিসেবে অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
আবদুস সালাম দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর অভিন্ন কৃষি চ্যালেঞ্জ এবং জীববৈচিত্র্যের ক্ষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি কম কার্বন নিঃসরণকারী কৃষি উৎপাদনব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন। তার মতে, টেকসই কৃষি উৎপাদন নিশ্চিত করা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এগিয়ে নিতে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
তানভীর আহমেদ তরফদার বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জলবায়ু সহনশীল কৃষিব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। কৃষিজমির ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ ভবিষ্যতে খাদ্য উৎপাদন ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের খাদ্যনিরাপত্তা সুরক্ষায় টেকসই কৃষিচর্চা অনুসরণ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করতে হবে।
সার্ক কৃষি কেন্দ্রের পরিচালক ড. মো. গোলাম মাহবুব সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে কৃষি সহযোগিতা জোরদারে কেন্দ্রের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, যৌথ গবেষণা, জ্ঞান বিনিময়, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কৃষিপ্রযুক্তি ও উত্তম কৃষিচর্চার আদান-প্রদানের মাধ্যমে আঞ্চলিক সহযোগিতা আরো সম্প্রসারণ করা সম্ভব। টেকসই কৃষি উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়া এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় সক্ষম খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে সদস্য দেশগুলোর অংশীদারি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সভায় সার্কভুক্ত দেশগুলোর কৃষি খাতের অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা, গবেষণা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।









