Dhaka 1:36 pm, Sunday, 11 October 2026
সর্বশেষ
সাংবাদিক আমির খসরুর মৃত্যুতে তথ্যমন্ত্রীর গভীর শোক সাজেকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ, আটকা সহস্রাধিক পর্যটক টেকসই জ্বালানি নিয়ে জাতীয় ধারণা প্রতিযোগিতা ‘স্ফুরণ’ শুরু কুষ্টিয়া সীমান্তে ৪ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা বিএসএফের, প্রতিহত করল বিজিবি আটক ৪ জনকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার দেখাল পুলিশ মোহাম্মদপুরে সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার অটোরিকশাচালকদের, যান চলাচল শুরু নারায়ণগঞ্জে পৃথক ৩ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ ৬ আইপিইউ সম্মেলনে অংশগ্রহণ শেষে দেশে ফিরলেন স্পিকার দুই ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সৌদি আরবে হুতিদের হামলা : বাংলাদেশ থেকে রিয়াদের ৫ ফ্লাইট বাতিল

দুই ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 06:10:21 am, Sunday, 11 October 2026
  • / 3 Time View

দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুরে প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। নিরাপত্তা ভালভের পরীক্ষার ফলাফল অনুমোদন করেছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ।

এর ফলে চুল্লির পরবর্তী পর্যায়ের কমিশনিং কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সব কারিগরি পরীক্ষা ও নিরাপত্তা কার্যক্রম সম্পন্ন হলে আগামী মাসে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে। 

প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে তাপ উৎপাদন শুরুর পরিকল্পনা ছিল গত সেপ্টেম্বরে। তবে নিরাপত্তা ভালভের পরীক্ষায় ত্রুটি ধরা পড়ায় কার্যক্রম পিছিয়ে যায়।

পরে উচ্চ চাপে দুই দফা পরীক্ষা শেষে ফলাফল নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়। গত বৃহস্পতিবার পরীক্ষার ফলাফল অনুমোদন করা হয়েছে। 

পরবর্তী ধাপে চুল্লিতে নিয়ন্ত্রিত ও স্বনির্ভর পারমাণবিক শৃঙ্খল বিক্রিয়া প্রতিষ্ঠা করা হবে। এ পর্যায়কে বলা হয় ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’।

এরপর চুল্লির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হবে। পর্যায়ক্রমে তাপ উৎপাদনক্ষমতা বাড়িয়ে টারবাইন চালু এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতি নেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পরীক্ষামূলক উৎপাদন থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যেতে আরও সময় প্রয়োজন হবে। 

রাশিয়ার কারিগরি সহায়তায় নির্মিত রূপপুর কেন্দ্রের প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদনক্ষমতা এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট।

তৃতীয় প্রজন্মের ভিভিইআর-১২০০ প্রযুক্তির এ কেন্দ্রের দুটি ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে মোট দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। প্রকল্প-সংশ্লিষ্টদের হিসাব অনুযায়ী, এ বিদ্যুৎ দেশের মোট চাহিদার প্রায় ১০ শতাংশ পূরণ করতে পারবে। 

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পারমাণবিক শক্তি উইংয়ের যুগ্ম সচিব শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে বলেন, রূপপুর শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকল্প নয়; এটি দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের বড় সুযোগ। প্রথম ইউনিট উৎপাদনের প্রস্তুতির চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। দ্বিতীয় ইউনিটের ইউরেনিয়ামও প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে।

একই উইংয়ের অতিরিক্ত সচিবের মতে, কেন্দ্রটি চালু হলে জাতীয় গ্রিড শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি শিল্প উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহের মাধ্যমে শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল করতে রূপপুর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে।

কেন্দ্রটির পরিকল্পিত আয়ুষ্কাল ৬০ বছর। প্রয়োজনীয় সংস্কার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন সাপেক্ষে তা আরও ২০ থেকে ৩০ বছর বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। তবে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা পরীক্ষা ও নির্দিষ্ট সময় পর পারমাণবিক জ্বালানি পরিবর্তন করতে হবে।

রূপপুর প্রকল্পের ধারণা স্বাধীনতার পরপরই আলোচনায় আসে। দীর্ঘ প্রস্তুতি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ধারাবাহিকতায় রাশিয়ার সহায়তায় বর্তমান প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে প্রকল্প এলাকায় পারমাণবিক জ্বালানি পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে কেন্দ্রটি কমিশনিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে প্রবেশ করে। এখন প্রথম ইউনিটে পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরুর অপেক্ষা।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

দুই ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ

Update Time : 06:10:21 am, Sunday, 11 October 2026

দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুরে প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। নিরাপত্তা ভালভের পরীক্ষার ফলাফল অনুমোদন করেছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ।

এর ফলে চুল্লির পরবর্তী পর্যায়ের কমিশনিং কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সব কারিগরি পরীক্ষা ও নিরাপত্তা কার্যক্রম সম্পন্ন হলে আগামী মাসে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে। 

প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে তাপ উৎপাদন শুরুর পরিকল্পনা ছিল গত সেপ্টেম্বরে। তবে নিরাপত্তা ভালভের পরীক্ষায় ত্রুটি ধরা পড়ায় কার্যক্রম পিছিয়ে যায়।

পরে উচ্চ চাপে দুই দফা পরীক্ষা শেষে ফলাফল নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়। গত বৃহস্পতিবার পরীক্ষার ফলাফল অনুমোদন করা হয়েছে। 

পরবর্তী ধাপে চুল্লিতে নিয়ন্ত্রিত ও স্বনির্ভর পারমাণবিক শৃঙ্খল বিক্রিয়া প্রতিষ্ঠা করা হবে। এ পর্যায়কে বলা হয় ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’।

এরপর চুল্লির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হবে। পর্যায়ক্রমে তাপ উৎপাদনক্ষমতা বাড়িয়ে টারবাইন চালু এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতি নেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পরীক্ষামূলক উৎপাদন থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যেতে আরও সময় প্রয়োজন হবে। 

রাশিয়ার কারিগরি সহায়তায় নির্মিত রূপপুর কেন্দ্রের প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদনক্ষমতা এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট।

তৃতীয় প্রজন্মের ভিভিইআর-১২০০ প্রযুক্তির এ কেন্দ্রের দুটি ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে মোট দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। প্রকল্প-সংশ্লিষ্টদের হিসাব অনুযায়ী, এ বিদ্যুৎ দেশের মোট চাহিদার প্রায় ১০ শতাংশ পূরণ করতে পারবে। 

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পারমাণবিক শক্তি উইংয়ের যুগ্ম সচিব শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে বলেন, রূপপুর শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকল্প নয়; এটি দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের বড় সুযোগ। প্রথম ইউনিট উৎপাদনের প্রস্তুতির চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। দ্বিতীয় ইউনিটের ইউরেনিয়ামও প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে।

একই উইংয়ের অতিরিক্ত সচিবের মতে, কেন্দ্রটি চালু হলে জাতীয় গ্রিড শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি শিল্প উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহের মাধ্যমে শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল করতে রূপপুর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে।

কেন্দ্রটির পরিকল্পিত আয়ুষ্কাল ৬০ বছর। প্রয়োজনীয় সংস্কার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন সাপেক্ষে তা আরও ২০ থেকে ৩০ বছর বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। তবে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা পরীক্ষা ও নির্দিষ্ট সময় পর পারমাণবিক জ্বালানি পরিবর্তন করতে হবে।

রূপপুর প্রকল্পের ধারণা স্বাধীনতার পরপরই আলোচনায় আসে। দীর্ঘ প্রস্তুতি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ধারাবাহিকতায় রাশিয়ার সহায়তায় বর্তমান প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে প্রকল্প এলাকায় পারমাণবিক জ্বালানি পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে কেন্দ্রটি কমিশনিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে প্রবেশ করে। এখন প্রথম ইউনিটে পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরুর অপেক্ষা।