প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফর ঘিরে ব্যস্ত প্রশাসন ও নেতাকর্মীরা
- Update Time : 07:20:19 am, Saturday, 26 September 2026
- / 5 Time View
সরকার গঠনের পর প্রথমবার ফেনী যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বর সফরের ঘোষণা করা হলেও সেটি পিছিয়ে ১ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত প্রশাসন, বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। প্রশাসন দফায় দফায় বৈঠকের পাশাপাশি বিএনপি নেতারাও সভা করছেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে জেলার উন্নয়নের পাশাপাশি নানা দাবি সামনে আনছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা। আলোচনায় রয়েছে ফেনীতে একটি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠা করার বিষয়টিও।
ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু বলেন, ফেনী সদর হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করা, ফেনী-বিলোনিয়া রেলপথ ফের চালু করা এবং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবিও প্রধানমন্ত্রীর কাছে ইতিমধ্যেই তুলে ধরা হয়েছে।
জেলা যুবদলের আহ্বায়ক নাসির খন্দকার ফেনীতে মেডিক্যাল কলেজের জোর দাবি তোলেন।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে সব ধরনের প্রস্তুতির কথা জানান জেলা প্রশাসক মো. মাহবুবউল করিম। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ততার কারণে ১৭ সেপ্টেম্বরের সফরটি স্থগিত করা হলেও ১ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী ফেনী আগমন করবেন।
এ জন্য পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় স্থানীয় প্রশাসন এবং বিএনপির পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে।
সম্প্রতি একনেকে অনুমোদিত ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকার ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি নিষ্কাশন’ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। তার আগমনকে কেন্দ্র করে পরশুরাম-সুবার বাজার সড়কের মুহুরী নদীর তীরে উদ্বোধনী ফলক ও জনসভাস্থল প্রস্তুতের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (এসএসএফ) ইতিমধ্যে প্রস্তাবিত অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন করেছে। এ ছাড়া পরশুরাম মডেল সরকারি পাইলট স্কুল মাঠে হেলিপ্যাড নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে এবং ফেনী-পরশুরাম প্রধান সড়কের সংযোগস্থলে মেরামত ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চালাচ্ছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ।
পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতনু বড়ুয়া জানান, সভাস্থলে বিশুদ্ধ পানির ট্যাংক ও পোর্টেবল টয়লেট স্থাপনসহ সার্বিক প্রস্তুতি সমন্বিতভাবে সম্পন্ন করা হচ্ছে। একই সফরে পার্শ্ববর্তী ফুলগাজী উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং খালেদা জিয়া মহিলা কলেজ সরকারীকরণের কর্মসূচির প্রস্তুতিও অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরো জানান, সফরের শুরুতে জেলার পরশুরামে ঘাটঘর এলাকায় মুহুরী নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণকাজের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা, বাঁধের ভাঙন ও বন্যায় মানুষজন যে ক্ষতির মুখে পড়ে, তা থেকে রক্ষা পাবে। সামগ্রিকভাবে এ বৃহত্তর অঞ্চলের মানুষ এটির সুফল পাবে। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে গত ১৬ জুন একনেকে ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকার ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ অনুমোদন দেওয়া হয়। এ প্রকল্পের আওতায় ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখনন, ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং ৭৭টি ইনলেট নির্মাণ করা হবে।
পরবর্তীতে মুহুরী ও কহুয়া নদীতে নতুন বাঁধ নির্মাণ এবং সিলোনিয়া নদীতেও বাঁধ নির্মাণ, নদী খনন ও সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানানয়, এ সফরে প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম ও পুরোহিতদের ভাতা প্রদান এবং ২৪৯ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সোলার প্যানেল স্থাপনসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। এ ছাড়া সফরে প্রধানমন্ত্রী তার নানার বাড়ি ফুলগাজীর শ্রীপুরের মজুমদার বাড়িতে আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। পরবর্তীতে পারিবারিক কবরস্থান জিয়ারত করবেন।
পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সহায়তা এবং রোগীদের জন্য বিনা মূল্যে রাষ্ট্রীয় চিকিৎসার বিশেষ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হবে। সফরকালে তিনি দলীয় নেতাকর্মী ও সুধী সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন।
এদিন ফুলগাজী সরকারি হাই স্কুল মাঠে উপজেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এ জনসভাস্থল থেকে ফুলগাজীকে দেশের নতুন পৌরসভায় উন্নীতকরণের ঘোষণা দিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। এ ঘোষণার পর ফেনী জেলার ছয় উপজেলাতে ৬টি পৌরসভা গঠিত হবে। এর আগে ২০০১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া পৈতৃক বাড়ি ও নিজের নির্বাচনী এলাকা ফুলগাজীকে থানা থেকে উপজেলায় উন্নীত করেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় ১৯৯৩ সালে লোকসানের অজুহাতে বন্ধ করে দেওয়া ফেনী-বিলোনিয়া রেলপথ পুনরায় চালুর দাবি জানাবেন বিএনপি নেতারা। এটি চালু হলে জেলার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসার প্রসার ঘটবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ১ অক্টোবর ফেনী সফরের সম্ভাব্য বিভিন্ন ভেন্যু ও নিরাপত্তাব্যবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী। শুক্রবার দিনভর ফেনীর পরশুরাম ও ফুলগাজীর বিভিন্ন সম্ভাব্য ভেন্যু পরিদর্শন করেন ডিআইজি। এ সময় তিনি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে জনসভাস্থলসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা খতিয়ে দেখেন।
আজ শনিবার ফেনী সফরে আসার কথা রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিনের।







