Dhaka 11:33 pm, Saturday, 19 September 2026

কুষ্টিয়ায় সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় জামায়াতের এমপির ছেলে, ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা

​কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:
  • Update Time : 04:18:09 pm, Saturday, 19 September 2026
  • / 34 Time View

​কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে পৌরসভার একটি নির্মাণাধীন রাস্তার কাজে অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে বাংলা টিভির উপজেলা প্রতিনিধি মাহবুবুল আহসান উল্লাসের ওপর নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় হামলাকারীরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় ও চোখে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে এবং ক্যামেরা ভাঙচুর করে। বর্তমানে তিনি কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

​গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বেলা পৌনে একটার দিকে পৌরসভার কুন্ডুপাড়া কালীবাড়ী মোড়ের মন্দিরসংলগ্ন এলাকায় এই হামলার শিকার হন তিনি।

​প্রত্যক্ষদর্শী ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, কুমারখালী পৌরসভার গণমোড় হতে নবগ্রহ মন্দির পর্যন্ত রাস্তার নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে ক্ষিপ্ত হয় কুষ্টিয়া-৪ আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য মো. আফজাল হোসেনের ভাই মো. আনোয়ার হোসেন, এমপির ছেলে মো. শোভন হোসেন ও তাদের লোকজন।

​এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৯ সেপ্টেম্বর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক ফারজানা আখতার সরেজমিন তদন্তে গিয়ে সাংবাদিক মাহবুবুল আহসান উল্লাসসহ অন্যান্য গণমাধ্যমকর্মীদের ঘটনাস্থলে ডাকেন।

​তদন্তকালে সাংবাদিকরা নির্মাণকাজের ভিডিও ধারণ করার চেষ্টা করলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। পরে ইউএনও কাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পরপরই কাঠের বাটন ও বাঁশের লাঠি নিয়ে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়। হামলায় আসামিদের এলোপাতাড়ি আঘাতে সাংবাদিক মাহবুবু উল আহসান উল্লাসের মাথা ও চোখের নিচে গুরুতর জখম হয়। এ ছাড়া মাটিতে পড়ে যাওয়ার পরও তাকে কিল, ঘুষি ও বাঁশের লাঠিসোটা দিয়ে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয়।

​এ সময় হামলাকারীরা তার ক্যামেরা কেড়ে নিয়ে ভাঙচুর করে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ বিষয়ে কোনো নিউজ করলে তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা, সহকর্মীরা ও পুলিশ সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

​ঘটনার বিষয়ে কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক ফারজানা আখতার জানান, পৌর সড়কে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগে আগেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দিয়ে কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছিল। এরপরও তারা কাজ চালিয়ে যাওয়ায় তিনি নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন। তার চলে আসার পরপরই এই হামলার ঘটনা ঘটে।

​এদিকে এ ঘটনায় শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে সাংবাদিক মাহবুবু উল আহসান উল্লাস বাদী হয়ে কুষ্টিয়া-৪ আসনের জামায়াত সংসদ সদস্য আফজাল হোসেনের ছেলে মো. শোভন হোসেন, ভাই মো. আনোয়ার হোসেন এবং এমপির দেহরক্ষী পরিচয়দানকারী মো. রুহুল আমিনসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে কুমারখালী থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলা নম্বর: ২৪, তারিখ: ১৯/০৯/২০২৬।

​কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, সংবাদ সংগ্রহের সময় বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে এই হামলার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

​ওসি আরও বলেন, এ ঘটনায় সাংবাদিক মাহবুব উল আহসান উল্লাস বাদী হয়ে একটি এজাহার দিয়েছেন। জড়িতদের এরই মধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। দ্রুতই হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

​এদিকে এই ন্যক্কারজনক হামলার ঘটনায় কুষ্টিয়ার গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এসকাগজ/আরডি

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

কুষ্টিয়ায় সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় জামায়াতের এমপির ছেলে, ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা

Update Time : 04:18:09 pm, Saturday, 19 September 2026

​কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে পৌরসভার একটি নির্মাণাধীন রাস্তার কাজে অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে বাংলা টিভির উপজেলা প্রতিনিধি মাহবুবুল আহসান উল্লাসের ওপর নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় হামলাকারীরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় ও চোখে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে এবং ক্যামেরা ভাঙচুর করে। বর্তমানে তিনি কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

​গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বেলা পৌনে একটার দিকে পৌরসভার কুন্ডুপাড়া কালীবাড়ী মোড়ের মন্দিরসংলগ্ন এলাকায় এই হামলার শিকার হন তিনি।

​প্রত্যক্ষদর্শী ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, কুমারখালী পৌরসভার গণমোড় হতে নবগ্রহ মন্দির পর্যন্ত রাস্তার নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে ক্ষিপ্ত হয় কুষ্টিয়া-৪ আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য মো. আফজাল হোসেনের ভাই মো. আনোয়ার হোসেন, এমপির ছেলে মো. শোভন হোসেন ও তাদের লোকজন।

​এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৯ সেপ্টেম্বর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক ফারজানা আখতার সরেজমিন তদন্তে গিয়ে সাংবাদিক মাহবুবুল আহসান উল্লাসসহ অন্যান্য গণমাধ্যমকর্মীদের ঘটনাস্থলে ডাকেন।

​তদন্তকালে সাংবাদিকরা নির্মাণকাজের ভিডিও ধারণ করার চেষ্টা করলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। পরে ইউএনও কাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পরপরই কাঠের বাটন ও বাঁশের লাঠি নিয়ে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়। হামলায় আসামিদের এলোপাতাড়ি আঘাতে সাংবাদিক মাহবুবু উল আহসান উল্লাসের মাথা ও চোখের নিচে গুরুতর জখম হয়। এ ছাড়া মাটিতে পড়ে যাওয়ার পরও তাকে কিল, ঘুষি ও বাঁশের লাঠিসোটা দিয়ে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয়।

​এ সময় হামলাকারীরা তার ক্যামেরা কেড়ে নিয়ে ভাঙচুর করে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ বিষয়ে কোনো নিউজ করলে তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা, সহকর্মীরা ও পুলিশ সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

​ঘটনার বিষয়ে কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক ফারজানা আখতার জানান, পৌর সড়কে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগে আগেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দিয়ে কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছিল। এরপরও তারা কাজ চালিয়ে যাওয়ায় তিনি নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন। তার চলে আসার পরপরই এই হামলার ঘটনা ঘটে।

​এদিকে এ ঘটনায় শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে সাংবাদিক মাহবুবু উল আহসান উল্লাস বাদী হয়ে কুষ্টিয়া-৪ আসনের জামায়াত সংসদ সদস্য আফজাল হোসেনের ছেলে মো. শোভন হোসেন, ভাই মো. আনোয়ার হোসেন এবং এমপির দেহরক্ষী পরিচয়দানকারী মো. রুহুল আমিনসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে কুমারখালী থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলা নম্বর: ২৪, তারিখ: ১৯/০৯/২০২৬।

​কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, সংবাদ সংগ্রহের সময় বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে এই হামলার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

​ওসি আরও বলেন, এ ঘটনায় সাংবাদিক মাহবুব উল আহসান উল্লাস বাদী হয়ে একটি এজাহার দিয়েছেন। জড়িতদের এরই মধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। দ্রুতই হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

​এদিকে এই ন্যক্কারজনক হামলার ঘটনায় কুষ্টিয়ার গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এসকাগজ/আরডি