Dhaka 9:47 am, Monday, 19 October 2026
সর্বশেষ
ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যপথ বন্ধ করল পাকিস্তান, বড় সংকটের শঙ্কা হরিনারায়ণপুর বাজারে জনদুর্ভোগ চরমে,নেই সিসি ক্যামেরা , দুর্বল ড্রেনেজ, সড়ক দখলে যানজট মালয়েশিয়ায় ২৮৭ দিনে বাংলাদেশীসহ আটক ৬৫ হাজার জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে আনিসুল-ইনুসহ ৪ জন ঢাকার আকাশে দরজা খুলে গেল ভারতীয় ফ্লাইটের, জরুরি অবতরণ বিএমইউতে ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব ২০ বছরের পুরনো বাস চলতে না দিলে ১ নভেম্বর থেকে ধর্মঘট নাটোরে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার

পুলিশের পূর্ণাঙ্গ সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট করার পরিকল্পনা চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 11:43:50 am, Tuesday, 15 September 2026
  • / 26 Time View

সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে সরকার একজন অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে পূর্ণাঙ্গ ও প্রাতিষ্ঠানিক সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠনের পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ ইউনিটে প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি ও কম্পিউটার সায়েন্সে দক্ষ পুলিশ সদস্যদের কাজে লাগানো হবে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ পুলিশ স্টাফ কলেজের (পিএসসি) বোর্ডরুমে কলেজটির পরিচালনা বোর্ডের ২১তম সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে পুলিশ বাহিনীতে প্রকৌশল, আইটি ও কম্পিউটার সায়েন্স ব্যাকগ্রাউন্ডের অনেক সদস্য কর্মরত রয়েছেন। তাদের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে একজন অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা চলছে।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে অ্যাডহক ভিত্তিতে পুলিশ সদর দপ্তর, ডিএমপির সাইবার ইউনিট এবং সিআইডির মাধ্যমে বিভিন্ন ডিজিটাল অপরাধের তদন্ত ও ফরেনসিক অ্যানালাইসিস পরিচালিত হচ্ছে।

তবে সাইবার অপরাধের ধরন ও পরিধি বাড়তে থাকায় একটি স্থায়ী ও সমন্বিত কাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।’ 

পুলিশ সদস্যদের উচ্চতর প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পুলিশের সক্ষমতা ও মনোবল বাড়াতে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে মাস্টার ট্রেইনার পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আরো দক্ষ করে তুলতে অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন।’

প্রয়োজনে বিদেশ থেকে প্রশিক্ষক এনে অথবা দেশে আধুনিক প্রশিক্ষণ সুবিধা গড়ে তুলে পুলিশ সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা বাড়ানো হবে বলেও জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘লক্ষ্য হচ্ছে— সাইবার স্পেসসহ যেকোনো ধরনের অপরাধ মোকাবেলায় পুলিশ বাহিনীকে সর্বাত্মকভাবে প্রস্তুত রাখা।’ 

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা ফয়সল হাসান জানান, পুলিশ স্টাফ কলেজের পরিচালনা বোর্ডের সভায় কলেজের অধীনে একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বতন্ত্র ‘গবেষণা ও উদ্ভাবন সেন্টার’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়।

এ ছাড়া বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ কোর্সের বৈদেশিক অংশের জন্য অর্থ বরাদ্দ, প্রশিক্ষণকে পদোন্নতি ও পদায়নের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারের শর্ত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা এবং আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিষয়ও সভায় আলোচিত হয়।

পুলিশ একাডেমিগুলোর আন্তর্জাতিক সংগঠন INTERPA-এর সদস্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশে প্রশিক্ষণ আয়োজন এবং বিদেশে প্রশিক্ষণার্থী পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

সভায় পুলিশ স্টাফ কলেজে ‘মাস্টার্স ইন ফরেনসিক সায়েন্স’ এবং ‘মাস্টার্স ইন ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম অ্যান্ড গভর্ন্যান্স’ কোর্স চালুর বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

এ ছাড়া পুলিশ স্টাফ কলেজের অবকাঠামো উন্নয়ন, কলেজের বিধিসমূহের সরকারি অনুমোদন, পিএসসির ভূমি ব্যবহারের জন্য এমআরটির প্রস্তাব পর্যালোচনা, সার্কভুক্ত দেশগুলোর জন্য প্রশিক্ষণ আয়োজন এবং পুলিশ স্টাফ কলেজের রজতজয়ন্তী উদযাপনের বিষয় সভায় স্থান পায়।

সভায় আগের ২০তম পরিচালনা বোর্ড সভার কার্যবিবরণী প্রয়োজনীয় সংশোধন সাপেক্ষে অনুমোদন করা হয় এবং ওই সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়।

সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও পরিচালনা বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, বিপিএটিসির রেক্টর সাঈদ মাহবুব খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. ওবায়দুল ইসলাম, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. হাসানুল মতিন, আইন ও বিচার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. খাদেম উল কায়েস এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ শামীম সোহেলসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুলিশ স্টাফ কলেজের ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

পুলিশের পূর্ণাঙ্গ সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট করার পরিকল্পনা চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Update Time : 11:43:50 am, Tuesday, 15 September 2026

সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে সরকার একজন অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে পূর্ণাঙ্গ ও প্রাতিষ্ঠানিক সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠনের পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ ইউনিটে প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি ও কম্পিউটার সায়েন্সে দক্ষ পুলিশ সদস্যদের কাজে লাগানো হবে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ পুলিশ স্টাফ কলেজের (পিএসসি) বোর্ডরুমে কলেজটির পরিচালনা বোর্ডের ২১তম সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে পুলিশ বাহিনীতে প্রকৌশল, আইটি ও কম্পিউটার সায়েন্স ব্যাকগ্রাউন্ডের অনেক সদস্য কর্মরত রয়েছেন। তাদের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে একজন অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা চলছে।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে অ্যাডহক ভিত্তিতে পুলিশ সদর দপ্তর, ডিএমপির সাইবার ইউনিট এবং সিআইডির মাধ্যমে বিভিন্ন ডিজিটাল অপরাধের তদন্ত ও ফরেনসিক অ্যানালাইসিস পরিচালিত হচ্ছে।

তবে সাইবার অপরাধের ধরন ও পরিধি বাড়তে থাকায় একটি স্থায়ী ও সমন্বিত কাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।’ 

পুলিশ সদস্যদের উচ্চতর প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পুলিশের সক্ষমতা ও মনোবল বাড়াতে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে মাস্টার ট্রেইনার পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আরো দক্ষ করে তুলতে অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন।’

প্রয়োজনে বিদেশ থেকে প্রশিক্ষক এনে অথবা দেশে আধুনিক প্রশিক্ষণ সুবিধা গড়ে তুলে পুলিশ সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা বাড়ানো হবে বলেও জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘লক্ষ্য হচ্ছে— সাইবার স্পেসসহ যেকোনো ধরনের অপরাধ মোকাবেলায় পুলিশ বাহিনীকে সর্বাত্মকভাবে প্রস্তুত রাখা।’ 

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা ফয়সল হাসান জানান, পুলিশ স্টাফ কলেজের পরিচালনা বোর্ডের সভায় কলেজের অধীনে একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বতন্ত্র ‘গবেষণা ও উদ্ভাবন সেন্টার’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়।

এ ছাড়া বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ কোর্সের বৈদেশিক অংশের জন্য অর্থ বরাদ্দ, প্রশিক্ষণকে পদোন্নতি ও পদায়নের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারের শর্ত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা এবং আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিষয়ও সভায় আলোচিত হয়।

পুলিশ একাডেমিগুলোর আন্তর্জাতিক সংগঠন INTERPA-এর সদস্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশে প্রশিক্ষণ আয়োজন এবং বিদেশে প্রশিক্ষণার্থী পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

সভায় পুলিশ স্টাফ কলেজে ‘মাস্টার্স ইন ফরেনসিক সায়েন্স’ এবং ‘মাস্টার্স ইন ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম অ্যান্ড গভর্ন্যান্স’ কোর্স চালুর বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

এ ছাড়া পুলিশ স্টাফ কলেজের অবকাঠামো উন্নয়ন, কলেজের বিধিসমূহের সরকারি অনুমোদন, পিএসসির ভূমি ব্যবহারের জন্য এমআরটির প্রস্তাব পর্যালোচনা, সার্কভুক্ত দেশগুলোর জন্য প্রশিক্ষণ আয়োজন এবং পুলিশ স্টাফ কলেজের রজতজয়ন্তী উদযাপনের বিষয় সভায় স্থান পায়।

সভায় আগের ২০তম পরিচালনা বোর্ড সভার কার্যবিবরণী প্রয়োজনীয় সংশোধন সাপেক্ষে অনুমোদন করা হয় এবং ওই সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়।

সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও পরিচালনা বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, বিপিএটিসির রেক্টর সাঈদ মাহবুব খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. ওবায়দুল ইসলাম, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. হাসানুল মতিন, আইন ও বিচার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. খাদেম উল কায়েস এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ শামীম সোহেলসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুলিশ স্টাফ কলেজের ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেন।