Dhaka 7:33 am, Saturday, 12 September 2026
সর্বশেষ
মাদক থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষায় সংস্কৃতি চর্চার তাগিদ সাইবার সুরক্ষা আইন নিয়ে টিআইবির উদ্বেগ, খসড়া পুনর্বিন্যাসের দাবি গুমের শিকার ছাত্রদল নেতা রাশেদের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছেলের পাশে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ তদন্ত করলে প্রত্যেক ছাত্র উপদেষ্টার নামে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যাবে : প্রতিমন্ত্রী নুর মেঘনায় নিখোঁজ রাকিবের মরদেহ উদ্ধার, এখনো খোঁজ মেলেনি বিজিবি সদস্যের ঘরে ঢুকে ছাত্রদল নেতার ওপর ছাত্রলীগের হামলা, বিএনপির নিন্দা ব্রিকস নেতৃত্ব পুনরুদ্ধারে মরিয়া পশ্চিমারা : পুতিন হাসিনা সরকারের রেখে যাওয়া ২০৫ কোটি ডলার ঋণ পরিশোধ করেছে সরকার কর পরিশোধ মামলার রায়, ইউনূসের সব অপকর্মের বিচারের পথ খুলে দিল? কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি কনফারেন্সে যোগ দিতে দক্ষিণ আফ্রিকা যাচ্ছেন ডেপুটি স্পিকার

তারেক রহমানের নয়াদিল্লি সফর ভারতের সার্বভৌম স্বার্থে জরুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 06:22:45 pm, Wednesday, 9 September 2026
  • / 16 Time View

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কি দিল্লি আসছেন? দিল্লি আসার দিনক্ষণ স্থির হয়ে যাওয়ার পরেও শেষ মুহূর্তে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভারত সফর বাতিল করলেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এই সফর এরপর আদৌ হবে কি হবে না, তাই নিয়ে দেশে-বিদেশে শোরগোল পড়ে গেছে।

দিল্লিতে সাউথ ব্লকে এক অফিসারের সঙ্গে সেদিন কথা হচ্ছিল, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে। সেই অভিজ্ঞ অফিসারটি বললেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপাক্ষিক সফরে দিল্লি আসা শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, ভারতের সার্বভৌম স্বার্থের জন্যও খুবই জরুরি।  

তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চিন সফরে গিয়েছিলেন। যদিও সরাসরি চিনে না গিয়ে তিনি মালয়েশিয়া হয়ে চীনে গিয়েছিলেন, তবুও তখনও ভারতে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছিলেন যে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী প্রথমে ভারতে না এসে চিনে গেলেন কেন? এর মধ্যে কূটনৈতিক অগ্রাধিকারের বার্তা বাংলাদেশ দিল কি? সাউথ ব্লকের অফিসারদের একাংশের ধারণা, শেখ হাসিনার পর এখন বাংলাদেশ অনেক বেশি চীন-পাকিস্তান অক্ষের কাছাকাছি।

আর তাই তারেক ভারতে আসতে আগ্রহী নন। আমি মনে করি এ কথা ঠিক নয়! তারেকের কাছে ভারত আসা জরুরি কিন্তু ভারতে এসে শূন্য হাতে ফিরতে তিনি চান না! তাতে ঢাকা ফিরে তার সমস্যা বাড়বে বই কমবে না! 

ওই অফিসারটি বলছিলেন, কূটনীতিতে অনেক স্তর থাকে। বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও চিন সফরে গিয়েছিলেন। পদ্মা সেতু নির্মাণের সময় চিনের ইঞ্জিনিয়ারাও সেখানে যথেষ্ট সক্রিয় হয়ে কাজ করেছিলেন।

চিনের সঙ্গে তো ভারতও সীমান্ত আলোচনা বেশ কয়েক দফায় চালাচ্ছে। চিনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যাচ্ছেন বলেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নয়াদিল্লি চাইবে না, এটা কিন্তু কখনোই হতে পারে না। 

দীর্ঘ ৪০ বছরের অধিক সময় একটানা দিল্লিতে কর্মরত ছিলাম। বাঙালি সাংবাদিক। আনন্দবাজার পত্রিকার দিল্লি সম্পাদক ছিলাম।

শ্রীলঙ্কা, মায়ানমার বা নেপালে কী ঘটছে তা নিয়ে আগ্রহ থাকলেও বাংলাদেশের বিষয়ে আগ্রহ ১৬ আনার ওপর ১৮ আনা। মাতৃভাষা বাংলা, দিল্লিতে থাকলেও আমি অনাবাসী বাঙালি সাংবাদিক। তাই ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক অটুট থাকুক, মধুর হোক-সেটা আমার কাছে সবসময় কাঙ্ক্ষিত! আমি ভারতীয় সাংবাদিক। বাংলাদেশের বিএনপি, জামায়াত-আওয়ামী লীগ এই অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দলীয় ব্যবস্থায় আমি কোনো দলেরই সমর্থক বা কোনো দলের বিশেষ সমালোচক নই। 

ভারত সরকারের কাছে বাংলাদেশ সরকার খুব গুরুত্বপূর্ণ। তারেকের ভারত সফরটা শুধু তারেক সাহেবের জন্য নয়, নরেন্দ্র মোদীর জন্যও বিশেষ প্রয়োজন। বাংলাদেশ রাষ্ট্রটা আয়তনে ছোট হতে পারে, কিন্তু তার জিও-স্ট্র্যাটেজিক পজিশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ নামের ভূখণ্ডে তার এই জিও-স্ট্র্যাটেজিক গুরুত্ব মার্কিন প্রাক্তন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনও বুঝেছিলেন। বুঝেছিলেন বলেই, তিনি অবসর গ্রহণের আগে বাংলাদেশে ছুটে এসেছিলেন, সঙ্গে কলকাতা সফরও যোগ করেছিলেন। বাংলাদেশের এই ভূখণ্ড নিয়ে চিন এবং আমেরিকার কিছু নিজস্ব কায়েমি স্বার্থ থাকতে পারে। সেই কায়েমি স্বার্থের মধ্যে সংঘাত আছে, বাংলাদেশ সরকারকে মুনশিয়ানার সঙ্গে এই দুটি দেশের টানাপড়েনের মধ্যে নিজেদের টিকিয়ে রাখা সেও এক মস্ত বড় চ্যালেঞ্জ।

শেখ হাসিনার বাংলাদেশের রাজনৈতিক চালচিত্র থেকে বিদায় নেওয়ার পর ভারতের কাছে তারেকের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। তারেক ইউনূস নন! তিনি নির্বাচনে জিতে প্রধানমন্ত্রী! বাংলাদেশে দিনেশ ত্রিবেদীর মতো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে হাই কমিশনার করে যে পাঠানো হল, তাঁকে ক্যাবিনেট র‍্যাঙ্ক দেওয়া হল। তিনি অতি সক্রিয় হয়ে প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট, বিদেশমন্ত্রী এবং বিভিন্ন স্তরের মন্ত্রী র সঙ্গে কথা বলছেন। নানান রকমের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ভারত-বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে ঐক্যবদ্ধ করছেন। বাংলা ভাষা কেন্দ্রিক অনুষ্ঠান হচ্ছে। ঢাকায় দুদেশের মধ্যে টি২০ ক্রিকেট হবে! ভিসা নিয়েও নীতি শিথিল করেছেন, টুরিস্ট ভিসা থেকে মেডিক্যাল ভিসা যথেষ্ট উদার হওয়ার চেষ্টা করেছে ভারত। কাজেই ভারতের দিক থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে পায়ে পা লাগিয়ে ঝগড়া করা-এটা কখনোই অগ্রাধিকার নয়।

শেখ হাসিনা যখন ক্ষমতাচ্যুত হলেন, সেই ঘটনার আগে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল বারবার ঢাকায় গিয়ে শেখ হাসিনাকে সতর্ক করেছিলেন। বলেছিলেন, বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অসন্তোষ বাড়ছে। শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করাটা শুধুমাত্র একটা সামরিক এবং বিএনপি-জামায়াতের ক্যু অথবা মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের ষড়যন্ত্র-এভাবে বিশ্লেষণ করাটাকেও আমি অতি সরলীকরণ বলে মনে করি। নানান কায়েমি স্বার্থ সবসময়ই একটা রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে নড়বড়ে করতে চায়, বদল করতে চায়, কিন্তু সেটার মোকাবিলা করার জন্য যে রাজনৈতিক ইমিউনিটি, সেটা শাসকদলের থাকা প্রয়োজন। চিনে যখন তিয়েনআনমেন স্কোয়ারে ছাত্রদের বিদ্রোহ হয়েছিল, তখন অনেকে বলেছিলেন, আসলে চিন উদার হতে গিয়ে জানলা খুলতে গিয়ে মশা ঢুকে পড়েছে, আর তাই ম্যালেরিয়া হয়ে গেছে, জানলা বন্ধ রাখা প্রয়োজন ছিল। এখানে প্রশ্নটা জানলা খোলা-বন্ধ করার নয়, মশার কামড়ে ম্যালেরিয়া যাতে না হয় তার ইমিউনিটির ব্যবস্থা তৈরি করা জরুরি ছিল।

শেখ হাসিনার রাজত্বের শেষের দিকে তাঁর আওয়ামী লীগ এবং সরকারের যে ভয়াবহ দুর্নীতি দেখা যায়, যেভাবে মানুষ কর্মহীনতা, মূল্যবৃদ্ধি ও নানা আর্থিক সমস্যায় বিরূপ হয়েছে এবং আওয়ামী লীগ বিরোধী অসন্তোষ ভারত বিরোধী অসন্তোষে পরিণত হয়েছে-সেই নির্মম সত্যগুলিকেও স্বীকার করতে হবে।
১৯৭১ সালের যে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, তার যে স্মরণীয় ইতিহাস, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যে ঐতিহাসিক অবদান, বাংলাদেশ গড়ার ব্যাপারে তাঁর যে ভূমিকা-এ সবই শ্রদ্ধার সঙ্গে ভারত মনে করে। তার মানে এই নয় যে, কংগ্রেস এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক সম্পর্কের প্রিজমে আজও ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কটাকে দেখতে হবে। সময়ের হাত ধরে কূটনীতিকে দিল্লি আপডেট করতে চায় ! অতীতের পুনরাবৃত্তি নয় প্রয়োজনে ভবিষ্যৎকে ‘রি ইনভেন্ট’ করতে হয়!

ইতিহাসের বোঝা বইতে গিয়ে ভারত এবং বাংলাদেশের সম্পর্ককে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নতুন পথ ভাবতে হবে। বিএনপিকে বলা হয় ‘ট্রেড ফ্রেন্ডলি পার্টি’। যখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল তখনও বিএনপি বারবার ভারতীয় শাসক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে চাইত। যোগাযোগ বার্তা দিত যে আমরা বাণিজ্য চাই, ভারত সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ বাণিজ্যিক সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়! সেদিন ভারত একটা ঝুড়িতেই সব ডিম রাখার ভ্রান্ত নীতি নিয়ে চলছিল! সুতরাং পাকিস্তানের হাতে তারেক তামাক খাচ্ছেন বলে তারেকের ভারত সফরের সম্ভাবনাকে নষ্ট করা, তাতে ভারতের লাভ কোথায়? ভারতের স্বার্থেই তারেককে ভারতের কূটনৈতিক দৌত্যে শামিল করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশে যারা সরকার চালাচ্ছেন-প্রধানমন্ত্রী, বিদেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ আরো অনেক শীর্ষ নেতা -তারা কেউ ছেলেমানুষ নন। ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে কাকে বাংলাদেশের বেশি প্রয়োজন, এই সহজ-সরল সত্যটা বাংলাদেশের সরকারও জানে। বাংলাদেশের ভারতের ওপর নির্ভরতা অনস্বীকার্য। সেটা ডিজেল থেকে গঙ্গা পানি-চুক্তি অথবা পেঁয়াজ সহ নানান পণ্যের আমদানি-রপ্তানি, সড়ক সংযোগ, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বাংলাদেশের বাণিজ্য-সব বিষয়েই দুটো দেশের সম্পর্ক গভীরভাবে যুক্ত। ভারতের ও প্রয়োজন একইভাবে! কাজেই মুষ্টিযুদ্ধ কূটনীতির ব্যাকরণ নয়।

শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের আবার প্রধানমন্ত্রী করা—এটাও কখনো ভারতের কূটনৈতিক লক্ষ্য হতে পারে না। শেখ হাসিনা ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশে যেতে চাইলে এবং বাংলাদেশের সরকারও তাঁকে ফেরত চাইলে, তারেক সাহেবের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদীর দেখা হলে এসব নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হতে পারে। ব্রিকসের বৈঠকে বাংলাদেশের না আসা তেমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা নয়। কারণ ব্রিকসের সম্মেলনটা হচ্ছে ‘বহু-পাক্ষিক’। সেখানে রাশিয়া, চিন, ভারত-তারা আলোচনাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। কিন্তু বাংলাদেশের সঙ্গে প্রথম থেকেই ব্রিকস নয়, দ্বিপাক্ষিক সফরের কথাই আলাপ-আলোচনার স্তরে ছিল।

আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বলা হয়, দুটি সার্বভৌম রাষ্ট্র তারা নিজেদের মধ্যে যখন আলোচনা করে, তখন কিছু বিষয় থাকে যেগুলি হচ্ছে দুটি দেশের অ্যাসপিরেশন বা ডিজায়ার। সেই ডিজায়ার শতকরা ১০০ ভাগ পূরণ নাও হতে পারে, কিন্তু আলাপ-আলোচনার মধ্যে দুটি দেশের মধ্যে কিছু ডিজায়ারের প্রাপ্তি হয়। আর সেটাকেই বলা হয় অ্যাফেক্টিভ ডিজায়ার (কার্যকর আকাঙ্ক্ষা)। গঙ্গা চুক্তি ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে, তার আগেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে গঙ্গা চুক্তি চূড়ান্ত করার ব্যাপারে কথাবার্তা বলতে পারেন। শেখ হাসিনার বিষয়, এমনকি হাদীর হত্যাকাণ্ড, ভারত তার আততায়ীকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেবে? এসব বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হতেই পারে।

সুতরাং আমরা যদি প্রথমেই ধরে নিই তারেক পাকিস্তান এবং চিনের স্বার্থরক্ষা করছেন-তিনি ভারত বিরোধী। তাহলে নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতায় আসার পর যে ‘প্রতিবেশী প্রথম-বিদেশনীতির বাস্তবায়ন অসুবিধাজনক হয়ে যায়। নরেন্দ্র মোদী সেটা জানেন। কেননা এর সঙ্গে তার ‘অ্যাক্ট-ইস্ট পলিসি’ বিশেষভাবে যুক্ত হয়ে আছে।‌ সেটা অনেক বেশি দ্রুত এগোতে পারে।

জামায়াত এখন বিরোধী দল। বিজেপি তথা সংঘ পরিবারের জামাতের রাজনীতির সঙ্গে বিরোধ থাকতে পারে। কিন্তু জামাতের শীর্ষ নেতারাও এবারে বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে ভারতবিরোধী বক্তব্য কার্যত রাখছেন না। তাঁরাও দেখতে চাইছেন, ভারত কীভাবে আগামীদিনে এগোয়। বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্করও খালেদা জিয়ার শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যখন গিয়েছিলেন, তখনও সেখানে গিয়েও প্রধান জামাত নেতার সঙ্গে সৌজন্যমূলক বৈঠক করেছিলেন। সেটা কোনো গোপন বৈঠক নয়। প্রকাশ্যে সেই বৈঠক হতে আমরা দেখেছি। বিরোধী দল জামায়াত। তারেক সাহেবও বিরোধী দলকে দুরমুশ করে দেব, এই মনোভাব নিয়ে যে যাচ্ছেন না, সেটা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইকোসিস্টেমকে শক্তিশালীই করছে। ভারতও মনে করে, আলাপ আলোচনাই একমাত্র পথ। আফগানিস্তানে যদি তালিবানের সঙ্গে ভারত আলাপ আলোচনা করতে পারে, তালিবানের বিদেশমন্ত্রী যদি ভারতে আসতে পারেন, সেখানে বাংলাদেশকে অচ্ছুত করে রাখাটা সম্পূর্ণ ভুল বলে মনে করি।

সাউথ ব্লক থেকে বেরোনোর সময়ও অন্তত এই আশাটুকু নিয়ে বেরোলাম যে, এখনও তারেক সাহেবকে ভারতে নিয়ে আসার চেষ্টা সাউথ ব্লকের পক্ষ থেকে বন্ধ হয়নি। আশা করা হচ্ছে, এখন যিনি বাংলাদেশের বিদেশ সচিব তিনি ভারতের হাইকমিশনার হয়ে অক্টোবর মাসের মধ্যে দিল্লি পৌঁছে যাবেন। আর নভেম্বর মাসের শেষে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে আসতে পারবেন। ভারত এবং বাংলাদেশের সম্পর্কটা চিরস্থায়ী বিষয়। রাজনীতির চরিত্র আসবে-যাবে। দুদেশের সম্পর্ক অটুট রাখাই দুদেশের স্বার্থ। তাই তারেক সাহেবের ভারতে আসা শুধু বাংলাদেশের সার্বভৌম স্বার্থ নয়, ভারতেরও স্বার্থ। আমরা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

তারেক রহমানের নয়াদিল্লি সফর ভারতের সার্বভৌম স্বার্থে জরুরি

Update Time : 06:22:45 pm, Wednesday, 9 September 2026

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কি দিল্লি আসছেন? দিল্লি আসার দিনক্ষণ স্থির হয়ে যাওয়ার পরেও শেষ মুহূর্তে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভারত সফর বাতিল করলেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এই সফর এরপর আদৌ হবে কি হবে না, তাই নিয়ে দেশে-বিদেশে শোরগোল পড়ে গেছে।

দিল্লিতে সাউথ ব্লকে এক অফিসারের সঙ্গে সেদিন কথা হচ্ছিল, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে। সেই অভিজ্ঞ অফিসারটি বললেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপাক্ষিক সফরে দিল্লি আসা শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, ভারতের সার্বভৌম স্বার্থের জন্যও খুবই জরুরি।  

তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চিন সফরে গিয়েছিলেন। যদিও সরাসরি চিনে না গিয়ে তিনি মালয়েশিয়া হয়ে চীনে গিয়েছিলেন, তবুও তখনও ভারতে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছিলেন যে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী প্রথমে ভারতে না এসে চিনে গেলেন কেন? এর মধ্যে কূটনৈতিক অগ্রাধিকারের বার্তা বাংলাদেশ দিল কি? সাউথ ব্লকের অফিসারদের একাংশের ধারণা, শেখ হাসিনার পর এখন বাংলাদেশ অনেক বেশি চীন-পাকিস্তান অক্ষের কাছাকাছি।

আর তাই তারেক ভারতে আসতে আগ্রহী নন। আমি মনে করি এ কথা ঠিক নয়! তারেকের কাছে ভারত আসা জরুরি কিন্তু ভারতে এসে শূন্য হাতে ফিরতে তিনি চান না! তাতে ঢাকা ফিরে তার সমস্যা বাড়বে বই কমবে না! 

ওই অফিসারটি বলছিলেন, কূটনীতিতে অনেক স্তর থাকে। বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও চিন সফরে গিয়েছিলেন। পদ্মা সেতু নির্মাণের সময় চিনের ইঞ্জিনিয়ারাও সেখানে যথেষ্ট সক্রিয় হয়ে কাজ করেছিলেন।

চিনের সঙ্গে তো ভারতও সীমান্ত আলোচনা বেশ কয়েক দফায় চালাচ্ছে। চিনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যাচ্ছেন বলেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নয়াদিল্লি চাইবে না, এটা কিন্তু কখনোই হতে পারে না। 

দীর্ঘ ৪০ বছরের অধিক সময় একটানা দিল্লিতে কর্মরত ছিলাম। বাঙালি সাংবাদিক। আনন্দবাজার পত্রিকার দিল্লি সম্পাদক ছিলাম।

শ্রীলঙ্কা, মায়ানমার বা নেপালে কী ঘটছে তা নিয়ে আগ্রহ থাকলেও বাংলাদেশের বিষয়ে আগ্রহ ১৬ আনার ওপর ১৮ আনা। মাতৃভাষা বাংলা, দিল্লিতে থাকলেও আমি অনাবাসী বাঙালি সাংবাদিক। তাই ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক অটুট থাকুক, মধুর হোক-সেটা আমার কাছে সবসময় কাঙ্ক্ষিত! আমি ভারতীয় সাংবাদিক। বাংলাদেশের বিএনপি, জামায়াত-আওয়ামী লীগ এই অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দলীয় ব্যবস্থায় আমি কোনো দলেরই সমর্থক বা কোনো দলের বিশেষ সমালোচক নই। 

ভারত সরকারের কাছে বাংলাদেশ সরকার খুব গুরুত্বপূর্ণ। তারেকের ভারত সফরটা শুধু তারেক সাহেবের জন্য নয়, নরেন্দ্র মোদীর জন্যও বিশেষ প্রয়োজন। বাংলাদেশ রাষ্ট্রটা আয়তনে ছোট হতে পারে, কিন্তু তার জিও-স্ট্র্যাটেজিক পজিশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ নামের ভূখণ্ডে তার এই জিও-স্ট্র্যাটেজিক গুরুত্ব মার্কিন প্রাক্তন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনও বুঝেছিলেন। বুঝেছিলেন বলেই, তিনি অবসর গ্রহণের আগে বাংলাদেশে ছুটে এসেছিলেন, সঙ্গে কলকাতা সফরও যোগ করেছিলেন। বাংলাদেশের এই ভূখণ্ড নিয়ে চিন এবং আমেরিকার কিছু নিজস্ব কায়েমি স্বার্থ থাকতে পারে। সেই কায়েমি স্বার্থের মধ্যে সংঘাত আছে, বাংলাদেশ সরকারকে মুনশিয়ানার সঙ্গে এই দুটি দেশের টানাপড়েনের মধ্যে নিজেদের টিকিয়ে রাখা সেও এক মস্ত বড় চ্যালেঞ্জ।

শেখ হাসিনার বাংলাদেশের রাজনৈতিক চালচিত্র থেকে বিদায় নেওয়ার পর ভারতের কাছে তারেকের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। তারেক ইউনূস নন! তিনি নির্বাচনে জিতে প্রধানমন্ত্রী! বাংলাদেশে দিনেশ ত্রিবেদীর মতো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে হাই কমিশনার করে যে পাঠানো হল, তাঁকে ক্যাবিনেট র‍্যাঙ্ক দেওয়া হল। তিনি অতি সক্রিয় হয়ে প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট, বিদেশমন্ত্রী এবং বিভিন্ন স্তরের মন্ত্রী র সঙ্গে কথা বলছেন। নানান রকমের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ভারত-বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে ঐক্যবদ্ধ করছেন। বাংলা ভাষা কেন্দ্রিক অনুষ্ঠান হচ্ছে। ঢাকায় দুদেশের মধ্যে টি২০ ক্রিকেট হবে! ভিসা নিয়েও নীতি শিথিল করেছেন, টুরিস্ট ভিসা থেকে মেডিক্যাল ভিসা যথেষ্ট উদার হওয়ার চেষ্টা করেছে ভারত। কাজেই ভারতের দিক থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে পায়ে পা লাগিয়ে ঝগড়া করা-এটা কখনোই অগ্রাধিকার নয়।

শেখ হাসিনা যখন ক্ষমতাচ্যুত হলেন, সেই ঘটনার আগে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল বারবার ঢাকায় গিয়ে শেখ হাসিনাকে সতর্ক করেছিলেন। বলেছিলেন, বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অসন্তোষ বাড়ছে। শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করাটা শুধুমাত্র একটা সামরিক এবং বিএনপি-জামায়াতের ক্যু অথবা মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের ষড়যন্ত্র-এভাবে বিশ্লেষণ করাটাকেও আমি অতি সরলীকরণ বলে মনে করি। নানান কায়েমি স্বার্থ সবসময়ই একটা রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে নড়বড়ে করতে চায়, বদল করতে চায়, কিন্তু সেটার মোকাবিলা করার জন্য যে রাজনৈতিক ইমিউনিটি, সেটা শাসকদলের থাকা প্রয়োজন। চিনে যখন তিয়েনআনমেন স্কোয়ারে ছাত্রদের বিদ্রোহ হয়েছিল, তখন অনেকে বলেছিলেন, আসলে চিন উদার হতে গিয়ে জানলা খুলতে গিয়ে মশা ঢুকে পড়েছে, আর তাই ম্যালেরিয়া হয়ে গেছে, জানলা বন্ধ রাখা প্রয়োজন ছিল। এখানে প্রশ্নটা জানলা খোলা-বন্ধ করার নয়, মশার কামড়ে ম্যালেরিয়া যাতে না হয় তার ইমিউনিটির ব্যবস্থা তৈরি করা জরুরি ছিল।

শেখ হাসিনার রাজত্বের শেষের দিকে তাঁর আওয়ামী লীগ এবং সরকারের যে ভয়াবহ দুর্নীতি দেখা যায়, যেভাবে মানুষ কর্মহীনতা, মূল্যবৃদ্ধি ও নানা আর্থিক সমস্যায় বিরূপ হয়েছে এবং আওয়ামী লীগ বিরোধী অসন্তোষ ভারত বিরোধী অসন্তোষে পরিণত হয়েছে-সেই নির্মম সত্যগুলিকেও স্বীকার করতে হবে।
১৯৭১ সালের যে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, তার যে স্মরণীয় ইতিহাস, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যে ঐতিহাসিক অবদান, বাংলাদেশ গড়ার ব্যাপারে তাঁর যে ভূমিকা-এ সবই শ্রদ্ধার সঙ্গে ভারত মনে করে। তার মানে এই নয় যে, কংগ্রেস এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক সম্পর্কের প্রিজমে আজও ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কটাকে দেখতে হবে। সময়ের হাত ধরে কূটনীতিকে দিল্লি আপডেট করতে চায় ! অতীতের পুনরাবৃত্তি নয় প্রয়োজনে ভবিষ্যৎকে ‘রি ইনভেন্ট’ করতে হয়!

ইতিহাসের বোঝা বইতে গিয়ে ভারত এবং বাংলাদেশের সম্পর্ককে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নতুন পথ ভাবতে হবে। বিএনপিকে বলা হয় ‘ট্রেড ফ্রেন্ডলি পার্টি’। যখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল তখনও বিএনপি বারবার ভারতীয় শাসক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে চাইত। যোগাযোগ বার্তা দিত যে আমরা বাণিজ্য চাই, ভারত সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ বাণিজ্যিক সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়! সেদিন ভারত একটা ঝুড়িতেই সব ডিম রাখার ভ্রান্ত নীতি নিয়ে চলছিল! সুতরাং পাকিস্তানের হাতে তারেক তামাক খাচ্ছেন বলে তারেকের ভারত সফরের সম্ভাবনাকে নষ্ট করা, তাতে ভারতের লাভ কোথায়? ভারতের স্বার্থেই তারেককে ভারতের কূটনৈতিক দৌত্যে শামিল করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশে যারা সরকার চালাচ্ছেন-প্রধানমন্ত্রী, বিদেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ আরো অনেক শীর্ষ নেতা -তারা কেউ ছেলেমানুষ নন। ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে কাকে বাংলাদেশের বেশি প্রয়োজন, এই সহজ-সরল সত্যটা বাংলাদেশের সরকারও জানে। বাংলাদেশের ভারতের ওপর নির্ভরতা অনস্বীকার্য। সেটা ডিজেল থেকে গঙ্গা পানি-চুক্তি অথবা পেঁয়াজ সহ নানান পণ্যের আমদানি-রপ্তানি, সড়ক সংযোগ, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বাংলাদেশের বাণিজ্য-সব বিষয়েই দুটো দেশের সম্পর্ক গভীরভাবে যুক্ত। ভারতের ও প্রয়োজন একইভাবে! কাজেই মুষ্টিযুদ্ধ কূটনীতির ব্যাকরণ নয়।

শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের আবার প্রধানমন্ত্রী করা—এটাও কখনো ভারতের কূটনৈতিক লক্ষ্য হতে পারে না। শেখ হাসিনা ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশে যেতে চাইলে এবং বাংলাদেশের সরকারও তাঁকে ফেরত চাইলে, তারেক সাহেবের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদীর দেখা হলে এসব নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হতে পারে। ব্রিকসের বৈঠকে বাংলাদেশের না আসা তেমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা নয়। কারণ ব্রিকসের সম্মেলনটা হচ্ছে ‘বহু-পাক্ষিক’। সেখানে রাশিয়া, চিন, ভারত-তারা আলোচনাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। কিন্তু বাংলাদেশের সঙ্গে প্রথম থেকেই ব্রিকস নয়, দ্বিপাক্ষিক সফরের কথাই আলাপ-আলোচনার স্তরে ছিল।

আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বলা হয়, দুটি সার্বভৌম রাষ্ট্র তারা নিজেদের মধ্যে যখন আলোচনা করে, তখন কিছু বিষয় থাকে যেগুলি হচ্ছে দুটি দেশের অ্যাসপিরেশন বা ডিজায়ার। সেই ডিজায়ার শতকরা ১০০ ভাগ পূরণ নাও হতে পারে, কিন্তু আলাপ-আলোচনার মধ্যে দুটি দেশের মধ্যে কিছু ডিজায়ারের প্রাপ্তি হয়। আর সেটাকেই বলা হয় অ্যাফেক্টিভ ডিজায়ার (কার্যকর আকাঙ্ক্ষা)। গঙ্গা চুক্তি ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে, তার আগেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে গঙ্গা চুক্তি চূড়ান্ত করার ব্যাপারে কথাবার্তা বলতে পারেন। শেখ হাসিনার বিষয়, এমনকি হাদীর হত্যাকাণ্ড, ভারত তার আততায়ীকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেবে? এসব বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হতেই পারে।

সুতরাং আমরা যদি প্রথমেই ধরে নিই তারেক পাকিস্তান এবং চিনের স্বার্থরক্ষা করছেন-তিনি ভারত বিরোধী। তাহলে নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতায় আসার পর যে ‘প্রতিবেশী প্রথম-বিদেশনীতির বাস্তবায়ন অসুবিধাজনক হয়ে যায়। নরেন্দ্র মোদী সেটা জানেন। কেননা এর সঙ্গে তার ‘অ্যাক্ট-ইস্ট পলিসি’ বিশেষভাবে যুক্ত হয়ে আছে।‌ সেটা অনেক বেশি দ্রুত এগোতে পারে।

জামায়াত এখন বিরোধী দল। বিজেপি তথা সংঘ পরিবারের জামাতের রাজনীতির সঙ্গে বিরোধ থাকতে পারে। কিন্তু জামাতের শীর্ষ নেতারাও এবারে বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে ভারতবিরোধী বক্তব্য কার্যত রাখছেন না। তাঁরাও দেখতে চাইছেন, ভারত কীভাবে আগামীদিনে এগোয়। বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্করও খালেদা জিয়ার শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যখন গিয়েছিলেন, তখনও সেখানে গিয়েও প্রধান জামাত নেতার সঙ্গে সৌজন্যমূলক বৈঠক করেছিলেন। সেটা কোনো গোপন বৈঠক নয়। প্রকাশ্যে সেই বৈঠক হতে আমরা দেখেছি। বিরোধী দল জামায়াত। তারেক সাহেবও বিরোধী দলকে দুরমুশ করে দেব, এই মনোভাব নিয়ে যে যাচ্ছেন না, সেটা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইকোসিস্টেমকে শক্তিশালীই করছে। ভারতও মনে করে, আলাপ আলোচনাই একমাত্র পথ। আফগানিস্তানে যদি তালিবানের সঙ্গে ভারত আলাপ আলোচনা করতে পারে, তালিবানের বিদেশমন্ত্রী যদি ভারতে আসতে পারেন, সেখানে বাংলাদেশকে অচ্ছুত করে রাখাটা সম্পূর্ণ ভুল বলে মনে করি।

সাউথ ব্লক থেকে বেরোনোর সময়ও অন্তত এই আশাটুকু নিয়ে বেরোলাম যে, এখনও তারেক সাহেবকে ভারতে নিয়ে আসার চেষ্টা সাউথ ব্লকের পক্ষ থেকে বন্ধ হয়নি। আশা করা হচ্ছে, এখন যিনি বাংলাদেশের বিদেশ সচিব তিনি ভারতের হাইকমিশনার হয়ে অক্টোবর মাসের মধ্যে দিল্লি পৌঁছে যাবেন। আর নভেম্বর মাসের শেষে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে আসতে পারবেন। ভারত এবং বাংলাদেশের সম্পর্কটা চিরস্থায়ী বিষয়। রাজনীতির চরিত্র আসবে-যাবে। দুদেশের সম্পর্ক অটুট রাখাই দুদেশের স্বার্থ। তাই তারেক সাহেবের ভারতে আসা শুধু বাংলাদেশের সার্বভৌম স্বার্থ নয়, ভারতেরও স্বার্থ। আমরা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।