নতুন করে গড়তে হবে ২০ হাজার ঘর, এখনো নিখোঁজদের খুঁজছে নেপাল
- Update Time : 08:24:48 am, Thursday, 3 September 2026
- / 5 Time View
নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রায় ২০ হাজার ঘরবাড়ি নতুন করে নির্মাণ করতে হবে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানানো হয়।
এদিকে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আটকা পড়া মানুষদের উদ্ধারে অভিযান চলছে।
বিশেষ করে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি সুড়ঙ্গে আটকে থাকা শ্রমিকদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন উদ্ধারকারীরা। গত সপ্তাহের ভয়াবহ দুর্যোগের পর এখনো ৪ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছে।
গত ২৬ আগস্ট হিমবাহ ধসে বিপুল পরিমাণ বরফ, পাথর ও কাদামাটি নেমে আসে।
এতে চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী নেপালের দরিদ্র অঞ্চলগুলোতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে। অনেক বসতি ও গ্রাম পানির স্রোত ও ধ্বংসস্তূপে তলিয়ে যায়। বহু ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রধান ধর্মরাজ উপ্রেতি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ৭ হাজার ৫০০ ঘর সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে।
এসব ঘরের কিছু পানির স্রোতে ভেসে গেছে, আবার কিছু কাদা ও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে।
তিনি বলেন, যেসব ঘর এখনো দাঁড়িয়ে আছে, সেগুলোর অনেকগুলোও বসবাসের উপযোগী নেই। কর্তৃপক্ষের ধারণা, সব মিলিয়ে প্রায় ২০ হাজার ঘর নতুন করে নির্মাণ করতে হবে। এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ২০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। বরফ, কাদা ও পাথরবাহী প্রবল পানির স্রোত সীমান্তবর্তী বিভিন্ন শহর ও গ্রামের ঘরবাড়ি, সড়ক ও স্কুল ভাসিয়ে নিয়ে যায়।
এখনো ৪ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। এ ছাড়া হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। এদিকে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত সুড়ঙ্গগুলোতে আটকে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উদ্ধার অভিযানে যুক্ত এক সেনা কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নিখোঁজ শ্রমিকদের জীবিত উদ্ধারের আশায় সুড়ঙ্গগুলোতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
তিনি জানান, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনের বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় সব সুড়ঙ্গে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। ওই সেনা কর্মকর্তা বলেন, ‘জীবিতদের উদ্ধারের সামান্য সম্ভাবনা থাকলেও উদ্ধার অভিযান চলবে। আর কেউ জীবিত না থাকলেও মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা করা হবে।’
দক্ষিণ কোরিয়ার বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপ জানিয়েছে, একটি বিশেষ উদ্ধারকারী দল নেপালে পৌঁছেছে। দলটির সঙ্গে ড্রোন, প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী কুকুর, শব্দ শনাক্তকারী যন্ত্র, ভিডিও সরঞ্জাম এবং তাপ শনাক্তকারী ক্যামেরা রয়েছে। দলটি বাতার এলাকায় ঘাঁটি স্থাপন করেছে।
সেখানেই আপার ত্রিশূলী-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি সুড়ঙ্গ রয়েছে। ওই সুড়ঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার নয়জন শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে নেপাল সরকার। দুর্যোগে অনেক মানুষ ঘরবাড়ি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হারিয়েছেন।
নেপালের জাতীয় জরুরি পরিচালনা কেন্দ্রের কর্মকর্তা ফণীন্দ্র পৌডেল বলেন, ‘মানুষ সবকিছু হারিয়েছে। অনেকের নাগরিকত্বের পরিচয়পত্র বা পাসপোর্টও নেই।’ দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে যতটা সম্ভব স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে শিশুদের পড়াশোনা আবার চালু করার ওপর। এ জন্য অস্থায়ী স্কুল চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, বন্যার এক সপ্তাহেরও বেশি সময় পরও অন্তত ২২ হাজার শিশুর নিরাপদ পানীয় জল, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি-সংক্রান্ত জরুরি সহায়তা প্রয়োজন।
ফণীন্দ্র পৌডেল বলেন, ‘আমাদের অগ্রাধিকার হলো স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে আনা। নিয়মিত ক্লাস শুরু না হওয়া পর্যন্ত শিশুদের অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে পড়ানো যায় কি না, আমরা তা বিবেচনা করছি।’ তবে শিশুদের ক্লাস নেওয়ার জন্য নিরাপদ ভবন খুঁজে পাওয়া বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা। অনেক স্কুল ভবন বন্যা ও ধ্বংসস্তূপে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিকল্প জায়গায় পাঠদান চালু করার চেষ্টা চলছে।