Dhaka 1:50 pm, Tuesday, 20 October 2026
সর্বশেষ
তারেক রহমানের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ: ব্যক্তি নয়, প্রাধান্য দেশের সাভারে আত্মগোপনে থাকা ধামরাইয়ের সাবেক কাউন্সিলর,আ.লীগ নেতা আরিফ গ্রেপ্তার বনানী থেকে গ্রেপ্তার ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের এমডি দিলীপ আগারওয়ালা মালয়েশিয়ায় পেনাং রাজ্য জর্জ টাউনে হাইকমিশনে কনস্যুলার সেবা পেলেন তিন শতাধিক বাংলাদেশি ভাসমান হাসপাতাল ও ওয়াটারবাসের মডেল পরিদর্শনে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী পূজার ছুটিতে মেট্রো রেলের সূচিতে পরিবর্তন জুলাই হত্যা মামলায় রিমান্ড শেষে কারাগারে মেনন নারায়ণগঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ১৯ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশ্বকাপে গ্রুপসেরা হতে চায় বাংলাদেশ

৩ দেশের কাছে ক্ষতিপূরণ চায় নেপাল

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 02:01:01 pm, Wednesday, 2 September 2026
  • / 33 Time View

হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পর যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও চীনের কাছে ‘জলবায়ুজনিত ক্ষতিপূরণ’ দাবি করছে নেপাল। এই তিন দেশকে বিশ্বের প্রধান গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণকারী হিসেবে উল্লেখ করে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির জন্য তাদের দায় নিতে হবে।

এক সপ্তাহ আগে ভোতেকোশি নদীতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় দেশটির অন্তত তিনটি জেলার গ্রাম ভেসে যায়। উচ্চভূমিতে হিমবাহ ধসে বিপুল পরিমাণ বরফশীতল পানি, পাথর ও ধ্বংসাবশেষের স্রোত তিব্বত-নেপাল সীমান্ত থেকে নেমে এসে এই বিপর্যয় সৃষ্টি করে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, এখন পর্যন্ত উদ্ধারকারী দল ১ হাজার ১০০টির বেশি মরদেহ উদ্ধার করেছে। তবে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

সহায়তা নয়, জবাবদিহি চায় নেপাল

এদিকে বিপর্যয়ের পর আন্তর্জাতিক আর্থিক সহায়তা চেয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে নেপাল। স্থানীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল বলেছেন, দুর্যোগ-পরবর্তী সহায়তাকে ‘দয়া’ হিসেবে নয়, বরং ‘নৈতিক দায়বদ্ধতা’ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

খানাল বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নে নেপালের গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ ‘প্রায় নগণ্য’ হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের অসম প্রভাব দেশটিকেই বহন করতে হচ্ছে। এর মধ্যে দ্রুত হিমবাহ গলে যাওয়া এবং ভয়াবহ পাহাড়ি দুর্যোগ অন্যতম।

আমরা এমন একটি বৈশ্বিক সংকটের চরম মূল্য দিচ্ছি, যে সংকট আমরা তৈরি করিনি। হিমবাহের দ্রুত গলে যাওয়া এবং এসব ভয়াবহ পাহাড়ি সুনামি বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি পরিণতি। 

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় নেপাল তার কূটনৈতিক অবস্থান ‘সহায়তা’ থেকে ‘ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণ’-এর দিকে নিয়ে যাচ্ছে। তার ভাষায়, ‘এটি দয়ার বিষয় নয়; এটি আইনি ও নৈতিক দায়বদ্ধতার বিষয়।’

তার মতে, বিশ্বের প্রধান শিল্পোন্নত ও গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণকারী দেশগুলোর ঐতিহাসিক দায় রয়েছে।

তিনি চীনকে বিশ্বের সর্বোচ্চ নিঃসরণকারী, যুক্তরাষ্ট্রকে দ্বিতীয় এবং ভারতকে তৃতীয় বৃহত্তম নিঃসরণকারী হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এসব দেশের উচিত নেপালের মতো জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া। 

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষায়, ‘এটি সভ্যতার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার প্রশ্ন। আমাদের হিমালয় অঞ্চলের হিমবাহগুলো যদি বিলীন হয়ে যায়, তাহলে গঙ্গা ও ত্রিশূলীর মতো নদীর ওপর নির্ভরশীল দক্ষিণ এশিয়ার ২০০ কোটিরও বেশি মানুষের পানির নিরাপত্তা স্থায়ীভাবে হুমকির মুখে পড়বে।’

নেপাল শুধু নিজের জন্য নয়, পুরো দক্ষিণ এশিয়ার সভ্যতার অস্তিত্ব রক্ষার জন্য এই দাবি জানাচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

৩ দেশের কাছে ক্ষতিপূরণ চায় নেপাল

Update Time : 02:01:01 pm, Wednesday, 2 September 2026

হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পর যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও চীনের কাছে ‘জলবায়ুজনিত ক্ষতিপূরণ’ দাবি করছে নেপাল। এই তিন দেশকে বিশ্বের প্রধান গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণকারী হিসেবে উল্লেখ করে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির জন্য তাদের দায় নিতে হবে।

এক সপ্তাহ আগে ভোতেকোশি নদীতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় দেশটির অন্তত তিনটি জেলার গ্রাম ভেসে যায়। উচ্চভূমিতে হিমবাহ ধসে বিপুল পরিমাণ বরফশীতল পানি, পাথর ও ধ্বংসাবশেষের স্রোত তিব্বত-নেপাল সীমান্ত থেকে নেমে এসে এই বিপর্যয় সৃষ্টি করে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, এখন পর্যন্ত উদ্ধারকারী দল ১ হাজার ১০০টির বেশি মরদেহ উদ্ধার করেছে। তবে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

সহায়তা নয়, জবাবদিহি চায় নেপাল

এদিকে বিপর্যয়ের পর আন্তর্জাতিক আর্থিক সহায়তা চেয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে নেপাল। স্থানীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল বলেছেন, দুর্যোগ-পরবর্তী সহায়তাকে ‘দয়া’ হিসেবে নয়, বরং ‘নৈতিক দায়বদ্ধতা’ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

খানাল বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নে নেপালের গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ ‘প্রায় নগণ্য’ হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের অসম প্রভাব দেশটিকেই বহন করতে হচ্ছে। এর মধ্যে দ্রুত হিমবাহ গলে যাওয়া এবং ভয়াবহ পাহাড়ি দুর্যোগ অন্যতম।

আমরা এমন একটি বৈশ্বিক সংকটের চরম মূল্য দিচ্ছি, যে সংকট আমরা তৈরি করিনি। হিমবাহের দ্রুত গলে যাওয়া এবং এসব ভয়াবহ পাহাড়ি সুনামি বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি পরিণতি। 

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় নেপাল তার কূটনৈতিক অবস্থান ‘সহায়তা’ থেকে ‘ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণ’-এর দিকে নিয়ে যাচ্ছে। তার ভাষায়, ‘এটি দয়ার বিষয় নয়; এটি আইনি ও নৈতিক দায়বদ্ধতার বিষয়।’

তার মতে, বিশ্বের প্রধান শিল্পোন্নত ও গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণকারী দেশগুলোর ঐতিহাসিক দায় রয়েছে।

তিনি চীনকে বিশ্বের সর্বোচ্চ নিঃসরণকারী, যুক্তরাষ্ট্রকে দ্বিতীয় এবং ভারতকে তৃতীয় বৃহত্তম নিঃসরণকারী হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এসব দেশের উচিত নেপালের মতো জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া। 

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষায়, ‘এটি সভ্যতার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার প্রশ্ন। আমাদের হিমালয় অঞ্চলের হিমবাহগুলো যদি বিলীন হয়ে যায়, তাহলে গঙ্গা ও ত্রিশূলীর মতো নদীর ওপর নির্ভরশীল দক্ষিণ এশিয়ার ২০০ কোটিরও বেশি মানুষের পানির নিরাপত্তা স্থায়ীভাবে হুমকির মুখে পড়বে।’

নেপাল শুধু নিজের জন্য নয়, পুরো দক্ষিণ এশিয়ার সভ্যতার অস্তিত্ব রক্ষার জন্য এই দাবি জানাচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।