দেশে ‘প্রথম’ রোবটিক সার্জারি চিকিৎসায় নতুন মাইলফলক
- Update Time : 01:28:13 am, Tuesday, 1 September 2026
- / 2 Time View
ইউনাইটেড হেলথকেয়ারে পিত্তথলির পাথর ও জরায়ুর সমস্যায় আক্রান্ত দুই রোগীর সফল রোবটিক সার্জারির পর গতকাল চিকিৎসকদের সংবাদ সম্মেলন। ছবি : কালের কণ্ঠ
অস্ত্রোপচার কক্ষে এবার চিকিৎসকের পাশে রোবট। মানুষের হাত যেখানে পৌঁছতে পারে না, সেখানেও সূক্ষ্ম অস্ত্রোপচারের সক্ষমতা নিয়ে বাংলাদেশে শুরু হলো রোবটিক সার্জারির যাত্রা।
গতকাল সোমবার রাজধানীর মাদানী এভিনিউয়ের ইউনাইটেড হেলথকেয়ারে পিত্তথলির পাথর ও জরায়ুর সমস্যায় আক্রান্ত দুই রোগীর সফল অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে দেশে ‘প্রথমবারের মতো’ রোবটিক সার্জারি চালু হলো।
গতকাল এক পুরুষ (৫৭) রোগীর পিত্তথলির পাথর অপসারণে রোবটিক পদ্ধতিতে অস্ত্রোপচার এবং এক নারীর (৪৫) অতিরিক্ত জরায়ু রক্তক্ষরণজনিত সমস্যায় জরায়ু অপসারণের অস্ত্রোপচার করা হয়।
অস্ত্রোপচার দুটি পরিচালনা করেন অধ্যাপক ডা. রফিকুস সালেহীন ও অধ্যাপক ডা. সামছাদ জাহান (শেলী)। রাত ৮টায় সফল অস্ত্রোপচার শেষে সাংবাদিকদের রফিকুস সালেহীন বলেন, রোবটিক সার্জারির জন্য গতকালই সরকারের অনুমতি পাওয়া যায়।
অনুমতির পরই এক দিনে দুই রোগীর শরীরে রোবটিক প্রযুক্তিতে সফল অস্ত্রোপচার করা হয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, রোবটিক প্রযুক্তির ব্যবহারে বড় ধরনের কাটাছেঁড়া ছাড়াই অস্ত্রোপচার করা সম্ভব। এতে রক্তক্ষরণ ও আশপাশের টিস্যুর ক্ষতি কমে, অস্ত্রোপচার-পরবর্তী ব্যথা কম হয় এবং রোগী তুলনামূলক দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে পারে।
রোবটিক সার্জারিতে চিকিৎসক সরাসরি রোবট দিয়ে অস্ত্রোপচার করেন না।
চিকিৎসক একটি নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার মাধ্যমে রোবটিক যন্ত্রের প্রতিটি নড়াচড়া পরিচালনা করেন। রোবটিক ব্যবস্থায় শরীরের ভেতরের অংশ ত্রিমাত্রিক ও বড় করে স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
রফিকুস সালেহীন বলেন, রোবটিক সার্জারি চিকিৎসাবিজ্ঞানের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। রোবটিক বাহুর ৩৬০ ডিগ্রি নড়াচড়ার সুবিধায় মানুষের হাতের পক্ষে কঠিন এমন সংকীর্ণ ও জটিল স্থানেও নিয়ন্ত্রিতভাবে কাজ করা সম্ভব। এতে গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালি ও আশপাশের অঙ্গ নিরাপদ রাখার পাশাপাশি কম কাটাছেঁড়ায় অস্ত্রোপচার করা যায়।
কার্ডিয়াক থেকে নিউরোসার্জারি : সামছাদ জাহান (শেলী) জানান, শিগগিরই হৃদরোগের ও মস্তিষ্কের অস্ত্রোপচার, মূত্রনালির ও সাধারণ অস্ত্রোপচার, স্ত্রীরোগ ও বক্ষদেশের অস্ত্রোপচারেও রোবটিক প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, যেসব উন্নত চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশি রোগীদের বিদেশে যেতে হয়, সেগুলোর বড় একটি অংশ দেশেই দেওয়ার সক্ষমতা তৈরি করা তাঁদের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য। এতে রোগীদের বিদেশমুখিতা কমার পাশাপাশি চিকিৎসার পেছনে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ের চাপ কমবে।
চিকিৎসায় রোবটিক প্রযুক্তির প্রবেশ বড় অগ্রগতি। তবে এই চিকিৎসা কতটা সাধারণ মানুষের নাগালে আসবে, সেটিই বড় প্রশ্ন। রোবটিক যন্ত্রপাতি, রক্ষণাবেক্ষণ, দক্ষ চিকিৎসক ও জনবল এবং অস্ত্রোপচারের ব্যয়—সব মিলিয়ে এই চিকিৎসা ব্যয়বহুল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই শুধু রোবট দেশে আনলেই হবে না; এর নিরাপদ ব্যবহার, দক্ষ জনবল তৈরি, রোগীর সামর্থ্যের মধ্যে চিকিৎসাব্যয় নির্ধারণ এবং মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করাও জরুরি।
এর আগে ২০২৪ সালে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে রোবটের মাধ্যমে দুই রোগীর হৃদরোগের চিকিৎসায় ধমনিতে রক্তনালি খোলার যন্ত্র বসানো হয়েছিল। তবে ইউনাইটেড হেলথকেয়ারের চিকিৎসকদের দাবি, ওই কার্যক্রম এবং বর্তমান রোবটিক সার্জারি এক ধরনের প্রযুক্তি নয়। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে করা হয়েছিল রোবট-নিয়ন্ত্রিত হৃদরোগের একটি বিশেষ চিকিৎসাপ্রক্রিয়া। সেটি নিয়মিত সেবা হিসেবে চালু করা হয়নি; প্রদর্শনীর উদ্দেশ্যে রোবটটি আনা হয়েছিল।
