শ্রমিক বিক্ষোভে ৩ শতাধিক পোশাক কারখানা ছুটি
- Update Time : 01:21:10 pm, Sunday, 1 November 2026
- / 9 Time View
সর্বনিম্ন মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ কয়েকটি দাবিতে আন্দোলন করছেন পোশাক শ্রমিকরা। রবিবার (১ নভেম্বর) সকাল থেকে রাজধানীর মিরপুরের কয়েকটি মোড় অবরোধ করেন শ্রমিকরা।
একই দাবিতে আন্দোলন হয়েছে পোশাক শিল্প এলাকা আশুলিয়া, সাভার ও গাজীপুরে।
আন্দোলনের ফলে এসব এলাকার তিন শতাধিক পোশাক কারখানা ছুটি ছিল বলে জানিয়েছে শিল্প পুলিশ। শিল্প পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাভার ও আশুলিয়ায় ১৭৭টি পোশাক কালখানা ছুটি ছিল। এদিকে গাজীপুরে ছুটি ছিল শতাধিক কারখানা।
শিল্প পুলিশ-১ এর আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের পুলিশ সুপার মো. মুমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পোশাক কারখানার শ্রমিকরা সকাল থেকেই কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ করছেন। তাদের আন্দোলনের মুখে নিরাপত্তার স্বার্থে সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের ১৭৭টি তৈরি পোশাক কারখানায় আজকের (রবিবার) জন্য ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।’
শ্রমিকদের যৌক্তিক আন্দোলনে বাধা দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে সরকার মজুরি বোর্ড গঠনের পরও এ ধরনের বিক্ষোভের পেছনে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার কোনো চেষ্টা রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে শিল্প পুলিশের ওই কর্মকর্তা।
তিনি জানান, অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কারখানাগুলোর সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
শিল্প পুলিশ-২ এর গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে চৌরাস্তা থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত শতাধিক কারখানা ছুটি ছিল আজ। অন্য কারখানাগুলোতে স্বাভাবিক উৎপাদক হয়েছে।’
আগামীকাল সোমবার সব কারখানা খোলা থাকবে এবং উৎপাদন স্বাভাবিক থাকবে বলে আশা ব্যক্ত করেন শিল্প পুলিশ-২ এর গাজীপুরের পুলিশ সুপার।
নেপথ্যে আওয়ামী লীগ, বলছে পুলিশ
এদিকে সকাল থেকে রাজধানীর মিরপুর এলাকায় আন্দোলন করেছেন পোশাক শ্রমিকরা।
দুপুরে মজুরি বোর্ড ঘোষণার পর পুলিশ আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে গেলে উভয়পক্ষের সংঘর্ষ হয়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১৩ জনকে। পুলিশের দাবি, আন্দোলন থেকে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ সংগঠনের সঙ্গে জড়িত।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ রাকিব খান আজ সংবাদমাধ্যমকে জানান, আন্দোলন সহিংস রূপ নেওয়ার পর পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি গাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ১১ জন নেতাকর্মীকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্ত ও গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে, নিষিদ্ধ দলের নেতাকর্মীরা এই নাশকতা চালাচ্ছে।
ডিবি পুলিশ আরো জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা মূলত স্থানীয় পোশাক কারখানার শ্রমিক নন; তারা বরিশাল, পটুয়াখালী, কক্সবাজার ও গাইবান্ধাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এসে শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে নাশকতার উদ্দেশ্যে মিরপুরে জড়ো হয়েছিলেন। এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকের ছদ্মবেশে জনমনে আতঙ্ক ছড়ানো এবং দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির দুরভিসন্ধি ও সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা সাধারণ পোশাক শ্রমিকদের ছদ্মবেশ ধারণ করে বা তাদের অন্তরালে থেকে এই নাশকতা পরিচালনা করছে।
মজুরি বোর্ড ঘোষণা
পোশাক শ্রমিকদের সর্বনিম্ন বেতন বেতন নির্ধারণে মজুরি বোর্ড ঘোষণা করেছে সরকার। আজ রবিবার দুপুরে সচিবালয়ে মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা করেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
নতুন মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান করা হয়েছে সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানকে। বোর্ডের অন্য সদস্যরা হলেন নিরপেক্ষ সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ, মালিক পক্ষের প্রতিনিধি বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম মহাসচিব মো. আসিফ আইয়ুব এবং শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন।
এ ছাড়া তৈরি পোশাকশিল্পের জন্য মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বোর্ডে রয়েছেন বিজিএমইএর পরিচালক এ বি এম শামসুদ্দিন এবং শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার।
মন্ত্রীদের ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী
শ্রমিকদের বিক্ষোভের মধ্যে তার সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর বাতিল করেছেন মন্ত্রী। এদিকে শ্রমিক অসন্তোষ মোকাবেলায় করণীয় নির্ধারণ করতে সন্ধ্যায় কয়েকজন মন্ত্রীকে নিজের কার্যালয়ে ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সূত্র জানায়, শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী দুপুর ১টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী ছয় থেকে সাতজন মন্ত্রী ও উপদেষ্টাকে ডেকেছেন। অর্থ, স্বরাষ্ট্র ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীসহ আরও কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের নিয়ে সন্ধ্যায় ‘জরুরি বৈঠকে’ বসতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
