Dhaka 7:32 pm, Wednesday, 4 November 2026
সর্বশেষ
সাভারে শ্রমিক অসন্তোষের সংবাদ সংগ্রহের সময়, মুখোশধারীদের হামলা, ৫ সাংবাদিক আহত অবৈধ অভিবাসী ঠেকাতে মালয়েশিয়ায় বিশেষ অভিযানে ৪ হাজার আটক বিশ্ববিদ্যালয় হোক মুক্তচিন্তার জায়গা, রাজনৈতিক প্রতিশোধের নয়: এইচআরডব্লিউ বিশ্ববিদ্যালয় ফুটবলে প্রতিভা অন্বেষণের মঞ্চ এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ অপহরণের পর বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ, চট্টগ্রামে যুবক গ্রেপ্তার ঢাকায় ৫ নভেম্বর শুরু হচ্ছে এআই বিজনেস সামিট ওয়াই আকৃতির দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর নয়াদিল্লি থেকে ম্যানিলা, আটলান্টা—২০২৬ সালে নতুন গতি পেয়েছে কোয়াড বৈশ্বিক উৎপাদনকেন্দ্র হতে চায় বাংলাদেশ, সমন্বিত নেটওয়ার্ক গড়ার প্রস্তাব হাতি-গাধার মধ্যবর্তী লড়াইয়ে যেভাবে পাল্টাতে পারে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি

বাংলা-ইংরেজির বাইরে তৃতীয় ভাষা হিসেবে ইতালীয় শেখাতে চায় সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 11:12:48 am, Tuesday, 3 November 2026
  • / 14 Time View

বাংলা ও ইংরেজির বাইরে তৃতীয় ভাষা হিসেবে ইতালীয় ভাষা শেখানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। বিদেশে দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর পাশাপাশি কর্মীদের ভাষাগত ও পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে ইতালির প্রশিক্ষণ মডেল দেশের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে (টিটিসি) সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘ল্যাঙ্গুয়েজ, সিভিক অ্যান্ড প্রফেশনাল ট্রেনিং ফর স্কিলড মাইগ্রেশন টু ইতালি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে ইতালি দূতাবাসের সহযোগিতা চেয়ে মাহদী আমিন বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে বাংলা ও ইংরেজির বাইরে তৃতীয় ভাষা শেখাকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ইতালিতে কর্মসংস্থানের জন্য চালু হওয়া প্রশিক্ষণ মডেল দেখে ইতালীয় ভাষাকে তৃতীয় ভাষা হিসেবে চালুর ক্ষেত্রে দূতাবাসের সহযোগিতা নিতে চায় সরকার। পাশাপাশি অন্যান্য ভাষা শেখার উদ্যোগও নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সরকারের কাছে বিচ্ছিন্ন কোনো প্রকল্প নয়। বরং এটি ভবিষ্যতে বৃহত্তর পরিসরে বাস্তবায়ন ও সম্প্রসারণের একটি মডেল। এ ক্ষেত্রে ইতালির অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চা কাজে লাগিয়ে সরকারি পর্যায়ে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সহযোগিতায় উদ্যোগটি এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচিত সরকার বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য প্রশিক্ষণ নেওয়া কর্মীদের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে।

ইতালীয় ভাষা শেখার পাশাপাশি তারা নির্দিষ্ট পেশাগত দক্ষতা, শিষ্টাচার ও নৈতিক মূল্যবোধের প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। এসব দক্ষতা কাজে লাগিয়ে ইতালিতে গেলে তাদের জন্য কাজের সুযোগ তৈরি হবে। 

তিনি বলেন, প্রশিক্ষণার্থীরা পাঁচ থেকে ছয় মাসের প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় ভাষা হিসেবে ইতালীয় ভাষা শিখছেন। এই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য একটি কার্যকর মডেল হতে পারে। তাদের প্রশিক্ষণের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি) এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থায় (টিভিইটি) এই মডেল যতটা সম্ভব সম্প্রসারণের চেষ্টা করবে সরকার।

মাহদী আমিন বলেন, প্রশিক্ষণার্থীরা শুধু নিজেদের ক্যারিয়ার গড়ছেন না, বরং দেশের জন্যও একটি নতুন মডেল তৈরি করছেন। তাদের অনুসরণ করে পরবর্তী প্রজন্মের কর্মীদেরও দক্ষ করে বিদেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রবাসীদের জন্য সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকার ইতিমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার্স কার্ড চালু করেছে। একই সঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য প্রবাসী কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিদেশে যাওয়ার সময় প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

তিনি বলেন, প্রবাসী কার্ডের মাধ্যমে দেশে রেমিট্যান্স পাঠানো, পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা এবং রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রবাসীরা সহযোগিতা পাবেন। এ ছাড়া মন্ত্রণালয় ও সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে দক্ষ অভিবাসনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।

প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে মাহদী আমিন বলেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ধাপে ধাপে তাদের বিদেশে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। তাদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে এবং এ ক্ষেত্রে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করবে।

তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের অভিনন্দন জানান এবং তাদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের সাফল্য কামনা করেন।
কালের কণ্ঠের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বাংলা-ইংরেজির বাইরে তৃতীয় ভাষা হিসেবে ইতালীয় শেখাতে চায় সরকার

Update Time : 11:12:48 am, Tuesday, 3 November 2026

বাংলা ও ইংরেজির বাইরে তৃতীয় ভাষা হিসেবে ইতালীয় ভাষা শেখানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। বিদেশে দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর পাশাপাশি কর্মীদের ভাষাগত ও পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে ইতালির প্রশিক্ষণ মডেল দেশের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে (টিটিসি) সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘ল্যাঙ্গুয়েজ, সিভিক অ্যান্ড প্রফেশনাল ট্রেনিং ফর স্কিলড মাইগ্রেশন টু ইতালি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে ইতালি দূতাবাসের সহযোগিতা চেয়ে মাহদী আমিন বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে বাংলা ও ইংরেজির বাইরে তৃতীয় ভাষা শেখাকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ইতালিতে কর্মসংস্থানের জন্য চালু হওয়া প্রশিক্ষণ মডেল দেখে ইতালীয় ভাষাকে তৃতীয় ভাষা হিসেবে চালুর ক্ষেত্রে দূতাবাসের সহযোগিতা নিতে চায় সরকার। পাশাপাশি অন্যান্য ভাষা শেখার উদ্যোগও নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সরকারের কাছে বিচ্ছিন্ন কোনো প্রকল্প নয়। বরং এটি ভবিষ্যতে বৃহত্তর পরিসরে বাস্তবায়ন ও সম্প্রসারণের একটি মডেল। এ ক্ষেত্রে ইতালির অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চা কাজে লাগিয়ে সরকারি পর্যায়ে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সহযোগিতায় উদ্যোগটি এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচিত সরকার বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য প্রশিক্ষণ নেওয়া কর্মীদের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে।

ইতালীয় ভাষা শেখার পাশাপাশি তারা নির্দিষ্ট পেশাগত দক্ষতা, শিষ্টাচার ও নৈতিক মূল্যবোধের প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। এসব দক্ষতা কাজে লাগিয়ে ইতালিতে গেলে তাদের জন্য কাজের সুযোগ তৈরি হবে। 

তিনি বলেন, প্রশিক্ষণার্থীরা পাঁচ থেকে ছয় মাসের প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় ভাষা হিসেবে ইতালীয় ভাষা শিখছেন। এই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য একটি কার্যকর মডেল হতে পারে। তাদের প্রশিক্ষণের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি) এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থায় (টিভিইটি) এই মডেল যতটা সম্ভব সম্প্রসারণের চেষ্টা করবে সরকার।

মাহদী আমিন বলেন, প্রশিক্ষণার্থীরা শুধু নিজেদের ক্যারিয়ার গড়ছেন না, বরং দেশের জন্যও একটি নতুন মডেল তৈরি করছেন। তাদের অনুসরণ করে পরবর্তী প্রজন্মের কর্মীদেরও দক্ষ করে বিদেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রবাসীদের জন্য সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকার ইতিমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার্স কার্ড চালু করেছে। একই সঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য প্রবাসী কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিদেশে যাওয়ার সময় প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

তিনি বলেন, প্রবাসী কার্ডের মাধ্যমে দেশে রেমিট্যান্স পাঠানো, পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা এবং রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রবাসীরা সহযোগিতা পাবেন। এ ছাড়া মন্ত্রণালয় ও সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে দক্ষ অভিবাসনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।

প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে মাহদী আমিন বলেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ধাপে ধাপে তাদের বিদেশে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। তাদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে এবং এ ক্ষেত্রে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করবে।

তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের অভিনন্দন জানান এবং তাদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের সাফল্য কামনা করেন।
কালের কণ্ঠের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন