Dhaka 9:39 pm, Sunday, 11 October 2026
সর্বশেষ
সামাজিক সমস্যার স্থায়ী সমাধানে মানুষের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন প্রয়োজন গরুর মাংসের কেজি ২৫০ টাকায় আনার দাবিতে আইনি নোটিশ রূপপুরে প্রথমবারের মতো সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন ধর্মমন্ত্রী হাম উপসর্গে ৭ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১২৭৩ জিবুতি উপকূলে নৌকাডুবি, ১৫ শিশুসহ ১০৯ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু দুর্গাপূজায় তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পুলিশ : আইজিপি সাউথ এশিয়ান ইউনিভার্সিটির গভর্নরস বোর্ডের চেয়ারম্যান হলেন ড. মামুন মেসি-সুয়ারেজের জোড়া গোলে বড় জয় মায়ামির সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে মশকরা, সমালোচনায় তানজিন তিশা

স্তন ক্যান্সার : লজ্জা নয়, চাই দ্রুত শনাক্তকরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 12:41:52 pm, Saturday, 10 October 2026
  • / 13 Time View

লজ্জা, সংকোচ ও অসচেতনতার কারণে স্তন ক্যান্সারের লক্ষণ দেখা দেওয়ার পরও অনেক নারী চিকিৎসকের কাছে যেতে দেরি করেন। এতে রোগ শনাক্ত হতে হতে অনেক সময় তা জটিল পর্যায়ে পৌঁছে যায়।

অথচ প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসায় ভালো ফল পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। তাই স্তন ক্যান্সার নিয়ে সামাজিক সংকোচ কাটানো, দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। 

শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) ‘স্তন ক্যান্সারের বৈশ্বিক ও জাতীয় পরিস্থিতি বিশ্লেষণ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ স্তন ক্যান্সার সচেতনতা ফোরাম ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দেশে ক্যান্সারের সঠিক চিত্র জানতে জনগোষ্ঠীভিত্তিক ক্যান্সার নিবন্ধন জরুরি। পাশাপাশি স্তন ক্যান্সার শনাক্তে স্ক্রিনিং কার্যক্রম বাড়ানো এবং সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে চিকিৎসাসুবিধা সম্প্রসারণ করতে হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, স্তন ক্যান্সার শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্বব্যাপী নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার অন্যতম বড় হুমকি। প্রতিবছর দেশে হাজার হাজার নারী এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

তবে স্তন ক্যান্সার মানেই নিরাশা নয়। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত হলে সঠিক চিকিৎসায় নিরাময়ের সম্ভাবনা অনেক বেশি। নারীদের লজ্জা ও দ্বিধা কাটিয়ে স্তনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আকরাম হোসেন বলেন, দেশে ক্যান্সার চিকিৎসায় নানা সংকট রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সচেতনতামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ বাড়ানো গেলে সীমিত চিকিৎসাসুবিধা দিয়েও বেশি রোগীকে সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।

স্বাস্থ্য বাজেটের ৪০ শতাংশ বরাদ্দের দাবি

সংলাপে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ স্তন ক্যান্সার সচেতনতা ফোরামের প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন। তিনি বলেন, রোগ প্রতিরোধকে গুরুত্ব দিয়ে নীতি ও পরিকল্পনা প্রণয়নের বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে আলোচনা শুরু হওয়ায় তারা আশাবাদী। তবে আশাবাদকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রয়োজন পর্যাপ্ত অর্থায়ন ও কার্যকর উদ্যোগ। স্তন ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ এবং প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণের জন্য স্বাস্থ্য বাজেটের অন্তত ৪০ শতাংশ বরাদ্দের দাবি জানান তিনি।

অধ্যাপক রাসকিন সরকারি ক্যান্সার চিকিৎসাসুবিধা সম্প্রসারণের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালে দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসার সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বিত্তবানদের অলাভজনক ও সেবামূলক ক্যান্সার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসার অনুরোধ করেন।

প্রয়োজন সঠিক পরিসংখ্যান

সংলাপে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, দেশে কত নারী স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন, কোন বয়সে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি এবং চিকিৎসার ফলাফল কী—এসব বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য থাকা জরুরি। জনগোষ্ঠীভিত্তিক ক্যান্সার নিবন্ধন চালু হলে রোগের প্রকৃত চিত্র জানা এবং সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা গ্রহণ সহজ হবে।

অনুষ্ঠানে জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. হালিদা হানুম আখতার, বিএমইউর গাইনি অনকোলজি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সাবেরা খাতুন, বর্তমান চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস জোনাকি, সিসিপিআরের চেয়ারপারসন মোছাররত জাহান সৌরভ, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. আবু জামিল ফয়সাল, ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার সোসাইটি বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ হুমায়ুন কবীর, হীলের প্রতিষ্ঠাতা জেবুন্নেছা এবং জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র পরিচালক মসিহউদ্দিন শাকেরসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠান শেষে স্তন ক্যান্সার বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে রাজধানীর শাহবাগ থেকে কারওয়ান বাজার পর্যন্ত ‘গোলাপি শোভাযাত্রা’ বের করা হয়। এ সময় সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।

বাংলাদেশ স্তন ক্যান্সার সচেতনতা ফোরাম ২০১৩ সাল থেকে প্রতিবছর ১০ অক্টোবর বেসরকারিভাবে স্তন ক্যান্সার সচেতনতা দিবস পালন করে আসছে। এ বছর দিবসটি পালনের মধ্য দিয়ে ১৪তম আয়োজন সম্পন্ন হলো।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

স্তন ক্যান্সার : লজ্জা নয়, চাই দ্রুত শনাক্তকরণ

Update Time : 12:41:52 pm, Saturday, 10 October 2026

লজ্জা, সংকোচ ও অসচেতনতার কারণে স্তন ক্যান্সারের লক্ষণ দেখা দেওয়ার পরও অনেক নারী চিকিৎসকের কাছে যেতে দেরি করেন। এতে রোগ শনাক্ত হতে হতে অনেক সময় তা জটিল পর্যায়ে পৌঁছে যায়।

অথচ প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসায় ভালো ফল পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। তাই স্তন ক্যান্সার নিয়ে সামাজিক সংকোচ কাটানো, দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। 

শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) ‘স্তন ক্যান্সারের বৈশ্বিক ও জাতীয় পরিস্থিতি বিশ্লেষণ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ স্তন ক্যান্সার সচেতনতা ফোরাম ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দেশে ক্যান্সারের সঠিক চিত্র জানতে জনগোষ্ঠীভিত্তিক ক্যান্সার নিবন্ধন জরুরি। পাশাপাশি স্তন ক্যান্সার শনাক্তে স্ক্রিনিং কার্যক্রম বাড়ানো এবং সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে চিকিৎসাসুবিধা সম্প্রসারণ করতে হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, স্তন ক্যান্সার শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্বব্যাপী নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার অন্যতম বড় হুমকি। প্রতিবছর দেশে হাজার হাজার নারী এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

তবে স্তন ক্যান্সার মানেই নিরাশা নয়। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত হলে সঠিক চিকিৎসায় নিরাময়ের সম্ভাবনা অনেক বেশি। নারীদের লজ্জা ও দ্বিধা কাটিয়ে স্তনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আকরাম হোসেন বলেন, দেশে ক্যান্সার চিকিৎসায় নানা সংকট রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সচেতনতামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ বাড়ানো গেলে সীমিত চিকিৎসাসুবিধা দিয়েও বেশি রোগীকে সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।

স্বাস্থ্য বাজেটের ৪০ শতাংশ বরাদ্দের দাবি

সংলাপে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ স্তন ক্যান্সার সচেতনতা ফোরামের প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন। তিনি বলেন, রোগ প্রতিরোধকে গুরুত্ব দিয়ে নীতি ও পরিকল্পনা প্রণয়নের বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে আলোচনা শুরু হওয়ায় তারা আশাবাদী। তবে আশাবাদকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রয়োজন পর্যাপ্ত অর্থায়ন ও কার্যকর উদ্যোগ। স্তন ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ এবং প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণের জন্য স্বাস্থ্য বাজেটের অন্তত ৪০ শতাংশ বরাদ্দের দাবি জানান তিনি।

অধ্যাপক রাসকিন সরকারি ক্যান্সার চিকিৎসাসুবিধা সম্প্রসারণের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালে দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসার সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বিত্তবানদের অলাভজনক ও সেবামূলক ক্যান্সার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসার অনুরোধ করেন।

প্রয়োজন সঠিক পরিসংখ্যান

সংলাপে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, দেশে কত নারী স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন, কোন বয়সে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি এবং চিকিৎসার ফলাফল কী—এসব বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য থাকা জরুরি। জনগোষ্ঠীভিত্তিক ক্যান্সার নিবন্ধন চালু হলে রোগের প্রকৃত চিত্র জানা এবং সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা গ্রহণ সহজ হবে।

অনুষ্ঠানে জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. হালিদা হানুম আখতার, বিএমইউর গাইনি অনকোলজি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সাবেরা খাতুন, বর্তমান চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস জোনাকি, সিসিপিআরের চেয়ারপারসন মোছাররত জাহান সৌরভ, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. আবু জামিল ফয়সাল, ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার সোসাইটি বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ হুমায়ুন কবীর, হীলের প্রতিষ্ঠাতা জেবুন্নেছা এবং জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র পরিচালক মসিহউদ্দিন শাকেরসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠান শেষে স্তন ক্যান্সার বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে রাজধানীর শাহবাগ থেকে কারওয়ান বাজার পর্যন্ত ‘গোলাপি শোভাযাত্রা’ বের করা হয়। এ সময় সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।

বাংলাদেশ স্তন ক্যান্সার সচেতনতা ফোরাম ২০১৩ সাল থেকে প্রতিবছর ১০ অক্টোবর বেসরকারিভাবে স্তন ক্যান্সার সচেতনতা দিবস পালন করে আসছে। এ বছর দিবসটি পালনের মধ্য দিয়ে ১৪তম আয়োজন সম্পন্ন হলো।