Dhaka 8:46 pm, Thursday, 8 October 2026
সর্বশেষ
প্রবাসীদের বিমানবন্দরে হয়রানি বন্ধে নজরদারির সুপারিশ বাংলাদেশ সফরে আসছেন নেদারল্যান্ডসের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতামন্ত্রী বিমান-পর্যটন খাতকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার পরামর্শ ঢাকা-জাকার্তা সরাসরি ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে চায় ইন্দোনেশিয়া প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ গড়ে তোলার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র দপ্তর পরামর্শ নিয়ে বাংলাদেশ-লিথুয়ানিয়ার সমঝোতা স্মারক সই আবরার হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার নিশ্চিতের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর সংসদীয় সহযোগিতা জোরদারে যুক্তরাজ্য পার্লামেন্টারি প্রতিনিধিদলকে রাষ্ট্রপতির আহ্বান এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা নেই : মীর শাহে আলম বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করবেন আবরার ফাহাদের স্বজনরা

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা নেই : মীর শাহে আলম

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 12:59:50 pm, Thursday, 8 October 2026
  • / 5 Time View

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পূর্ণাঙ্গ জাতীয়করণ না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে আইনি বা নীতিগত কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট আয়োজিত এক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

এর মাধ্যমে গত ১৩ সেপ্টেম্বর দেওয়া বক্তব্য ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা অংশগ্রহণ করতে পারবেন না’ থেকে সরে এসেছেন প্রতিমন্ত্রী।

সেদিন সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সামনে তিনি বলেছিলেন, ‘স্থানীয় সরকার আইনে প্রজাতন্ত্রের বা পরিষদের বা অন্য কোনো স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কোনো কাজে লাভজনক সার্বক্ষণিক পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।’

“বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্কুল ও কলেজ জনবল কাঠামো এবং এমপিও নীতিমালা ২০২৫-এর বিধি ১১.১৭-এর ‘ক’ ও ‘খ’-তে শিক্ষকদের পদকে লাভজনক হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। ফলে স্থানীয় সরকার আইনের সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এমপিও নীতিমালার বিষয়টি মিলে যাচ্ছে।

এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষক একইসঙ্গে একাধিক পদ বা চাকরিতে কিংবা আর্থিক লাভজনক কোনো পদে নিয়োজিত থাকতে পারবেন না মত দিয়ে সেদিন মীর শাহে আলমের ভাষ্য ছিল, “এমপিও নীতিমালার বিধি ১১.১৭-এর ‘খ’-তে আর্থিক লাভজনক পদের সংজ্ঞাও দেওয়া হয়েছে। সেখানে সরকারের দেওয়া বেতন-ভাতা ও সম্মানির পাশাপাশি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়, আইন পেশাসহ কর্মের বিনিময়ে পাওয়া বেতন-ভাতা ও সম্মানিকে এর আওতায় রাখা হয়েছে।”

‘নির্বাচনের বিধিমালা এবং প্রার্থীদের যোগ্যতা-অযোগ্যতার বিষয়টিও নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার। স্থানীয় সরকার আইন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এমপিও নীতিমালা বিবেচনা করে নির্বাচন কমিশনই সিদ্ধান্ত নেবে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা প্রার্থী হতে পারবেন কি না।

তবে আগের বক্তব্যের বিরোধিতা করে বৃহস্পতিবার প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে কোনো আইনি বা নীতিগত বাধা নেই। শিক্ষকদের পদমর্যাদা ও জীবনমান উন্নয়নের স্বার্থে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয়করণ আজ হোক, কাল হোক, হবেই।’

মীর শাহে আলম বলেন, দেশের ইতিহাসে যতবার শিক্ষকদের বেতন-ভাতা, পেনশন এবং মান-মর্যাদা বৃদ্ধি হয়েছে, তা হয়েছে শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরে শিক্ষক-কর্মচারী জাতীয়করণের দাবি বাস্তবায়ন হতে পারে।

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয়করণের জন্য বছরে অতিরিক্ত ৭০০ থেকে ৮০০ কোটি টাকা প্রয়োজন জানিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, শিক্ষকরা সুশৃঙ্খল ও বড় পরিসরের জাতীয় সমাবেশ আয়োজন করে মানবিক ও গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বার্তা পৌঁছালে বর্তমান সরকার অবশ্যই তাদের দাবির গুরুত্ব উপলব্ধি করবে।

এ সময় তিনি শিক্ষকদের কল্যানে নেওয়া সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।

সম্মেলনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী, শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের মহাসচিব চৌধুরী মুগীস উদ্দিন মাহমুদ এবং বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির মহাসচিব জাকির হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা নেই : মীর শাহে আলম

Update Time : 12:59:50 pm, Thursday, 8 October 2026

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পূর্ণাঙ্গ জাতীয়করণ না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে আইনি বা নীতিগত কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট আয়োজিত এক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

এর মাধ্যমে গত ১৩ সেপ্টেম্বর দেওয়া বক্তব্য ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা অংশগ্রহণ করতে পারবেন না’ থেকে সরে এসেছেন প্রতিমন্ত্রী।

সেদিন সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সামনে তিনি বলেছিলেন, ‘স্থানীয় সরকার আইনে প্রজাতন্ত্রের বা পরিষদের বা অন্য কোনো স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কোনো কাজে লাভজনক সার্বক্ষণিক পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।’

“বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্কুল ও কলেজ জনবল কাঠামো এবং এমপিও নীতিমালা ২০২৫-এর বিধি ১১.১৭-এর ‘ক’ ও ‘খ’-তে শিক্ষকদের পদকে লাভজনক হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। ফলে স্থানীয় সরকার আইনের সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এমপিও নীতিমালার বিষয়টি মিলে যাচ্ছে।

এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষক একইসঙ্গে একাধিক পদ বা চাকরিতে কিংবা আর্থিক লাভজনক কোনো পদে নিয়োজিত থাকতে পারবেন না মত দিয়ে সেদিন মীর শাহে আলমের ভাষ্য ছিল, “এমপিও নীতিমালার বিধি ১১.১৭-এর ‘খ’-তে আর্থিক লাভজনক পদের সংজ্ঞাও দেওয়া হয়েছে। সেখানে সরকারের দেওয়া বেতন-ভাতা ও সম্মানির পাশাপাশি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়, আইন পেশাসহ কর্মের বিনিময়ে পাওয়া বেতন-ভাতা ও সম্মানিকে এর আওতায় রাখা হয়েছে।”

‘নির্বাচনের বিধিমালা এবং প্রার্থীদের যোগ্যতা-অযোগ্যতার বিষয়টিও নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার। স্থানীয় সরকার আইন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এমপিও নীতিমালা বিবেচনা করে নির্বাচন কমিশনই সিদ্ধান্ত নেবে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা প্রার্থী হতে পারবেন কি না।

তবে আগের বক্তব্যের বিরোধিতা করে বৃহস্পতিবার প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে কোনো আইনি বা নীতিগত বাধা নেই। শিক্ষকদের পদমর্যাদা ও জীবনমান উন্নয়নের স্বার্থে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয়করণ আজ হোক, কাল হোক, হবেই।’

মীর শাহে আলম বলেন, দেশের ইতিহাসে যতবার শিক্ষকদের বেতন-ভাতা, পেনশন এবং মান-মর্যাদা বৃদ্ধি হয়েছে, তা হয়েছে শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরে শিক্ষক-কর্মচারী জাতীয়করণের দাবি বাস্তবায়ন হতে পারে।

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয়করণের জন্য বছরে অতিরিক্ত ৭০০ থেকে ৮০০ কোটি টাকা প্রয়োজন জানিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, শিক্ষকরা সুশৃঙ্খল ও বড় পরিসরের জাতীয় সমাবেশ আয়োজন করে মানবিক ও গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বার্তা পৌঁছালে বর্তমান সরকার অবশ্যই তাদের দাবির গুরুত্ব উপলব্ধি করবে।

এ সময় তিনি শিক্ষকদের কল্যানে নেওয়া সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।

সম্মেলনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী, শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের মহাসচিব চৌধুরী মুগীস উদ্দিন মাহমুদ এবং বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির মহাসচিব জাকির হোসেন উপস্থিত ছিলেন।