‘জ্ঞানেশ, ইটস ডান ব্রো’—ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে বার্তা রাহুল গান্ধীর
- Update Time : 12:34:16 pm, Tuesday, 6 October 2026
- / 7 Time View
নির্বাচন কমিশনের সামনের রাস্তা থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে বার্তা দিয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, ‘জ্ঞানেশ, ইটস ডান ব্রো’ অর্থাৎ, জ্ঞানেশ, তোমার খেলা শেষ। এই স্লোগানটি মূলত ককরোচ জনতা পার্টির নেতা অভিজিৎ দীপকে তুলেছিলেন মুম্বাইতে বিক্ষোভ প্রদর্শনের আগে।
এই স্লোগানটি সম্প্রতি ছাত্র ও যুব প্রতিবাদীদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় হয়েছে।
ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তর অভিমুখে মিছিল করে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া ব্লক’।
মিছিলকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের উত্তেজনা তৈরি হয়। মিছিলে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদরা, তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়সহ বিরোধী দলের একাধিক সাংসদ ছিলেন।
মিছিলটি নীতি আয়োগের কার্যালয়ের কাছে পৌঁছালে দিল্লি পুলিশ সাংসদদের আটকে দেয়। এরপর রাহুল গান্ধী-সহ কয়েকজন সাংসদকে আটক করে পুলিশের বাসে তোলা হয়। কিছুক্ষণ পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হলে তারা ফের মিছিল শুরু করেন এবং নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তরের কাছে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন।
পুলিশের হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার পর অবস্থান বিক্ষোভ থেকে রাহুল গান্ধী বলেন, ‘দেশের সঙ্গে যা করা হয়েছে, তা দেশদ্রোহিতা।
’ তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, আরএসএস প্রধান এবং জ্ঞানেশ কুমার, কেউই রেহাই পাবেন না।
এর আগে পুলিশ মিছিল আটকালে রাহুল গান্ধী ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পুলিশের ব্যারিকেডের ওপর উঠে প্রতিবাদ জানান। পরে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও দীপিন্দর সিং হুডা আকাশবাণী ভবন চত্বরে ঢুকে পড়েন। তাদের সেখানে একটি গাছের নিচে বসে থাকতে দেখা যায়। এই কর্মসূচিকে ঘিরে নির্বাচন কমিশনের দপ্তর ও আশপাশের এলাকায় আগে থেকেই ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
ছাড়া পাওয়ার পরে রাহুল গান্ধী দিল্লি পুলিশের উদ্দেশ্যে বলেন বলেন, ‘৩০০ জনেরও বেশি বিরোধী সংসদ সদস্য আজ নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে দেখা করতে সংসদ থেকে নির্বাচন কমিশন পর্যন্ত মিছিল করেছেন। আমরা কোটি কোটি ভারতীয়ের প্রতিনিধিত্ব করি। নির্বাচন কমিশনার কেন আমাদের সঙ্গে দেখা করছেন না? পুলিশ কেন আমাদের আটকাচ্ছে এবং হুমকি দিচ্ছে?’
অপরদিকে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, এই মিছিলের কোনো অনুমতি বিরোধী সংসদ সদস্যদেরকে দেওয়া হয়নি।
পুলিশি বাধা সত্ত্বেও মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তর অভিমুখে এগিয়ে আকাশবাণী ভবন চত্বরে ঢুকে পড়েন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদরা ও দীপিন্দর সিং হুডা। পরে তাদের চত্বরের ভিতরে একটি গাছের নিচে বসে থাকতে দেখা যায়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিতে এলাকার ডেপুটি পুলিশ কমিশনার শচীন শর্মা বিপুল সংখ্যক পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন। এর আগে রাহুল গান্ধী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পুলিশের ব্যারিকেডের ওপর উঠে প্রতিবাদ জানান। প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকেও কিছু সময়ের জন্য একটি বাসে তোলা হয়।
পরে তাঁকে বাস থেকে নামিয়ে আকাশবাণী ভবনের কাছে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে যোগ দিতে দেখা যায়। সমাজমাধ্যম ‘এক্স’-এ জ্ঞানেশ কুমারকে কটাক্ষ করে রাহুল গান্ধী লেখেন, ‘জ্ঞানেশ, ইটস ডান ব্রো, এবার পদত্যাগ করার পালা।’
মিছিলের আগে বিরোধী সাংসদরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পাশাপাশি ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্তির আবেদনপত্র ‘ফর্ম ৬’ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণের কথাও তুলে ধরেন তারা। এই বিষয়টি সামনে রেখে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিও জোরালো করেন বিরোধী সাংসদরা।
কংগ্রেস সাংসদ ইমরান মাসুদ অভিযোগ করেন, জ্ঞানেশ কুমারের কারণে নির্বাচন কমিশনের প্রতি মানুষের আস্থা কমেছে। তার দাবি, আগে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠত না। কিন্তু এখন সেই বিশ্বাসে আঘাত লেগেছে। তিনি আরো অভিযোগ করেন, জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে আরও অনেকে মিলে কাজ করছেন এবং তাদের সবাইকে জবাব দিতে হবে।









