Dhaka 10:31 am, Thursday, 24 September 2026

নিরাপদ ও টেকসই বিশ্ব গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 02:11:42 am, Thursday, 24 September 2026
  • / 2 Time View

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরো নিরাপদ ও টেকসই বিশ্ব গড়ে তুলতে বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসুন, আমরা একসঙ্গে কাজ করি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরো নিরাপদ ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তুলি।

একইসঙ্গে তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য সুলভ অর্থায়ন নিশ্চিত করাসহ বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখা, জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসান তহবিলের পূর্ণ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জলবায়ু পদক্ষেপ ও ন্যায্য উত্তরণ বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সভায় দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরের ট্রাস্টিশিপ কাউন্সিলে ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সভায় বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের উদ্যোগে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান শূন্য দশমিক ৫ শতাংশেরও কম, অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ।

তিনি বলেন, এই শতাব্দীর শেষ নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ১২ থেকে ১৮ শতাংশ পানিতে তলিয়ে যেতে পারে। এতে কোটি কোটি মানুষের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি দেশের খাদ্যনিরাপত্তাও গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়বে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাংলাদেশের জিডিপির প্রায় ১ শতাংশের সমপরিমাণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলতি বছরের বাজেটে জলবায়ু অভিযোজনের জন্য প্রায় ৩ দশমিক ১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে।

তবে আন্তর্জাতিক সহায়তা ছাড়া বাংলাদেশ বড় ধরনের ক্ষতির ঝুঁকি এড়াতে পারবে না। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশ ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। একইসঙ্গে পানি সংরক্ষণ, বন্যার ঝুঁকি হ্রাস, জলাভূমি পুনরুজ্জীবন এবং ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণের লক্ষ্যে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খননের কাজ চলছে। পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা ব্যারাজের মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুতের চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে পূরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাশাপাশি পাটজাত পণ্য, পরিবেশবান্ধব পরিবহন, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন ও সার্কুলার অর্থনীতির উদ্যোগসহ সবুজ শিল্পের প্রসারে কাজ করছে সরকার।

একইসঙ্গে একটি জাতীয় কার্বন বাজার গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

তিনি বলেন, এককভাবে বাংলাদেশের পক্ষে এসব লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। ‘অভিন্ন কিন্তু পৃথক দায়িত্ব ও নিজ নিজ সক্ষমতা’ নীতির ভিত্তিতে সম্মিলিত পদক্ষেপ এখন অপরিহার্য।

জলবায়ু মোকাবেলায় পাঁচটি জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রথমত, প্যারিস চুক্তিতে নির্ধারিত ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সীমা বজায় রাখতে বিশ্বব্যাপী গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমাতে হবে।

দ্বিতীয়ত, জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য অভিযোজন খাতে পূর্বানুমেয় ও সুলভ অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

তৃতীয়ত, জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তিতে আরো বেশি প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করে একটি ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক জলবায়ু উত্তরণের পথ তৈরি করতে হবে।

চতুর্থত, সুলভ অর্থায়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ করতে হবে।

সর্বশেষে, ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসান তহবিলের পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিয়মিতভাবে এর অর্থ পুনঃপূরণের আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ তার জলবায়ু পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নে সহায়তা করবে, এমন অংশীদারত্ব প্রত্যাশা করে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। ২৪ সেপ্টেম্বর তিনি সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেবেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

নিরাপদ ও টেকসই বিশ্ব গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

Update Time : 02:11:42 am, Thursday, 24 September 2026

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরো নিরাপদ ও টেকসই বিশ্ব গড়ে তুলতে বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসুন, আমরা একসঙ্গে কাজ করি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরো নিরাপদ ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তুলি।

একইসঙ্গে তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য সুলভ অর্থায়ন নিশ্চিত করাসহ বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখা, জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসান তহবিলের পূর্ণ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জলবায়ু পদক্ষেপ ও ন্যায্য উত্তরণ বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সভায় দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরের ট্রাস্টিশিপ কাউন্সিলে ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সভায় বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের উদ্যোগে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান শূন্য দশমিক ৫ শতাংশেরও কম, অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ।

তিনি বলেন, এই শতাব্দীর শেষ নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ১২ থেকে ১৮ শতাংশ পানিতে তলিয়ে যেতে পারে। এতে কোটি কোটি মানুষের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি দেশের খাদ্যনিরাপত্তাও গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়বে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাংলাদেশের জিডিপির প্রায় ১ শতাংশের সমপরিমাণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলতি বছরের বাজেটে জলবায়ু অভিযোজনের জন্য প্রায় ৩ দশমিক ১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে।

তবে আন্তর্জাতিক সহায়তা ছাড়া বাংলাদেশ বড় ধরনের ক্ষতির ঝুঁকি এড়াতে পারবে না। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশ ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। একইসঙ্গে পানি সংরক্ষণ, বন্যার ঝুঁকি হ্রাস, জলাভূমি পুনরুজ্জীবন এবং ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণের লক্ষ্যে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খননের কাজ চলছে। পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা ব্যারাজের মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুতের চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে পূরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাশাপাশি পাটজাত পণ্য, পরিবেশবান্ধব পরিবহন, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন ও সার্কুলার অর্থনীতির উদ্যোগসহ সবুজ শিল্পের প্রসারে কাজ করছে সরকার।

একইসঙ্গে একটি জাতীয় কার্বন বাজার গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

তিনি বলেন, এককভাবে বাংলাদেশের পক্ষে এসব লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। ‘অভিন্ন কিন্তু পৃথক দায়িত্ব ও নিজ নিজ সক্ষমতা’ নীতির ভিত্তিতে সম্মিলিত পদক্ষেপ এখন অপরিহার্য।

জলবায়ু মোকাবেলায় পাঁচটি জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রথমত, প্যারিস চুক্তিতে নির্ধারিত ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সীমা বজায় রাখতে বিশ্বব্যাপী গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমাতে হবে।

দ্বিতীয়ত, জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য অভিযোজন খাতে পূর্বানুমেয় ও সুলভ অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

তৃতীয়ত, জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তিতে আরো বেশি প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করে একটি ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক জলবায়ু উত্তরণের পথ তৈরি করতে হবে।

চতুর্থত, সুলভ অর্থায়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ করতে হবে।

সর্বশেষে, ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসান তহবিলের পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিয়মিতভাবে এর অর্থ পুনঃপূরণের আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ তার জলবায়ু পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নে সহায়তা করবে, এমন অংশীদারত্ব প্রত্যাশা করে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। ২৪ সেপ্টেম্বর তিনি সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেবেন।