Dhaka 11:25 am, Wednesday, 23 September 2026

পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম আজ

সময়ের কাগজ ডেস্ক:
  • Update Time : 04:51:27 am, Wednesday, 23 September 2026
  • / 21 Time View

ছবি সংগৃহীত

আজ আরবি রবিউস সানি মাসের ১১ তারিখ, পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম। প্রতিবছর এই তারিখে দিবসটি পালিত হয়। সারা দেশে যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদায় ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে দিবসটি পালিত হবে। গাউসুল আযম বড় পীর হজরত আবদুল কাদের জিলানি (র.)-এর ওফাত দিবস বিশ্বের মুসলমানদের কাছে ‘ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম’ নামে পরিচিত।

‘ফাতেহা’ শব্দ দ্বারা সুরা ফাতেহা পাঠ বোঝানো হয় এবং ‘ইয়াজদাহম’ অর্থ ১১ তারিখ। ফার্সি শব্দযুগল ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহমের অর্থ হলো ১১ তারিখের ফাতেহা পাঠ। ইসলামের ইতিহাসের অন্যতম প্রধান সুফি সাধক ও উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব শাহ আবদুল কাদের জিলানি (রহ.) আরবিহিজরি ৫৬১ সনের রবিউস মাসের ১১ তারিখে ইন্তেকাল করেন। তাঁর ওফাত দিবস উপলক্ষে মুসলিম সমাজে দিনটি বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়। দক্ষিণ এশিয়ায় সুফিবাদের প্রসারে তার ব্যাপক অবদান রয়েছে। একে অনেক সময় ‘গেয়ারভি শরিফ’ বলা হয়।

একজন আদর্শ পুরুষ হিসেবে বিশ্ব জগতে মুসলমানদের কাছে হজরত বড়পীর আবদুল কাদের জিলানী (রহঃ) কে পরম ভক্তি, শ্রদ্ধার সঙ্গে চিরকাল স্মরণ করবে। পৃথিবীতে আল্লাহ পাকের প্রেরিত নবী-পয়গম্বর এসেছেন ১ লাখ বা ২ লাখ ২৪ হাজার। 

অন্যদিকে কামেল পীর, অলি, দরবেশ, ফকির যে কত এসেছেন তার ইয়ত্তা নেই। কিন্তু সব পীর, ফকির, দরবেশ, অলির সেরা ছিলেন হজরত আবদুল কাদের জিলানী (রহঃ) মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর ওফাতের প্রায় ৫০০ বছরপর জন্মগ্রহণ করেন। তখন ইসলাম ধর্ম এক নাজুক অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছিল।

 পবিত্র কুরআন ও আল্লাহর রাসুল মুহাম্মদ (সাঃ)- এর আদর্শ ভুলে মানুষ বিপথে পা বাড়িয়েছিল, ঠিক এমনই সময় হজরত বড়পীর ইসলামের পথে মানুষকে ডাক দিয়েছিলেন।

হজরত আবদুল কাদের জিলানী (রহঃ)-এর বাবার নাম সৈয়দ আবু সালেহ এবং মায়ের নাম বিবি ফাতেমা। হজরত আবদুল কাদের জিলানি (রহঃ) ৪৭০ হিজরিতে ইরানের জিলান নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাগদাদের মহান পীর হজরত আবু সাঈদ ইবনে আলী ইবনে হুসাইন মাখরুমির (রহঃ) কাছে মারেফাতের জ্ঞানে পূর্ণতা লাভ করেন এবং খেলাফত প্রাপ্ত হন।

ইয়াজদহম পালনঃ এ কথা অনস্বীকার্য হজরত আবদুল কাদির জিলানী (রহঃ) এর অবদান বিশ্বে অনন্য। তিনি মুসলিমদের কাছে চির স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তবে তার ওফাত উপলক্ষ্যে ঘটা করে দিনটি পালন করাকে উলামায়ে কেরাম জায়েজ মনে করেন না। কেননা ইসলাম এ ধরনের অনুষ্ঠানসর্বস্ব বিষয়কে স্বীকৃতি দেয় না। তবে এ দিনে তার শান্তির জন্য দোয়া মুনাজাত ও তার জীবনী আলোচনা করা যেতে পারে। এতে দোষের কিছু নেই। 

ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন মসজিদ, খানকা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কোরআন তিলাওয়াত, মিলাদ, দোয়া ও আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এসব অনুষ্ঠানে আবদুল কাদের জিলানি (রহ.)-এর জীবন, আধ্যাত্মিক সাধনা, ধর্মীয় শিক্ষা ও মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড নিয়েও আলোচনা করা হয়। ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এক দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

এসকাগজ/আরডি

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম আজ

Update Time : 04:51:27 am, Wednesday, 23 September 2026

আজ আরবি রবিউস সানি মাসের ১১ তারিখ, পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম। প্রতিবছর এই তারিখে দিবসটি পালিত হয়। সারা দেশে যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদায় ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে দিবসটি পালিত হবে। গাউসুল আযম বড় পীর হজরত আবদুল কাদের জিলানি (র.)-এর ওফাত দিবস বিশ্বের মুসলমানদের কাছে ‘ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম’ নামে পরিচিত।

‘ফাতেহা’ শব্দ দ্বারা সুরা ফাতেহা পাঠ বোঝানো হয় এবং ‘ইয়াজদাহম’ অর্থ ১১ তারিখ। ফার্সি শব্দযুগল ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহমের অর্থ হলো ১১ তারিখের ফাতেহা পাঠ। ইসলামের ইতিহাসের অন্যতম প্রধান সুফি সাধক ও উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব শাহ আবদুল কাদের জিলানি (রহ.) আরবিহিজরি ৫৬১ সনের রবিউস মাসের ১১ তারিখে ইন্তেকাল করেন। তাঁর ওফাত দিবস উপলক্ষে মুসলিম সমাজে দিনটি বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়। দক্ষিণ এশিয়ায় সুফিবাদের প্রসারে তার ব্যাপক অবদান রয়েছে। একে অনেক সময় ‘গেয়ারভি শরিফ’ বলা হয়।

একজন আদর্শ পুরুষ হিসেবে বিশ্ব জগতে মুসলমানদের কাছে হজরত বড়পীর আবদুল কাদের জিলানী (রহঃ) কে পরম ভক্তি, শ্রদ্ধার সঙ্গে চিরকাল স্মরণ করবে। পৃথিবীতে আল্লাহ পাকের প্রেরিত নবী-পয়গম্বর এসেছেন ১ লাখ বা ২ লাখ ২৪ হাজার। 

অন্যদিকে কামেল পীর, অলি, দরবেশ, ফকির যে কত এসেছেন তার ইয়ত্তা নেই। কিন্তু সব পীর, ফকির, দরবেশ, অলির সেরা ছিলেন হজরত আবদুল কাদের জিলানী (রহঃ) মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর ওফাতের প্রায় ৫০০ বছরপর জন্মগ্রহণ করেন। তখন ইসলাম ধর্ম এক নাজুক অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছিল।

 পবিত্র কুরআন ও আল্লাহর রাসুল মুহাম্মদ (সাঃ)- এর আদর্শ ভুলে মানুষ বিপথে পা বাড়িয়েছিল, ঠিক এমনই সময় হজরত বড়পীর ইসলামের পথে মানুষকে ডাক দিয়েছিলেন।

হজরত আবদুল কাদের জিলানী (রহঃ)-এর বাবার নাম সৈয়দ আবু সালেহ এবং মায়ের নাম বিবি ফাতেমা। হজরত আবদুল কাদের জিলানি (রহঃ) ৪৭০ হিজরিতে ইরানের জিলান নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাগদাদের মহান পীর হজরত আবু সাঈদ ইবনে আলী ইবনে হুসাইন মাখরুমির (রহঃ) কাছে মারেফাতের জ্ঞানে পূর্ণতা লাভ করেন এবং খেলাফত প্রাপ্ত হন।

ইয়াজদহম পালনঃ এ কথা অনস্বীকার্য হজরত আবদুল কাদির জিলানী (রহঃ) এর অবদান বিশ্বে অনন্য। তিনি মুসলিমদের কাছে চির স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তবে তার ওফাত উপলক্ষ্যে ঘটা করে দিনটি পালন করাকে উলামায়ে কেরাম জায়েজ মনে করেন না। কেননা ইসলাম এ ধরনের অনুষ্ঠানসর্বস্ব বিষয়কে স্বীকৃতি দেয় না। তবে এ দিনে তার শান্তির জন্য দোয়া মুনাজাত ও তার জীবনী আলোচনা করা যেতে পারে। এতে দোষের কিছু নেই। 

ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন মসজিদ, খানকা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কোরআন তিলাওয়াত, মিলাদ, দোয়া ও আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এসব অনুষ্ঠানে আবদুল কাদের জিলানি (রহ.)-এর জীবন, আধ্যাত্মিক সাধনা, ধর্মীয় শিক্ষা ও মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড নিয়েও আলোচনা করা হয়। ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এক দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

এসকাগজ/আরডি