Dhaka 7:04 pm, Tuesday, 22 September 2026

১০০০ টাকার নোট বাতিল চেয়ে আইনি নোটিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 11:50:18 am, Tuesday, 22 September 2026
  • / 5 Time View

১০০০ টাকার নোট বাতিলের দাবি জানিয়ে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন এক আইনজীবী। দেশের অর্থনীতিকে মূল্যস্ফীতি থেকে রক্ষা করতে স্বর্ণ, রৌপ্য ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছাড়া ইচ্ছামতো টাকা ছাপানো বন্ধ এবং কালো টাকা ও দুর্নীতি প্রতিরোধে এ নোটিশ পাঠান তিনি।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট মো. মাহমুদুল হাসান জনস্বার্থে এ নোটিশ পাঠান। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব (অর্থ বিভাগ) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বরাবর নোটিশটি পাঠানো হয়েছে। 

আইনি নোটিশে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো ধরনের রিজার্ভ বা ব্যাকআপ ছাড়াই অর্থনীতিতে ক্রমাগত কৃত্রিম টাকা ছাপিয়ে সরবরাহ করছে। অর্থনীতি ও মুদ্রানীতির সর্বজনীন নিয়ম অনুযায়ী, নতুন টাকা ছাপানোর ক্ষেত্রে অবশ্যই সমপরিমাণ স্বর্ণ, রৌপ্য অথবা নির্ভরযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রার (যেমন : ডলার, ইউরো, আরএমবি) রিজার্ভ বজায় রাখা বাধ্যতামূলক।

কিন্তু এই নিয়মের তোয়াক্কা না করে ইচ্ছামতো টাকা ছাপানোর ফলে ‘কোয়ান্টিটি থিওরি অব মানি’ অনুযায়ী টাকার নিজস্ব মান বা ক্রয়ক্ষমতা চরমভাবে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম লাগামহীনভাবে বাড়ছে এবং দেশে এক ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি তৈরি হচ্ছে। 

নোটিশে আরো বলা হয়েছে, এই লাগামহীন মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ, দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার, জীবন যাত্রার প্রয়োজনীয় খরচ পূরণের সামর্থ্য পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে বর্ণিত ‘Right to Life’ বা জীবনধারণের অধিকার বলতে কেবল পশুর মতো বেঁচে থাকাকে বোঝায় না, বরং মানুষের মতো মর্যাদাপূর্ণভাবে বেঁচে থাকার অধিকারকে বোঝায়।

স্বর্ণ ও রৌপ্যের মতো মূল্যবান সম্পদের ব্যাকআপ ছাড়া টাকা ছাপিয়ে সৃষ্ট চরম অর্থনৈতিক সংকটে সাধারণ মানুষকে খাদ্যাভাবে ধুঁকে ধুঁকে মরতে বাধ্য করা সংবিধানের এই মৌলিক অধিকারের সরাসরি লঙ্ঘন। 

এছাড়া নোটিশে ১০০০ টাকার নোটের ক্ষতিকর প্রভাব অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, সাধারণ মানুষ, দিনমজুর বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দৈনন্দিন লেনদেনের জন্য ১০০০ টাকার মতো এত বড় নোটের কোনো বাস্তব প্রয়োজন নেই। এই উচ্চমূল্যের নোটটি মূলত দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট, কর ফাঁকিবাজ এবং অপরাধীরা তাদের অবৈধ কালো টাকা ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে লুকিয়ে রাখার জন্যই সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করে। এটি দেশে একটি ধ্বংসাত্মক ‘শ্যাডো ইকোনমি’ বা ছায়া অর্থনীতি তৈরি করেছে।

প্রতিবেশী দেশ ভারত তাদের ২ হাজার টাকার নোট বাতিল করে কালো টাকার মজুদ ধ্বংস করার সফল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তাই দেশের অর্থনীতি থেকে কালো টাকার বিস্তার পুরোপুরি সমূলে উৎপাটন করতে এবং লেনদেনে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে ১০০০ টাকার নোট অবিলম্বে বাতিল করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। 

নোটিশে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে স্বর্ণ, রৌপ্য ও বৈদেশিক মুদ্রার যথাযথ রিজার্ভ ছাড়া নতুন টাকা ছাপানো সম্পূর্ণ বন্ধ করতে এবং কালো টাকার মজুদ ধ্বংস করতে ১০০০ টাকার নোট বাতিলের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থ হলে হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে বলে নোটিশে জানানো হয়েছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

১০০০ টাকার নোট বাতিল চেয়ে আইনি নোটিশ

Update Time : 11:50:18 am, Tuesday, 22 September 2026

১০০০ টাকার নোট বাতিলের দাবি জানিয়ে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন এক আইনজীবী। দেশের অর্থনীতিকে মূল্যস্ফীতি থেকে রক্ষা করতে স্বর্ণ, রৌপ্য ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছাড়া ইচ্ছামতো টাকা ছাপানো বন্ধ এবং কালো টাকা ও দুর্নীতি প্রতিরোধে এ নোটিশ পাঠান তিনি।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট মো. মাহমুদুল হাসান জনস্বার্থে এ নোটিশ পাঠান। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব (অর্থ বিভাগ) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বরাবর নোটিশটি পাঠানো হয়েছে। 

আইনি নোটিশে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো ধরনের রিজার্ভ বা ব্যাকআপ ছাড়াই অর্থনীতিতে ক্রমাগত কৃত্রিম টাকা ছাপিয়ে সরবরাহ করছে। অর্থনীতি ও মুদ্রানীতির সর্বজনীন নিয়ম অনুযায়ী, নতুন টাকা ছাপানোর ক্ষেত্রে অবশ্যই সমপরিমাণ স্বর্ণ, রৌপ্য অথবা নির্ভরযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রার (যেমন : ডলার, ইউরো, আরএমবি) রিজার্ভ বজায় রাখা বাধ্যতামূলক।

কিন্তু এই নিয়মের তোয়াক্কা না করে ইচ্ছামতো টাকা ছাপানোর ফলে ‘কোয়ান্টিটি থিওরি অব মানি’ অনুযায়ী টাকার নিজস্ব মান বা ক্রয়ক্ষমতা চরমভাবে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম লাগামহীনভাবে বাড়ছে এবং দেশে এক ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি তৈরি হচ্ছে। 

নোটিশে আরো বলা হয়েছে, এই লাগামহীন মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ, দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার, জীবন যাত্রার প্রয়োজনীয় খরচ পূরণের সামর্থ্য পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে বর্ণিত ‘Right to Life’ বা জীবনধারণের অধিকার বলতে কেবল পশুর মতো বেঁচে থাকাকে বোঝায় না, বরং মানুষের মতো মর্যাদাপূর্ণভাবে বেঁচে থাকার অধিকারকে বোঝায়।

স্বর্ণ ও রৌপ্যের মতো মূল্যবান সম্পদের ব্যাকআপ ছাড়া টাকা ছাপিয়ে সৃষ্ট চরম অর্থনৈতিক সংকটে সাধারণ মানুষকে খাদ্যাভাবে ধুঁকে ধুঁকে মরতে বাধ্য করা সংবিধানের এই মৌলিক অধিকারের সরাসরি লঙ্ঘন। 

এছাড়া নোটিশে ১০০০ টাকার নোটের ক্ষতিকর প্রভাব অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, সাধারণ মানুষ, দিনমজুর বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দৈনন্দিন লেনদেনের জন্য ১০০০ টাকার মতো এত বড় নোটের কোনো বাস্তব প্রয়োজন নেই। এই উচ্চমূল্যের নোটটি মূলত দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট, কর ফাঁকিবাজ এবং অপরাধীরা তাদের অবৈধ কালো টাকা ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে লুকিয়ে রাখার জন্যই সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করে। এটি দেশে একটি ধ্বংসাত্মক ‘শ্যাডো ইকোনমি’ বা ছায়া অর্থনীতি তৈরি করেছে।

প্রতিবেশী দেশ ভারত তাদের ২ হাজার টাকার নোট বাতিল করে কালো টাকার মজুদ ধ্বংস করার সফল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তাই দেশের অর্থনীতি থেকে কালো টাকার বিস্তার পুরোপুরি সমূলে উৎপাটন করতে এবং লেনদেনে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে ১০০০ টাকার নোট অবিলম্বে বাতিল করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। 

নোটিশে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে স্বর্ণ, রৌপ্য ও বৈদেশিক মুদ্রার যথাযথ রিজার্ভ ছাড়া নতুন টাকা ছাপানো সম্পূর্ণ বন্ধ করতে এবং কালো টাকার মজুদ ধ্বংস করতে ১০০০ টাকার নোট বাতিলের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থ হলে হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে বলে নোটিশে জানানো হয়েছে।