Dhaka 12:07 pm, Tuesday, 22 September 2026

রাজউকের সেবায় ওয়ানস্টপ ব্যবস্থা, উন্নয়ন প্রকল্পে নজরদারি বাড়ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 04:45:58 am, Tuesday, 22 September 2026
  • / 7 Time View

স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) নকশা অনুমোদন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা ও ভোগান্তি কমাতে ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট স্থান থেকেই নকশা অনুমোদনের জন্য আবেদন করা যাবে এবং দ্রুত অনুমোদন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

একই সঙ্গে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অযৌক্তিকভাবে প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানোর প্রবণতা বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে নিয়মিত পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে প্রকল্পের যৌক্তিকতা যাচাই করা হবে বলে জানিয়েছে কমিটি।

সোমবার জাতীয় সংসদে কমিটির প্রথম বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান কমিটির সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল। জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি মো. রেজাউল করিম বাদশার সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে কমিটির সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল জানান, এত দিন রাজউকের নকশা অনুমোদনের জন্য আবেদনকারীদের ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে যেতে হতো। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ার পাশাপাশি উন্নয়ন কার্যক্রমেও বাধা সৃষ্টি হয়েছে। এ সমস্যা দূর করতে ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী ও রাজউকের চেয়ারম্যান এ উদ্যোগে সম্মতি দিয়েছেন।

তিনি বলেন, নকশা অনুমোদনের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে এক জায়গা থেকেই আবেদন গ্রহণ ও দ্রুত অনুমোদনের ব্যবস্থা করা হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে ঠিকাদারদের মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানোর বিষয়ে কমিটির সদস্য বলেন, সংসদীয় স্থায়ী কমিটির অন্যতম দায়িত্ব হলো প্রকল্প বাস্তবায়নে জবাবদিহি নিশ্চিত করা। এ দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে কমিটি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণ করবে এবং প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ বাড়ানোর যৌক্তিকতা যাচাই করবে। কোনো অনিয়ম, অস্বচ্ছতা বা দুর্নীতি পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি জানান, আগের মতো অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ আর রাখা হবে না। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে অযথা প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগও দেওয়া হবে না।

আবাসন সংকট ও স্বল্পমূল্যে ফ্ল্যাট নির্মাণের বিষয়ে শেখ মজিবুর রহমান বলেন, বিদ্যমান নগর বিধিমালার কিছু জটিলতার কারণে আবাসন খাতের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে ফ্লোর এরিয়া রেশিও (এফএআর) সংক্রান্ত জটিলতার কারণে অনেক ল্যান্ড ডেভেলপার আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারছেন না।

তিনি জানান, বিষয়টি বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ড্যাপ বিধিমালা ও নগর গৃহায়ন বিধিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। গৃহায়ন বিধিমালা না থাকায় ল্যান্ড ডেভেলপাররা প্রকল্প বাস্তবায়নে সমস্যায় পড়ছেন। এ সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী সভার আগেই বিধিমালা অনুমোদনের চেষ্টা করা হচ্ছে।

অপরিকল্পিত নগরায়ণ বন্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে সংসদীয় কমিটি। শেখ মজিবুর রহমান জানান, নিয়ম মেনে ভবন নির্মাণ করলেও যেসব ভবনের নকশা অনুমোদন নেওয়া হয়নি, সেগুলো নির্দিষ্ট জরিমানা বা শাস্তির আওতায় এনে রাজউকের বিধি অনুযায়ী বৈধ করার বিষয়টি বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের সুবিধা নিশ্চিত করাই কমিটির অন্যতম লক্ষ্য। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করতে কমিটির সদস্যরা অঙ্গীকারবদ্ধ। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ও কমিটির সঙ্গে একমত হয়েছে।

সংসদ সদস্য ইকবাল জানান, কমিটির প্রথম বৈঠক সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

রাজউকের সেবায় ওয়ানস্টপ ব্যবস্থা, উন্নয়ন প্রকল্পে নজরদারি বাড়ছে

Update Time : 04:45:58 am, Tuesday, 22 September 2026

স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) নকশা অনুমোদন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা ও ভোগান্তি কমাতে ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট স্থান থেকেই নকশা অনুমোদনের জন্য আবেদন করা যাবে এবং দ্রুত অনুমোদন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

একই সঙ্গে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অযৌক্তিকভাবে প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানোর প্রবণতা বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে নিয়মিত পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে প্রকল্পের যৌক্তিকতা যাচাই করা হবে বলে জানিয়েছে কমিটি।

সোমবার জাতীয় সংসদে কমিটির প্রথম বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান কমিটির সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল। জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি মো. রেজাউল করিম বাদশার সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে কমিটির সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল জানান, এত দিন রাজউকের নকশা অনুমোদনের জন্য আবেদনকারীদের ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে যেতে হতো। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ার পাশাপাশি উন্নয়ন কার্যক্রমেও বাধা সৃষ্টি হয়েছে। এ সমস্যা দূর করতে ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী ও রাজউকের চেয়ারম্যান এ উদ্যোগে সম্মতি দিয়েছেন।

তিনি বলেন, নকশা অনুমোদনের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে এক জায়গা থেকেই আবেদন গ্রহণ ও দ্রুত অনুমোদনের ব্যবস্থা করা হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে ঠিকাদারদের মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানোর বিষয়ে কমিটির সদস্য বলেন, সংসদীয় স্থায়ী কমিটির অন্যতম দায়িত্ব হলো প্রকল্প বাস্তবায়নে জবাবদিহি নিশ্চিত করা। এ দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে কমিটি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণ করবে এবং প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ বাড়ানোর যৌক্তিকতা যাচাই করবে। কোনো অনিয়ম, অস্বচ্ছতা বা দুর্নীতি পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি জানান, আগের মতো অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ আর রাখা হবে না। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে অযথা প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগও দেওয়া হবে না।

আবাসন সংকট ও স্বল্পমূল্যে ফ্ল্যাট নির্মাণের বিষয়ে শেখ মজিবুর রহমান বলেন, বিদ্যমান নগর বিধিমালার কিছু জটিলতার কারণে আবাসন খাতের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে ফ্লোর এরিয়া রেশিও (এফএআর) সংক্রান্ত জটিলতার কারণে অনেক ল্যান্ড ডেভেলপার আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারছেন না।

তিনি জানান, বিষয়টি বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ড্যাপ বিধিমালা ও নগর গৃহায়ন বিধিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। গৃহায়ন বিধিমালা না থাকায় ল্যান্ড ডেভেলপাররা প্রকল্প বাস্তবায়নে সমস্যায় পড়ছেন। এ সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী সভার আগেই বিধিমালা অনুমোদনের চেষ্টা করা হচ্ছে।

অপরিকল্পিত নগরায়ণ বন্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে সংসদীয় কমিটি। শেখ মজিবুর রহমান জানান, নিয়ম মেনে ভবন নির্মাণ করলেও যেসব ভবনের নকশা অনুমোদন নেওয়া হয়নি, সেগুলো নির্দিষ্ট জরিমানা বা শাস্তির আওতায় এনে রাজউকের বিধি অনুযায়ী বৈধ করার বিষয়টি বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের সুবিধা নিশ্চিত করাই কমিটির অন্যতম লক্ষ্য। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করতে কমিটির সদস্যরা অঙ্গীকারবদ্ধ। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ও কমিটির সঙ্গে একমত হয়েছে।

সংসদ সদস্য ইকবাল জানান, কমিটির প্রথম বৈঠক সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলে জানান তিনি।