Dhaka 8:01 pm, Sunday, 20 September 2026
সর্বশেষ
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন কতজন, তালিকায় যারা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি আমানুল্লাহর সাক্ষাৎ হামের টিকা পাচ্ছে ৩৪ লাখ শিশু, বিশেষ কার্যক্রম শুরু ২৬ সেপ্টেম্বর উপকূলে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে ইতালির কম্পানিকে আমন্ত্রণ স্পিকারের দফায় দফায় হুতি হামলা, সৌদির নিরাপত্তায় সমর্থন জানাল তুরস্ক জাপানি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে ঢাবি প্রো-উপাচার্যের মতবিনিময় কুষ্টিয়ায় সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় কুষ্টিয়া সাংবাদিক ফোরামের নিন্দা বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে এখন অর্থনীতিই বড় ভূরাজনৈতিক হাতিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে আরো একজন গ্রেপ্তার, অপরাধ স্বীকার প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি, বৈঠক করবেন বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে

যুক্তরাষ্ট্রের বদলে চীনের ‘হাতে’ এফ-৩৫-এর স্পর্শকাতর যন্ত্রাংশ, চলছে তদন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 03:50:32 am, Sunday, 20 September 2026
  • / 6 Time View

অস্ট্রেলিয়া থেকে সংস্কারের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর পথে স্টিলথ প্রযুক্তির এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের অত্যন্ত স্পর্শকাতর কিছু যন্ত্রাংশের চালান রহস্যজনকভাবে গায়েব হয়ে গেছে। চালানের গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র হলেও তা সেখানে না পৌঁছে সরাসরি চলে গেছে চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হংকংয়ে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ গোপনীয় এই প্রযুক্তির অংশ চীনা প্রতিরক্ষা বাহিনীর হাতে পড়ে থাকতে পারে—এমন আশঙ্কায় পেন্টাগন ও মার্কিন কংগ্রেসে জোর তোলপাড় শুরু হয়েছে। 

গত শুক্রবার এক প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য ফাঁস করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো।

হারানো যন্ত্রাংশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো এফ-৩৫ বিমানের ‘ক্যানোপি’ বা ককপিটের ওপরের বিশেষ স্বচ্ছ গম্বুজসদৃশ আবরণ। এটি সাধারণ কোনো কভার নয়, বিমানের স্টিলথ সিস্টেম বা রাডারকে ফাঁকি দেওয়ার প্রযুক্তির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।

এই ক্যানোপির ওপর রাডার তরঙ্গ শোষণকারী বিশেষ এক ধরনের স্বচ্ছ রাসায়নিক পদার্থের সূক্ষ্ম প্রলেপ থাকে, যা শত্রুপক্ষের রাডারে বিমানকে প্রায় অদৃশ্য করে রাখে। অবশ্য সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই প্রলেপটি ক্ষয়প্রাপ্ত হলে বা উঠে গেলে এটি পরিবর্তনের প্রয়োজন পড়ে। 

জানা গেছে, যন্ত্রাংশগুলো মূল প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিনের একজন মধ্যস্থতাকারী সরবরাহকারীর মাধ্যমে প্রশান্ত মহাসাগর পাড়ি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর কথা ছিল। কিন্তু মাঝপথেই রুটে পরিবর্তন ঘটিয়ে চালানটিকে হংকংয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যন্ত্রাংশগুলো বর্তমানে কোথায় বা কার হেফাজতে রয়েছে সে বিষয়ে শতভাগ নিশ্চিত হওয়া না গেলেও এগুলো চীনের কাছে হস্তান্তরিত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা কাজ করছে। 

বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে আসার পর গত জুন মাসেই মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (পেন্টাগন) এবং কংগ্রেসের যৌথ সমন্বয়ে একটি হাই-প্রোফাইল তদন্ত শুরু হয়, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, তারা নিখোঁজ স্পর্শকাতর যন্ত্রাংশগুলো উদ্ধারের জন্য মিত্রদেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে জোর চেষ্টা চালাচ্ছে। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থার এমন মারাত্মক গলদ কিভাবে তৈরি হলো, তা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি ভবিষ্যতে যেন এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে লক্ষ্যে কাজ চলছে।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলোর জন্য এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৩০০টির মতো এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান প্রস্তুত করা হয়েছে।

বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা এ বিশাল বহরের খুচরা যন্ত্রাংশ রক্ষণাবেক্ষণে একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থার ওপর নির্ভর করতে গিয়ে প্রায়শই জটিলতায় পড়তে হচ্ছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগকে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

যুক্তরাষ্ট্রের বদলে চীনের ‘হাতে’ এফ-৩৫-এর স্পর্শকাতর যন্ত্রাংশ, চলছে তদন্ত

Update Time : 03:50:32 am, Sunday, 20 September 2026

অস্ট্রেলিয়া থেকে সংস্কারের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর পথে স্টিলথ প্রযুক্তির এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের অত্যন্ত স্পর্শকাতর কিছু যন্ত্রাংশের চালান রহস্যজনকভাবে গায়েব হয়ে গেছে। চালানের গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র হলেও তা সেখানে না পৌঁছে সরাসরি চলে গেছে চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হংকংয়ে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ গোপনীয় এই প্রযুক্তির অংশ চীনা প্রতিরক্ষা বাহিনীর হাতে পড়ে থাকতে পারে—এমন আশঙ্কায় পেন্টাগন ও মার্কিন কংগ্রেসে জোর তোলপাড় শুরু হয়েছে। 

গত শুক্রবার এক প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য ফাঁস করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো।

হারানো যন্ত্রাংশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো এফ-৩৫ বিমানের ‘ক্যানোপি’ বা ককপিটের ওপরের বিশেষ স্বচ্ছ গম্বুজসদৃশ আবরণ। এটি সাধারণ কোনো কভার নয়, বিমানের স্টিলথ সিস্টেম বা রাডারকে ফাঁকি দেওয়ার প্রযুক্তির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।

এই ক্যানোপির ওপর রাডার তরঙ্গ শোষণকারী বিশেষ এক ধরনের স্বচ্ছ রাসায়নিক পদার্থের সূক্ষ্ম প্রলেপ থাকে, যা শত্রুপক্ষের রাডারে বিমানকে প্রায় অদৃশ্য করে রাখে। অবশ্য সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই প্রলেপটি ক্ষয়প্রাপ্ত হলে বা উঠে গেলে এটি পরিবর্তনের প্রয়োজন পড়ে। 

জানা গেছে, যন্ত্রাংশগুলো মূল প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিনের একজন মধ্যস্থতাকারী সরবরাহকারীর মাধ্যমে প্রশান্ত মহাসাগর পাড়ি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর কথা ছিল। কিন্তু মাঝপথেই রুটে পরিবর্তন ঘটিয়ে চালানটিকে হংকংয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যন্ত্রাংশগুলো বর্তমানে কোথায় বা কার হেফাজতে রয়েছে সে বিষয়ে শতভাগ নিশ্চিত হওয়া না গেলেও এগুলো চীনের কাছে হস্তান্তরিত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা কাজ করছে। 

বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে আসার পর গত জুন মাসেই মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (পেন্টাগন) এবং কংগ্রেসের যৌথ সমন্বয়ে একটি হাই-প্রোফাইল তদন্ত শুরু হয়, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, তারা নিখোঁজ স্পর্শকাতর যন্ত্রাংশগুলো উদ্ধারের জন্য মিত্রদেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে জোর চেষ্টা চালাচ্ছে। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থার এমন মারাত্মক গলদ কিভাবে তৈরি হলো, তা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি ভবিষ্যতে যেন এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে লক্ষ্যে কাজ চলছে।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলোর জন্য এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৩০০টির মতো এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান প্রস্তুত করা হয়েছে।

বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা এ বিশাল বহরের খুচরা যন্ত্রাংশ রক্ষণাবেক্ষণে একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থার ওপর নির্ভর করতে গিয়ে প্রায়শই জটিলতায় পড়তে হচ্ছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগকে।