বেতন তোলেন লালপুরে, অফিস করেন জয়পুরহাটে
- Update Time : 02:49:02 pm, Wednesday, 16 September 2026
- / 4 Time View
নাটোরের লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট হিসেবে পদায়ন রয়েছে তিনজনের। তবে তাদের একজন আতিকুর রহমান।
তিনি লালপুরে পদায়ন হলেও প্রেষণে অফিস করেন জয়পুরহাট ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজিতে (আইএইচটি)। তবে বেতন ভাতা পান লালপুর থেকেই। ফলে কাগজে-কলমে তিনজন থাকলেও লালপুরে কর্মরত আছেন দুজন। এতে হাসপাতালের ল্যাবের সেবা ব্যাহত হচ্ছে।
দুপুর ১২টার পর নমুনা সংগ্রহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগীরা।
হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সূত্রে জানা যায়, আতিকুর রহমানের বাড়ি নওগাঁ জেলায়। বিগত সময়ে তিনি বাড়ি থেকেই অফিস করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের কঠোর তদারকির কারণে তিনি বাড়ি থেকে নিয়মিত যাতায়াত করতে পারছিলেন না।
এতে প্রভাবশালী ব্যক্তির সুপারিশে তিনি নিয়মিত বদলি না নিয়ে বাড়ির কাছে প্রেষণে গেছেন।
নিয়মিত বদলি না নিয়ে পেষণে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, বদলি নিয়ে গেলে দায়িত্ব বেশি, পেষণে ঝামেলা কম। তবে এ বিষয়ে আতিকুর রহমান গোপনীয় ইস্যু দেখিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে প্রতিদিন বহির্বিভাগ ও অন্তর্বিভাগ মিলিয়ে গড়ে ৬০০ থেকে ৭০০ রোগী চিকিৎসা নেন। তাদের একটি বড় অংশকে রোগ নির্ণয়ের জন্য বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে দেওয়া হয়।
সরকারি হাসপাতালের ল্যাবই স্বল্প আয়ের মানুষের এসব পরীক্ষার প্রধান ভরসা। কিন্তু জনবলসংকটের কারণে দুপুরের পর সেখানে নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব হয় না।
হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, আতিকুর পেষণে জয়পুরহাট থাকলেও লালপুরের পদায়নকৃত পদ শূন্য হবে না। এতে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে নতুন কাউকে পদায়ন সম্ভব নয়। আতিকুর রহমানকে লালপুর থেকে নিয়মিত বদলি করা হলে তার পদটি শূন্য হবে। তখন ওই পদে নতুন টেকনোলজিস্ট পদায়ন করা সম্ভব হবে। এতে ল্যাবের সেবা বাড়ানোর পাশাপাশি রোগীদের ভোগান্তিও কমবে।
হাসপাতালের ল্যাবসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, দুজন টেকনোলজিস্ট দিয়ে প্রতিদিনের বিপুলসংখ্যক রোগীর পরীক্ষা-নিরীক্ষা সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। সকালে রোগীর চাপ বেশি থাকায় দুপুর ১২টার পর নতুন করে নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব হয় না। এতে অনেক রোগীকে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগী বলেন, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পর পরীক্ষার জন্য ল্যাবে গেলে অনেক সময় নমুনা দেওয়ার সুযোগ পাওয়া যায় না। আবার সকালে নমুনা দেওয়া গেলেও রিপোর্ট পেতে দুপুর হয়ে যায়। ফলে একই দিনে চিকিৎসককে রিপোর্ট দেখানো সম্ভব হয় না। এতে সময় ও অর্থ দুটিই বেশি খরচ হচ্ছে।
এ বিষয়ে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুনজুর রহমান বলেন, ‘ল্যাবে টেকনোলজিস্টদের রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। একজন প্রেষণে থাকায় স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে কাউকে নতুন করে পদায়নও করা যাচ্ছে না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।’



