Dhaka 6:22 pm, Wednesday, 9 September 2026
সর্বশেষ
২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুতের ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে : প্রধানমন্ত্রী ওজন মেশিনে কারচুপি, ইলিশ বিক্রেতাকে লাখ টাকা জরিমানা ঢাবি আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য ২৭ লাখ টাকার ট্রাস্ট ফান্ড গঠন বিদ্যুতের অবৈধ সংযোগে ঘুরছে অটোরিকশার চাকা ২০ মিনিট বন্ধ থাকার পর ফের মেট্রো রেল চলাচল শুরু নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে নোংরা ভাষায় জবাব দেওয়া ঠিক হয়নি : রাশেদ খান আনসার সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ২ সিংড়ায় অবৈধভাবে সার মজুদ, ৪ ব্যবসায়ীকে কারাদণ্ড আজ নতুন আইফোন আনছে অ্যাপল, বিনা খরচে অনলাইনে দেখা যাবে অনুষ্ঠান এসএসসির খাতা পুনর্মূল্যায়নের ফল প্রকাশের তারিখ ঘোষণা

কুশিয়ারা থেকে অবৈধভাবে বালু তোলা চলছেই

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 10:19:38 am, Wednesday, 9 September 2026
  • / 5 Time View

অনুমতির বিপরীতে তোলা হচ্ছে কয়েক গুণ ,প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করার অভিযোগ
কুশিয়ারা নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। সোমবার হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার কসবা এলাকায়। ছবি : কালের কণ্ঠ
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় কুশিয়ারা নদীর চর থেকে অবৈধভাবে বালু তোলা থামছেই না। প্রশাসনের কাছ থেকে  ৩০ লাখ ঘনফুট বালু তোলার অনুমতি নিয়ে অন্তত তিন কোটি ঘনফুট বালু তোলা হয়েছে এবং এখনো বালু তোলা অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে ‘মা এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

এ ব্যাপারে প্রতিকার চেয়ে সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির একজন অংশীদার দাবিদার কাজী নজরুল ইসলাম বাবুল। প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করে অতিরিক্তি বালু তোলা হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে অভিযোগপত্রে। 

অভিযোগ অনুযায়ী, সাউথ এশিয়ান সাব-রিজিওনাল ইকোনমিক কো-অপারেশন (এসএএসইসি)-এর আওতায় ঢাকা-সিলেট ছয়লেন সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলছে। প্রকল্পটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘চায়না রেলওয়ে ফার্স্ট গ্রুপ কম্পানি লিমিটেড’-কে মাটি বা বালু সরবরাহের চুক্তি দেখায় মা এন্টারপ্রাইজ।

এর ভিত্তিতে ভূমি মন্ত্রণালয় ও সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন থেকে  অলইতলী এলাকার কুশিয়ারা নদী থেকে ৩০ লাখ ঘনফুট বালু মেশানো মাটি তোলার অনুমতি নেয় প্রতিষ্ঠানটি। গত ৪ জুন ড্রেজার ও বাল্কহেড দিয়ে বালু তোলা শুরু করা হয়।  

অভিযোগের বিবরণ অনুযায়ী, মা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মতিউর রহমান ও তার সহযোগী লুৎফর রহমান প্রতিষ্ঠানটির অংশীদারদের সঙ্গে প্রতারণা করে ছললেন প্রকল্পের সরকারি কাজে বালু সরবরাহ না করে তা বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে। এ জন্য সরকার কাছ থেকে  ৩০ লাখ ঘনফুট বালু তোলার অনুমতি  নিলেও সিলেট, সুনামগঞ্জ,  হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের কুশিয়ারা নদীর অন্তত ১৫টি স্পট থেকে তিন কোটি  ঘনফুট  বালু  তোলা হয়েছে।

এ ব্যাপারে মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে এর আগে আদালতে মামলাও হয়। এর পরও প্রশাসনের নজর এড়িয়ে প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ৯০ হাজার থেকে এক লাখ ঘনফুট বালু তোলা হচ্ছে। সরকারের নির্ধারিত ৩০ লাখ ঘনফুটের জায়গায় শুধু দুই মাসেই তোলা হয়েছে প্রায় ৫০ লাখ ঘনফুটের বেশি বালু। 

এতে আরো বলা হয়, বালু তোলার পর তা নির্ধারিত মাঠে স্তূপ না করে বড় বড় বাল্কহেড (১০ হাজার থেকে ১৭ হাজার ঘনফুট ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন) দিয়ে সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের অন্তত ১৫টি স্থানে পাঠানো হচ্ছে। ​

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অভিযুক্ত মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে প্রতারণাসহ বিগত তিন বছরে বিভিন্ন বালু মহাল আইনে জেলায় অন্তত সাতটি মামলা রয়েছে।

আইন ও নীতিমালার তোয়াক্কা না করে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের নাম ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ বালু তুলে তা বিক্রি করে পরিবেশ ও সরকারি রাজস্বের ক্ষতি করা হচ্ছে।  

অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সরেজমিন বিভিন্ন স্পটে গিয়ে জানা গেছে, বালু তোলার পর তা নবীগঞ্জ উপজেলার কসবা পারকুলের ছয়টি মাঠ, ওসমানীনগর উপজেলার তিনটি, জগন্নাথপুর উপেলার তিনটি, মৌলভীবাজারের তিনটি মাঠসহ অন্তত ১৫টি মাঠে এ পর্যন্ত ৩০ লাখ ঘনফুটের কয়েক গুণ বেশি বালু বিক্রি করা হয়েছে। 

অভিযোগকারী কাজী নজরুল ইসলাম বাবুলের ভাষ্য, ‘সরকারি রাজস্ব রক্ষা এবং এলাকার পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ বালু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।’  

এ ব্যপারে অভিযুক্ত মতিউর রহমানের সঙ্গে কথা বলতে তার দুইটি মোবাইল ফোন নম্বরে একাধিক কল দেওয়া হলেও তিনি তা ধরেননি। তবে মতিউর রহমানের সহযোগী লুৎফর রহমান বলেন, ‘আমি নবীগঞ্জের কসবা মাঠে মতিউর রহমানকে টাকা দিয়ে বালু উত্তোলন তুলি।’

নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা জেরিন বলেন, অবৈধভাবে বালু তোলার কোনো সুযোগ নেই। খোঁজ নিয়ে দেখছি। অবৈধভাবে বালু তোলা হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

কুশিয়ারা থেকে অবৈধভাবে বালু তোলা চলছেই

Update Time : 10:19:38 am, Wednesday, 9 September 2026

অনুমতির বিপরীতে তোলা হচ্ছে কয়েক গুণ ,প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করার অভিযোগ
কুশিয়ারা নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। সোমবার হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার কসবা এলাকায়। ছবি : কালের কণ্ঠ
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় কুশিয়ারা নদীর চর থেকে অবৈধভাবে বালু তোলা থামছেই না। প্রশাসনের কাছ থেকে  ৩০ লাখ ঘনফুট বালু তোলার অনুমতি নিয়ে অন্তত তিন কোটি ঘনফুট বালু তোলা হয়েছে এবং এখনো বালু তোলা অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে ‘মা এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

এ ব্যাপারে প্রতিকার চেয়ে সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির একজন অংশীদার দাবিদার কাজী নজরুল ইসলাম বাবুল। প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করে অতিরিক্তি বালু তোলা হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে অভিযোগপত্রে। 

অভিযোগ অনুযায়ী, সাউথ এশিয়ান সাব-রিজিওনাল ইকোনমিক কো-অপারেশন (এসএএসইসি)-এর আওতায় ঢাকা-সিলেট ছয়লেন সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলছে। প্রকল্পটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘চায়না রেলওয়ে ফার্স্ট গ্রুপ কম্পানি লিমিটেড’-কে মাটি বা বালু সরবরাহের চুক্তি দেখায় মা এন্টারপ্রাইজ।

এর ভিত্তিতে ভূমি মন্ত্রণালয় ও সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন থেকে  অলইতলী এলাকার কুশিয়ারা নদী থেকে ৩০ লাখ ঘনফুট বালু মেশানো মাটি তোলার অনুমতি নেয় প্রতিষ্ঠানটি। গত ৪ জুন ড্রেজার ও বাল্কহেড দিয়ে বালু তোলা শুরু করা হয়।  

অভিযোগের বিবরণ অনুযায়ী, মা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মতিউর রহমান ও তার সহযোগী লুৎফর রহমান প্রতিষ্ঠানটির অংশীদারদের সঙ্গে প্রতারণা করে ছললেন প্রকল্পের সরকারি কাজে বালু সরবরাহ না করে তা বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে। এ জন্য সরকার কাছ থেকে  ৩০ লাখ ঘনফুট বালু তোলার অনুমতি  নিলেও সিলেট, সুনামগঞ্জ,  হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের কুশিয়ারা নদীর অন্তত ১৫টি স্পট থেকে তিন কোটি  ঘনফুট  বালু  তোলা হয়েছে।

এ ব্যাপারে মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে এর আগে আদালতে মামলাও হয়। এর পরও প্রশাসনের নজর এড়িয়ে প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ৯০ হাজার থেকে এক লাখ ঘনফুট বালু তোলা হচ্ছে। সরকারের নির্ধারিত ৩০ লাখ ঘনফুটের জায়গায় শুধু দুই মাসেই তোলা হয়েছে প্রায় ৫০ লাখ ঘনফুটের বেশি বালু। 

এতে আরো বলা হয়, বালু তোলার পর তা নির্ধারিত মাঠে স্তূপ না করে বড় বড় বাল্কহেড (১০ হাজার থেকে ১৭ হাজার ঘনফুট ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন) দিয়ে সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের অন্তত ১৫টি স্থানে পাঠানো হচ্ছে। ​

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অভিযুক্ত মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে প্রতারণাসহ বিগত তিন বছরে বিভিন্ন বালু মহাল আইনে জেলায় অন্তত সাতটি মামলা রয়েছে।

আইন ও নীতিমালার তোয়াক্কা না করে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের নাম ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ বালু তুলে তা বিক্রি করে পরিবেশ ও সরকারি রাজস্বের ক্ষতি করা হচ্ছে।  

অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সরেজমিন বিভিন্ন স্পটে গিয়ে জানা গেছে, বালু তোলার পর তা নবীগঞ্জ উপজেলার কসবা পারকুলের ছয়টি মাঠ, ওসমানীনগর উপজেলার তিনটি, জগন্নাথপুর উপেলার তিনটি, মৌলভীবাজারের তিনটি মাঠসহ অন্তত ১৫টি মাঠে এ পর্যন্ত ৩০ লাখ ঘনফুটের কয়েক গুণ বেশি বালু বিক্রি করা হয়েছে। 

অভিযোগকারী কাজী নজরুল ইসলাম বাবুলের ভাষ্য, ‘সরকারি রাজস্ব রক্ষা এবং এলাকার পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ বালু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।’  

এ ব্যপারে অভিযুক্ত মতিউর রহমানের সঙ্গে কথা বলতে তার দুইটি মোবাইল ফোন নম্বরে একাধিক কল দেওয়া হলেও তিনি তা ধরেননি। তবে মতিউর রহমানের সহযোগী লুৎফর রহমান বলেন, ‘আমি নবীগঞ্জের কসবা মাঠে মতিউর রহমানকে টাকা দিয়ে বালু উত্তোলন তুলি।’

নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা জেরিন বলেন, অবৈধভাবে বালু তোলার কোনো সুযোগ নেই। খোঁজ নিয়ে দেখছি। অবৈধভাবে বালু তোলা হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।